1. isbn 979-8-88572-118-9
Page 1
Content: উনার নাম নিত্যানন্দ
Content: পৃথিবীতে প্ৰক্ষুটিত অমৃত আন্দোলর—
Page 2
Content: উনার নাম নিত্যানন্দ
Content: জন্মদীর্ঘহে প্রস্ফুটিত অমৃত সুখের—
Content: প্রকাশক : নিত্যানন্দ বৈদিক চায়েঞ্জে ইউনিভার্সিটি প্রেস
Content: Nithyananda Vedic Science University Press
Content: ‘নিত্যানন্দ বৈদিক চায়েঞ্জে ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা’র এক বিভাগ
Content: Ebook ISBN : 979-8-88572-118-9
Page 3
Content: মানুষ বাহিক জগতে যাহাই খোঁজকনা কেন, তাহাদের চড়াইস সন্ধান হলো আন্তঃ অমূর্ত আনন্দ । জীবনলীলায় মানুষ এই সন্ধানের ফল ভোগ করতে চায় । যখন মানুষ এই সন্ধানকে বুঝে উঠে, তখন নিজের উপলব্ধির দিকে অগ্রসর হতে চেষ্টা করে । প্রাচ্য এই ধরণের হাজার হাজার লোকের জন্ম দিয়েছে, যাহারা বিশ্বমানবকে এই একই পথে আগাইয়া নিয়াছে।
Content: "নিত্যানন্দ"— আধুনিক জগতে দ্বীকৃত জ্ঞানপ্রাপ্ত মনীষী। পারমার্থিক পরম্পরার মধ্যে জন্ম গ্রহণ করা সত্যাগ্রহী নিত্যানন্দ তিন বৎসর থেকেই যোগ, মন-দেহ আত্মার সমাকলন, ধ্যান, তত্ত্ব, বেদান্ত এবং অন্যান্য প্রাচ্য অধিবিদ্যাতে মনোনিবেশ করেন । জ্ঞান প্রাপ্তির পূর্বে তিনি হাজার হাজার আন্তঃ বিজ্ঞান প্রকিয়ার বিষয়ে গবেষণা করিয়াছেন।
Content: একান্ত মনে জ্ঞান প্রাপ্তির লক্ষ্যে সাফল্য পেয়ে তিনি আজ বিশ্বের চতুর্দিকে আধ্যাত্মিক লোকের জন্য হয়ে পরেন পূজা এবং দিব্যজ্ঞানী ব্যক্তি । ধ্যান অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রত্যক্ষ ব্যক্তিকে (জীবন সত্ত্বার) তাত্বিক সমাধান এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রদান করে আত্মাবিশ্বাস বাড়ান।
Content: বর্তমান যুব সমাজ নিজেকে অজ্ঞেষণ এবং উপলব্ধি করার প্রচুর সত্তাবনা দিয়াছেন নিত্যানন্দ।
Content: নিত্যানন্দদেব এক মিশনের গড় দিয়াছেন, যাহার সাহায্যে প্রত্যেক লোকে নিজেকে উচ্চ থেকে উচ্চতর সত্তার সামিধ্য দিতে পারে । উনার মিশন হলো পৃথিবীতে আন্তঃ
Content: অময়ানন্দ বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা করা । তিনি মানুষ, কিভাবে নিজের ক্ষমতাকে সদুপযোগ করে, তাহার জ্ঞান উপলব্ধি করা যায়, তাহার শিক্ষা দিতে সাহায্য করেন । তিনি বলেন, "আমরা এমন জানোদীপ্ত সমাজের সৃষ্টি করতে হবে যাহা সত্যের প্রতি শক্তিশালী মূলভূত বিশ্বাস থাকে ।" বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মবিদ্যার সংযোগ ঘটাতে তিনি বিশ্বের বিজ্ঞনীদের সাথে বিচার নির্মর্শ করিতেছেন।
Content: এই পুস্তকাতে নিত্যানন্দ দেবের দিব্যজ্ঞান প্রাপ্তির দিকে পথ পরিক্রমার নিরদর্শন আছে । উনার শদাবলীত পাঠকে উনার সত্যের বিষয়ে মহান অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারবে । মহান, মহান পুরুষের পরিচয়ে জীবনে আমরা ও জীবন ভাড়তে পারি । একজন মহাপুরুষের জীবনী অধ্যয়ে পাঠকের মনে উন্নত জীবন, এবং আধ্যাত্মিক জীবনের বাসনা জন্মায় । এই পৃথিবীর একজন মহান মনীষীর উদ্দীপনাময় জীবন কাহিনী স্বাদ নাও দেখি।
Content: এই পুস্তকে পুরাশ্রমের উল্লেখ করার সময় তিনি কেবল 'নিত্যানন্দ এবং 'তিনি' বলে সম্বোধন করা হবে।
Content: (নিত্যানদের পূর্ন জীবনীর জন্য Nithyananda vol. 1) গ্রন্থটি পড়তে পারো । তাহাতে তিনির ১৭ বৎসর বয়াস পর্যন্ত জীবন গাথা বর্ণিত আছে। পরবর্তী খগুখণ্ডি প্রকাশের পথে।)
Page 4
Content: আবির্ভাব
Content: অরুণাচলের স্বর্গীয় আকর্ষণীয় আভা এবং অরুণাচলেশ্বরের দিব্যশক্তি প্রবেশে অরুণাচলম এবং লোকনায়কীর দ্বিতীয় সত্তান রূপে নিত্যানন্দের জন্ম হয়।
Content: “পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করার পূর্বে প্রতি আত্মাই জেনে বুকে সময়, স্থান, পিতৃকুল এবং মাতৃকুল নির্ধারণ করে নেয়।”
Content: —নিত্যানন্দদেব।
Content: পবিত্র অরুণাচলগিরি সময় সময় জগতকে এমন অনেক দিব্য পুরুষ দান দিয়েছে- যারা লাখ লাখ লোককে জ্ঞান দান করেছে এবং মুক্তির সন্ধান দিয়েছে। শিবাদ্রি স্বামীগাল, ভগবান শ্রীরামন মহর্ষি, যোগী রাম সুরত কুমার সদৃশ মনীষীসকল এই অরুণাচলের অবদান।
Content: শিশু অবস্থায় নিত্যানন্দদেব
Content: নিত্যানন্দের মাতৃ দক্ষিণ ভারতে তিরুপতি তীর্থ দর্শনকালে গম পেলেন যে উনি দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। আধ্যাত্মিক কেন্দ্রস্বরূপ তিরুপতিনামালাই (দক্ষিণভারত) নামক পবিত্র স্থানে ১৯৭৪ সালের ১ লা জানুয়ারীতে নিত্যানন্দের জন্ম হলো। জন্মপত্রিকা মতে নাম রাখা হলো রাজশেখরণ।
Content: আজ
Content: অরুণাচল
Content: পবিত্রগিরি
Content: শিবের পুনরাভিব্যক্তিস্থলী
Content: এখন সমগ্র পৃথিবীর
Content: জ্ঞানাক্ষীর
Content: আধ্যাত্মিক আকর্ষণস্থলী।
Page 5
Content: গোত্র পুরোহিত
Content: "আমার দেববৃন্দ প্রকাশ আমার মিশ্যন নয়, আমার মিশ্যন হোলো তোমার দেববৃন্দ প্রমাণ করা।"
Content: — নিত্যানন্দদেব
Content: আজ
Content: তোমার ভবিষ্যৎ জানতে আমার কাছে এসো না। তাকে নির্মাণ করতে হলে আমার কাছে চলে এসো। গ্রহদোষ থেকে বাঁচার উপায় আমি দেব না বরং শিক্ষা দিতাম কেমন করে গ্রহের প্রভাব অতিক্রম করতে পারি।
Content: — নিত্যানন্দদেব
Content: নিত্যানন্দের জন্মপ্রত্রিকা করতে গিয়ে গোত্র পুরোহিত অবাক হলেন। কারণ নবজাতকের নক্ষত্র এবং গ্রহাদির অবস্থান ছিল অতীতপূর্ব । পুরোহিত পিতৃ-মাতৃকে ভবিষ্যৎবাণী বলেন: “এই নবজাতক রাজসন্যাসী হবে।” এইরকম ভবিষ্যৎবাণী করে পুরোহিত ধন্য মানালেন এবং জ্যোতিষ গণনা ছেড়ে দিলেন।
Content: যোগ এবং প্রার্থনা
Content: শিক্ষক এবং বাল্যকব রঘুপতি যোগী
Content: শিশু নিত্যানন্দের আধ্যাত্মিক জীবনের আরম্ভণি দেখেছিলেন শিশুর পিতৃ-মাতৃ।
Content: তিন বৎসর বয়সে নিত্যানন্দ, যোগী রঘুপতির সম্পরকে আসে। যোগীরাজ রঘুপতি মহারাজ ছিলেন এক ধনুগুণের মত কঠিন এবং সুদৃঢ়বপু অধিকারী। উনি ভারত ছাড়াও তিব্বত এবং ম্যানমার (ব্রহ্মদেশ) থেকে কঠোর সাধনালব্দ যোগের অধিকারী। এই যোগী হলো শিশু নিত্যানন্দের গুরু এবং বন্ধু। ভবিষ্যৎকালে যোগীরাজ রঘুপতি শিষ্য নিত্যানন্দের শরীরের এবং মন যোগ শিক্ষার দ্বারা সমৃদ্ধ করে তুললেন।
Content: রঘুপতি যোগী
Page 6
Content: পরাশক্তি (নারী রূপে আদ্যাশক্তি) নিত্যানন্দের মানস চক্ষুতে দর্শন দিলেন পরাশক্তি। সে তৎক্ষণাৎ তার (পরাশক্তি) একটি কাঠ পুত্তলিকা তৈরী করলেন (কাছের ডিত্র)।
Content: মানুষ এবং ভগবানের মিলন হলো যোগ। ভগবানের অন্তিত্বের প্রতি চিৎছা কুতূহলতা হলো প্রার্থনা।
Content: — নিত্যানন্দদেব
Content: আজ
Content: যোগগুরূ রঘুপতি থেকে পাওয়া মহান শিক্ষণ প্রশিক্ষণকে স্মরণ করে নিত্যানন্দদেবকে গুরুর নামে "নিত্যযোগে"র প্রবর্তন করেন। নিত্যযোগ হলো যোগবিজ্ঞান এবং বিদ্যানুভূতি লাভের সোপান। নিত্যযোগের বিস্তারের জন্য দেশ দেশান্তরে শিক্ষিত করে তোলা হয়েছে যুবক-যুবতী থেকে "নিত্য যোগাচার্য"।
Content: নিত্যানন্দকে যোগের নানা কৌশল এবং অসাধারণ বিদ্যা শিখালেন যোগী রঘুপতি। সংগে সংগে শুরু বলেছিলেন যে এইসব আধ্যাত্মিক উদগতির পথে নয়, এবং সত্যের উপলব্ধি হলো এই গুলির উদ্দ্যে।
Content: যোগধ্যানে নিমগ্ন দেশ বৎসরের নিত্যানন্দ (ফাইল ফটো) নিত্যানন্দকে "পতঞ্জলি যোগশাস্ত্র" এর ওপর ভাষ্য দিতে বললেন। তিরুবননমালাইতে প্রায় হাজারেক শ্রোতার সম্মুখে কিশোর যোগী ভাষণ দিল। শ্রোতারা তন্ময়তারে শুনলেন যোগসূত্রের অনুপম ব্যাখ্যা কিশোর নিত্যানন্দ থেকে।
Content: যে মূল্য ভালো হবে তাক দুপাতাতে জানা যায়। যোগী গুরু দশবর্ধীয় শিষ্য
Page 7
Content: মূর্তি এবং পূজা
Content: পূজা 'মূর্তি'র নহে।
Content: পূজা 'মূর্তি'র মাধ্যমে ভগবানের
Content: — নিত্যানন্দদেব
Content: ঘরের পূজা-স্থলীতে এই পাঁচ দেবী দেবতাকে শ্রদ্ধা সহকারে পূজা অর্চনা করে নিত্যানন্দদেব। উনি ভ্রমণকালে এই পঞ্চদেবতামূর্তিকে নিয়ে বেরোয়।
Content: গণেশ শিবলিঙ্গ সরস্বতী লক্ষ্মী সর্বদেব বিগ্রহ
Content: আজ
Content: পূজার সামগ্রী এবং দেবদেবীর মূর্তি
Content: নিত্যানন্দ মিশনের এক বিশিষ্ট অনুষ্ঠান নিত্যানন্দ চেক্রেড আর্টস্ প্রিজার্ভেশন (Nithyananda Sacred Arts Preservation) র মাধ্যমে ভারতীয় মন্দির পরম্পরাকে মানব সমাজের সমুখে রাখা হয়। পাথর, ধাতু, কাঠ এবং মার্বেলের দেবমূর্তি, প্রাঙ্গণ গঠনের মন্দির, কাঠে খোদিত দেবতার বাহন, মন্দিরের অলঙ্কার এবং বস্ত্রাভরণ, পূজায় ব্যবহৃত সামগ্রী — এই সবই নিত্যানন্দ দেবের প্রত্যক্ষ নির্দেশনাই নির্মিত হয়। ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পী-কারীগররা সবস্বাপর্ণ করে এই দৈবকার্যে রত থাকে।
Content: নিত্যানন্দ নিজহাত দিয়ে মূর্তিকামূর্তি নির্মাণ করে ছিলেন এবং তাদের যथাবিহিত পূজা করেছিলেন। নিত্যানন্দ ও তার সহযোগীর উদ্যোগে মন্দির নগরী তিরুবন্নামালাইতে উদযাপিত পূজা উৎসব গ্রামবাসীরা উপভোগ করতেন।
Page 8
Content: গণেশে খায় ...... নিত্যানন্দ গণেশদেবতাকে প্রতিদিন আহার অর্পণ করেন । তিনি গণেশ দেবতাকে দেওয়া অন্নখানি গণেশকে খাওয়াতে দেননা করেন । কখনো কখনো রাগ করে খেতে বলেন । কিশোর নিত্যানন্দ শুনেছিলেন যে-পূর্ব দিনে কোন এক ছেলের দেওয়া প্রসাদ দেবতা সতিই খেয়েছিলেন । সেই জানা তিঁনই বলেন যে গণেশ দেবতাকেও তিনি প্রসাদ খাওয়াবেন । অবশ্যরে অনুন্য, বিনয় অথবা রাগ, অভিমান ছেড়ে গণেশ দেবতা না খাওয়া পর্যন্ত নিজে না খাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । এইভাবে দিনের পর দিন গেল, নিত্যানন্দ সম্পূর্ণ উপবাস, তৃতীয় দিনে দেখা গেলো যে গণেশকে দেওয়া অন্ন পাত্র খালি পরে আছে । কিশোর নিত্যানন্দ আনন্দে বিহোর, তিঁনি সমপর্ণের শক্তি উপলব্ধি করতে পারলেন, এবং উনার বিশ্বাস আরো গভীর হয়ে পড়লো । ১২ বৎসরের নিত্যানন্দ অরুণাচলেশ্বরের মন্দিরের দেবীর বেদীর কাছে বসে থাকতে, হঠাৎ এক দিব্য মূর্ত্তি তিঁনার মানস পটে ভেসে উঠলো । তিঁনি তখন একটি তামার ফলি নিয়ে গজাল দিয়ে দিব্যা মূর্ত্তি সমগ্র পৃথিবীর নানা জায়গায় নিত্যানন্দদেবের নির্মাণ কর । মন্দিরগুলিতে মহান পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হয় । পূজার মূলতত্ত্ব হয়েছে এক বিশ্বের আধ্যাত্মিক উপায়— চিরসত্যের সঙ্গে সমাহিত করা । শ্রীচক্র সুচম হয়- তবে এমন কার্য্য সম্ভব এবং সহজ । এখানে নয়াটি ত্রিভুজ আছে, সেই নয়াটি ত্রিভুজকে বিভিন্ন কোণশলে একটার উপর একটা সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র । অনেক কোশলী কারিকররা এই অসাধ্য চিত্রটি তিঁনি কিভাবে নিখুঁত খোদিত করলেন প্রশ্ন করলে-, নিত্যানন্দ বলেন- “যদি বিষয়বোধ আজ তোমার ফলিতে অংকণ করলেন । সেই অংকনটাই ‘শ্রী চক্র’- যাহাকে বিষ্ব ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিদ্ভ বলে জানা যায় । লছ এজিলিচ আশ্রমের মন্দিরে শ্রী বিধ্যা পূজার ব্যস্ত পূজাচার্য্যা
Page 9
Content: বৈদিক বিশ্বাসে (মূলে) স্ত্রীশক্তিশালী করে। তাই এই বিশ্বাস মানসিক এবং শারীরিক শক্তি থেকে মহান।
Content: —নিত্যানন্দদেব।
Content: মাতৃ কুণ্ডা অম্মল—অনুভূটক বল
Content: ব্রহ্মযোগিনী, বিদ্যাধানম্বা দেবী মাতা কুণ্ডা আম্মাল ছিলেন নিত্যানন্দের শৈশবকালের আধ্যাত্মিক প্রগতির মন্ত্রদাত্রী এবং পালনকত্রী। বাবসর বয়সে যাঁহন নিত্যানন্দের আধ্যাত্মিক বিকাশ হঠতে শুরু তখন মাতৃ অম্মলে সন্ন্যাসমুখী পুত্রের পূর্ণ আধ্যাত্মিক দিকে প্রারম্ভিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ছিলেন। মাতৃ কুণ্ডা অম্মল। (পুত্রের ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে জানতেন।)
Content: কুণ্ডা অম্মল এবং নিত্যানন্দ
Content: ইচাক্কি স্বামীগাল, আধ্যাত্মিক প্রেরণাদাতা
Content: যুব নিত্যানন্দের প্রেরণার মূল ছিল জনৈ ইচাক্কি স্বামীগাল। উনার উপরে অনেক সাধ সন্তের সহিত নিত্যানন্দের সাক্ষাৎ ও ভাব বিনিময় ঘটেছিল। এই সাধু মতে সকলের সদা প্রসন্নচিত্ত, সহজ-সরল এবং সদানন্দ জীবনশেলীর প্রভাবে নিত্যানন্দের মম প্রাণ টেনে নিয়েছিল।
Content: ইচাক্কি স্বামী গাল
Page 10
Content: ইচারি স্বামীগালের দান 'আত্মপুরাণ' (একখানা উপনিষদ) এই গ্রন্থ নিত্যানন্দকে পৃথিগত শিক্ষা গ্রহণের জন্য আগ্রহী করে তোলে।
Content: অলাই ছু্যাডি আত্মপুরাণ আজ
Content: সাঁচি পাতায় লিখিত পুথি 'অলাই ছু্যাডি'তে বৈদিক মন্ত্রাদি লিপিবদ্ধ আছে। এই বিরল গ্রহৃটি, নিত্যানন্দকে অপূণ করেন তার গুরু ইচারি স্বামীগাল।
Content: নিত্যানন্দ আশ্রমে কিশোর ব্রহ্মচারীগণ এবং বালক-বালিকা সম্মিলিত হইয়ে নিয়মিত বেদ পাঠ করে। ফলে তাদের মানসিক উৎকর্ষ সাধন হয়।
Content: যোগী রামসুরত কুমারের সঙ্গে এক ইন্দ্রিয়াতীত বন্ধন
Content: যোগী রামসুরত কুমার উপাধ্যায় শ্রীচরি স্বামীগাল ছিলেন এক জ্ঞানপ্রাপ্ত মনীষী। উনি তিরুবন্নামালাইয়ের ভগবান শ্রীরমণ মহর্ষি সমসাময়িক। তিরুবন্নামালাইতে স্বামীগাল জনসমাজে খ্যাতি ছিলেন।
Content: নিত্যানন্দ ছিলেন উনার নিয়মিত দর্শনার্থী এবং শ্রোতা। তিরুমূর্তি (শ্রীমূর্তি) মন্দিরের পাশের এক বাড়ীর নিকট অপরিসর জায়গায় এক দিক্ষ্ফারীর ন্যায় যোগী রামসুরত বসে থাকতেন। পথচারীরী কেও প্রশ্ন করলে সে কদাচিত শুদ্ধ ভাষায়তের কথা বলতেন। স্কুলের ছাত্র নিত্যানন্দ একদা যোগীকে প্রশ্ন করে জানতে চাইল সেই দিনের পরীক্ষা কেমন হবে। যোগী শ্বেতহাস্য বলেন, “বাপু, তুমি জীবন পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ
Page 11
Content: ইহা। “কিশোর নিত্যানন্দ যোগীর উত্তরের মানেটা বুঝল না। কার থেকে তিনি উত্তর শুনেছিল এক প্রৌঢ়া। তিনি নিত্যানন্দকে বললেন, ‘তুমি এখন হয়তো বুঝবি না। কিন্তু সময়ে তোমার উপলদ্ধি নিশ্চয় হবে।’
Content: তিরুভান্মালাইয়ের এক উৎসবে যোগী রামসুরত কুমার।
Content: অন্নমালাই স্বামীগাল এবং স্বয়ংকৃত আঘাত
Content: “সত্য আবেশের সহসাই সত্য উপলদ্ধির চাবিকাঠি
Content: —নিত্যানন্দদেব।
Content: অন্নমালাই স্বামীগাল ছিলেন ভগবান শ্রীরমণ মহর্ষির প্রত্যক্ষ শিষ্য। প্রায় দশ বৎসর বয়স থেকে নিত্যানন্দ শ্রীরমণের আশ্রমে গিয়েছিলেন। সেখানে সে স্বামীগালের শিষ্যের সংঙ্গে বসে ধর্মীয় ব্যাখ্যান শ্রবণ করেছিলেন। এই ব্যাখ্যানের অন্য এক আকর্ষণ ছিল ব্যাখ্যানের শেষে সবাইকে লুজেন বিতরণ।
Content: একদিন অন্নমালাই স্বামীগালের ব্যাখ্যানের বিষয় ছিল “মায়া”। তিনি বললেন, “দেহটা আমি নয়। দেহ নিত্য নহে, আত্মা নিত্য। কোন দুখ-শোক কষ্ট আত্মাকে স্পর্শ করতে পারে না। আত্মা দুখ কষ্টের ঊর্দ্ধে”
Content: অন্নমালাই স্বামীগাল
Page 12
Content: এই প্রবচন শুনে নিত্যানন্দ বাড়ীতে ফিরে এল এবং একটি চুড়ি দিয়ে নিজের জংঘা কেটে পরীক্ষা করল— দুধ পাওয়া যায় কিনা ? দারুণ বেদনাই কান্দতে লাগল নিত্যানন্দ । ‘মা’ তৎক্ষণাৎ ডাক্তার এনে কতস্থান সিলাই কবে দিলেন। পরের দিন নিত্যানন্দ স্বামীগালের পাশে গিয়ে সমস্ত ঘটনা বলে তার সমাধান জিজ্ঞাসা করল স্বামীগাল বলল, ‘তোমার বিষয় অন্তর্হিত হবে। আমি তোমাকে শিক্ষা দেব। সত্য অযথনের তোমার যি দুর্ধম সাহস, তাতে তোমার দিব্যজ্ঞান লাভ সুলভ হবে ।’
Content: স্বামীগালের আশীর্বচনে নিত্যানন্দের অনুসন্ধিৎসা দ্বিগুণ করে দিল।
Content: “ধ্যান হলো মূল চাবিকাঠি যি তোমার সত্তার দুয়ার খোলে দিতে পারে।”
Content: —নিত্যানন্দদেব
Content: অরুণাচলগিরি ছিল নিত্যানন্দের সব। পাহারের এনে একটি শিলা অথবা সুরঙ্গ নেই যেখানে নিত্যানন্দের স্পর্শ নেই। অবিরাম ধ্যানমগ্ন হইয়ে নিত্যানন্দ সময় ব্যাতীত করেন সেই পাহারের কোলে। অরুণাচলের নৈসর্গিক মোহে মোহিত নিত্যানন্দ- সম্মুখে ভূমে থাকে ঐশ্বরিক কান্তি। ধ্যানস্থ নিত্যানন্দের অনেক ফটো তুলে রেখেছিলেন ঋষিপতি যোগী এবং মাত্র কুড়িজন আম্মল।
Content: আজ
Content: আজকের দিনে নিত্যানন্দ হাজার হাজার লোকের জন্য প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব। মহান গুরুর সম্মুখে আসন খুঁজে হাজার জনের প্রাণ ভর।
Content: এংকর ভাট কবিতায় (অক্রয়বতী কুম্ভোজ)
Content: বর্ধনশীল বিবেকশক্তি
Content: আজ
Content: অনন্যা ধ্যান প্রগামের মাধ্যমে নিত্যানন্দদেব প্রতিজন ব্যক্তির মধ্যে নিহিত ধ্যানীজনকে পরিচর্যা করে এবং প্রতিজনের হৃদয়ে আনন্দের ফুল ফুটিয়ে।
Page 13
Content: অস্তিত্বের তুলিকা
Content: "অব্যক্ত পর্যণ্ত বোঝার হাতের মুঠি খোলা, ততক্ষণ তুমি দেখানে প্রাবমান নদীর অনুভব করবে, যদি হে ধরতে চাও, তাহলে তুমি হারিয়েছ
Content: —নিত্যানন্দদেব।
Content: ১২ বৎসরের বয়সের সময়, একদা নিত্যানন্দ অরুণাচলগিরিতে একটি শিলাখণ্ডে উপবেশন করে ধ্যানস্থ হন। স্বামীগণে শিক্ষা দিয়েছিলেন কী ভাবে মানুষের মনে চিন্তাগুলি এসে যায়। নিত্যানন্দ তারই পরীক্ষা করেছিলেন। কমে ক্রমে নিত্যানন্দ ধ্যানে নিমগ্ন হলো ; যেন হারিয়ে গেল। তাঁর নিজস্ব ভাষায় অনুভব : “আমার চক্ষু বন্ধ, তবু আমি যে ৩৬০ ডিগ্রী দিশে দেখতে পেলাম। আমার ভেতরে নয় বাইরে ওক জীবন্ত শক্তির অনুভব আমার হলো। আমার ভাব হলো আমি জীবন্ত হয়ে আছি শিলাতে, তরুলতায়, ফুলে ফুলে, আমি জীবন্ত আমার চোদিশ চেতন-অচেতন।
Content: আজ
Content: অরুণাচলগিরিত ধ্যানমগ্ন নিত্যানন্দ
Content: যে শিলাখণ্ডে বসে নিত্যানন্দ সেই মহান অনুভূতি পেয়েছিলেন তাকে এখন ‘নিত্যানন্দ অনুভূতির’ প্রতি বৎসর ঝান করে।
Content: সেই ছিল আমার জীবনের পইলা প্রগাঢ় অনুভব। তাই আমার মনে জেগে উঠল সবারে প্রতি গভীর ভাল পাওয়ার এবং আত্মীয়তার অনুভব। জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গেল। প্রতি জীব, যে যেখানে আছি, আমাত স্থিত অনুভব হলো। সেই ই আমাকে প্রথম উপলদ্ধি- যার ফলে আমি দিব্যজ্ঞান লাভ করা সহজ হলো। এই একমাত্র অনুভবের ফলে সংসারের সকল প্রকার অসুয়া- ধর্মগত, জাতিগত, ভাষাগত নিমিত্ত সকরে শেষ হল।"
Content: নিত্যানন্দের এই প্রথম আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়েছিল বৌদ্ধ পূর্ণিমার সন্ধ্যা বেলায়। (তমিল পঞ্জিকার বৈকাঠি মাস (মে-জুন ইংরেজী)
Page 14
Content: নিত্যানন্দ সদৈব অরুণাচল পাহাড়টাকে পরিত্রমণ করেছিলেন। ব্রহ্মমুহূর্তে সে পাদব্রজে ৩-৪ ঘন্টা সময় পরিত্রমণ করে এবং সঙ্গেসঙ্গে আপানমনে গীত গাহিয়া যায়। মাত্র কোলায় ক্রীড়ারত একটি অনুজ শিশুর মত নিত্যানন্দ অরুণাচলগিরির কোলে খেলে, দোলে, আনন্দ করে। একদিন সে মধ্যারাত্রিতে বেরোতে চলে গেল। সেকালে তো আর বাটপথ ছিল না, পথবিন্যাস্তো দূরের কথা। সে গীত গেয়ে গেয়ে এক গভীর অরণ্যের পানে একটু টট্নী কাশাকাশি হল। ততক্ষণি এক হায়নার দল নিত্যানন্দের দিকে দৌড়ে আসতে লাগল। হঠাৎ হিংস্র হায়েনাগুলিকে দেখে নিত্যানন্দ এক বিকট চিৎকার করে উঠল। ভয়ের ফলে কারা এই চিৎকার এসেছিল তার “হর” থেকে— স্বাধিষ্ঠান চক্র (Spleen energy Centre) থেকে। এই চিৎকার তার জীবনে এই প্রথম। এই চিৎকার ছিল অরুণাচলের কাছে অনন্ত বিশ্বাস
Content: দিয়ে আত্ম সমর্পণ ছিল। কেননা এইপ্রাণসৃষ্টি বিপদে রক্ষাকর্তা কেবল অরুণাচল। তৎমুহূর্তে একজন বৃদ্ধ সন্ন্যাসী, হাতে এক দণ্ড সহিত, নিত্যানন্দের সম্মুখে দেখা গেল। সন্ন্যাসী দণ্ড দিয়ে হায়েনা গুলিকে তাড়িয়ে দিল। বিপদমুক্ত হয়ে নিত্যানন্দ মাথা তুলে দেখে যে হায়নাও নেই, নাই সন্ন্যাসীও। নিত্যানন্দ কিচ্ছু বুঝতে পারল না কোন ছিল, কোথা থেকে এসেছিল অথবা এখন কোথায় গেল সেই সন্ন্যাসী। তাই আর্নানদের পর নিত্যানন্দ নিজের দেহকে রব পাঠিয়ে অনুভব করল। ব্রাত্যেসে ভাষার মত নিত্যানন্দ অতিতীব্র খোজে পরিত্রমণ শেষ করার জন্য অগ্রসর হল। (Primal Therapy একটি আধুনিক চিকিৎসা বিধান যেখানে বিকট চিৎকারের সাহায্যে শরীরে মনে চেপে থাকা স্বাভাবিক ভাবগুলিকে নাশ করা যায়।)
Page 15
Content: পাঠশালা গমন— এক নৈমিত্তিক কার্য
Content: "মনোযোগ দিয়া ভি কোন কাজ করলেই ধ্যান হয়। তখন জীবনটাই হয় ধ্যানময়।"
Content: —নিত্যানন্দদেব।
Content: পাঠশালা গমন— নিত্যানন্দের জন্য ছিল এক ‘নৈমিত্তিক কার্য । রসায়ন এবং পদার্থবিদ্যা ছিল মুখ্য বিষয় ; কিন্তু টোকাবইতে লেখা ছিল ‘মন্ত্র’ এবং পূজারবিধি। কয়েকটি চিত্রে তাঁর মন্ত্র ভায়েরীর একটি পৃষ্ঠা দেওয়া হয়েছে। এখন নিত্যানন্দদেবের শিষ্যরা ইহারই পূজা করে। সেই কম বয়সে নিত্যানন্দের এই ঐশ্বরিক মনোভূতি আশ্চর্যের বিষয়।
Content: সহপাঠীরা নিত্যানন্দকে বলে, "এই পূজা পাতল ধ্যান দিয়া জীবনে তুই করবি কী?" নিত্যানন্দ একটু হেঁসে মাত্র উত্তর দেয়, "হবে, সময়ে তোমাকে দেখাব।"
Content: টোকা বহী এবং মন্ত্র ডায়েরী
Content: আজ
Content: আমার ছেলেবেলা আমি একটু ঠাঁই খোঁজতাম যেখানে আময়া আনন্দের সন্ধে পাওয়া যায়। আমি এভাবে নয় বৎসর বয়স করলাম। কিন্তু পেলাম না। যা পেয়েছিলাম সে ছিল খণ্ডিত, ভগ্ন। এখন, জ্ঞানলাভের পরে আমি প্রথম যুব সমাজকে এই সন্ধে দিতে চেয়েছি।
Content: গুরুকুল এবং Life Bliss Technology প্রোগ্রাম তাঁর ফসল। এখন যুববর্গ অসীম মাত্রায় অভিযান এবং আবিষ্কার করতে শিখছে পায়। কাম না করেই কিদরে কাম করা যায়, গভীর বিবেক শক্তির দ্বারা জীবনে অময়া আনন্দ পাওয়া যায়— তারও শিক্ষা পায়।
Content: —নিত্যানন্দদেব
Page 16
Content: কিছুদিন পূর্বে নিত্যানন্দদেব তামিলনাড়ুতে ব্যাখ্যান ও ধ্যান প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, এবং নিজা নগরী তিরুবন্নমালাইয়ে তত্ত্বপ কার্যক্রম করেছিলেন। সভার শেষে দেবের দর্শনার্থীদের মাঝ থেকে কয়েকজন যুবককে তিনি ডেকে এনে আলিঙ্গন করে আশীর্বাদ দেন। যুবকগণ হতভম্ব হয়ে গেল, কেননা তাঁরাই পূর্বের এক সভায় কিছু প্রশ্ন করে নিত্যানন্দদেবকে বিভত করার চেষ্টা করেছিল। উনার এই উদারতাতে শিষ্য প্রশিষ্য দর্শনার্থী সবার মোহিত হন।
Content: আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
Content: তামিলনাড়ুর গুদিয়াথাম পলিটেকনিক থেকে নিত্যানন্দ মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংএ ডিপ্লোমা পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সেই কলেজের শিক্ষকরা নিত্যানন্দদেবের প্রারম্ভিক শিষ্য হয়ে ছিলেন।
Content: তিরুবন্নমালাইর শশানভূমি— নিত্যানন্দের ধ্যানক্ষেত্র। সারারাত সে এখনো ধ্যানস্থ হন এবং সকালে দিকে বারী ফেরে। পিতৃ–মাতৃ তাঁকে বাধা দেয় না।
Content: জীবন অময়া আনন্দ প্রযুক্তিবিদ্যা (Life Bliss Technology)
Content: গুরুকুল
Page 17
Content: আলোর সন্ধানে
Content: "আমি হলো সত্যের কেন্দ্র তার প্রতিটি পথের যাত্রাই অন্তঃসত্যের ।"
Content: — নিত্যানন্দদেব
Content: গৃহত্যাগ
Content: নিত্যানন্দের গৃহত্যাগের চিন্তা প্রবল হতে লাগল । এক রাত্রি সে ঘরের বাইরে পা রাখল । ছেড়ে দিল গতানুগতিক জীবনধারা । অবিলম্বে প্রবেশ হল ইশ্পিত জীবনধারায় ।
Content: নিত্যানন্দ প্রথমেই পরমপুরুষ্যা মায়ে অবগত করতে চেয়েছিলেন- তার মনের কথা । তাঁর মাতৃভক্তি ছিল অনুপম । তাই সে চেয়েছিল যাতে তার গৃহত্যাগের জন্য মায়ে বিচলিত নন ।
Content: সেই রাত্রি সে মার কাছে বসে প্রার্থনা করল, "মা, আমি যদি মরে যাই, আপনি কি করবেন ?" মা বললেন, 'এত খারাপ কথা বলছিস কেনরে তুই ? যদি তাই হয়, সহ্য করতে হবে, আর কি !' তখন নিত্যানন্দ মায়ের কাছে আসল কথাটা বলল । মা কেঁপে উঠল; নয়ননীর বয়ে গোল দুগাল দিয়ে । কিছু সংজ্ঞাত হইয়ে বলল, "রাজ ! আমি জানি তুই একদিন যাবিই ।" সে মাকে জিজ্ঞাসা করল, "আপনি চান না কি আমি যাব ?" মা একটু থমকে গেল পরে বলল, "ঠিক আছে, তুই যা, তুই ভবা মত জীবনকে স্বীকার করেগে । আমি তোমাকে রাখতে পারব না, মা হইয়ে সহ্য করব কি করে । তাই কেঁদেছি ।
Content: করতে চলে গেল
Content: কদিন বাদে গেল নিত্যানন্দ । তথাপি মা বিদায় দিয়েছে । মাকে প্রণাম রাজশেখরণ নিত্যানন্দ ইতে । মা-পুত্র নিজ নিজ জায়গায় বাহাল থাকল ।
Content: ১৮
Page 18
Content: ভারত এবং নেপাল পরিক্রমা
Content: "সকল মহান তীর্থই সত্তা-এনার্জির আবাসস্থলী সেখানে নিবাস এক গভীর ধ্যানের তুল্য।"
Content: — নিত্যানন্দদেব
Content: অন্তরের অসীম ইচ্ছাশক্তির ফলে নিত্যানন্দ ভারত এবং নেপালের পরিক্রমায় নেমে পড়লেন। হিমালয়ের তোয়াবন থেকে দক্ষিণের কন্যাকুমারী, পশ্চিমের দ্বারকা থেকে, পূর্বের কলকাতা পর্যন্ত উনি পরিভ্রাজক রূপে (সাধু-সন্তের প্রমণ) প্রমণ করলেন নয় বৎসর। চুড়ান্ত সত্তার সহিত আত্মসত্তা বিলয়ের সন্ধান পেলেন। মৃত্য ভ্রমণের মৃত ৭০ হাজার মাইলের কয়েক হাজার মাইল উনি পায়ে অতি কঠোরম করলেন।
Content: মহা অবতার বাবাজী
Content: মহা অবতার বাবাজী হিমালয় নিবাসী সন্ন্যাসী। হিমালয় শৃঙ্গে কালে নিত্যানন্দ সেই বাবাজীর সন্ধে পায়। বাবাজী উনাকে দর্শন দেন এবং বার্তালাপ করেন। বাবাজী নিত্যানন্দকে "পরমহংস নিত্যানন্দ" আখ্যা দেন। পরের কালে সেই হলো নিত্যানন্দের পরিচয়াত্বক অভিধা।
Content: আজ
Content: সময় সময় শিষ্যবর্গ নিয়ে নিত্যানন্দদেব হিমালয়ে যান এবং সেখান কার উচ্চতরীয়া সত্রগুলি দর্শন করেন। শমণের মাধ্যমে, উনি প্রতিলোকের অন্তরে উদ্বর্তন সত্তার উপলব্ধির স্পৃহা জাগায়।
Content: ২০০৭ চনে হিমালয় দর্শন
Content: ১৯
Page 19
Content: পরিরাজক কাল খগে নিত্যানন্দের সঙ্গে একটি কমণ্ডলুতে জল সব সময় রেখে। জলে কুশ্রী রেখে জলের উর্না মাপে পরে উপযুক্ত মন করালো সেই জল পান করে।
Content: উনি একটি ঐরিক বেল্লার বেগ সঙ্গে রাখে। সেখানে পবিত্র ভস্ম রাখা হয়।
Content: পরিরাজক অবস্থায় পড়া কয়েকটা রুদ্রাক্ষ ফল
Content: প্রথম আরোগ্য আশ্চর্য
Content: হিমালয়ের ১৭ হাজার ফুট উচু অবস্থিত তপোবন থেকে ফেরার সময় নিত্যানন্দদেব একটি মিলিটারী ট্রাকে আসেন। পথে ট্রাক দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় নিত্যানন্দদেবের হাড় ভেঙ্গে যায়। ডাক্তারো উনাকে হস্পিটেলে ভর্তি করে রেষ্ট নেওয়ার উপদেশ দেয়। কিন্তু উনি আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় নিজের হাত ফুরিয়ে নেমে গেলেন এবং হরিদ্বার পৌঁছেলেন। সেখানে এসে পরে দেখা গেল যে হাড় ভাঙ্গার চিহ্নই নেই। নিত্যানন্দদেব স্বয়ং আশ্চর্য হলেন। পরে উনার হাতের যাদুকরী শক্তি দ্বারা হাজারজন উপকৃত হয়েছে।
Content: আজ
Content: নিত্যানন্দদেব নিত্যা স্পিরিচুয়েল হিলিং (Nithya Spiritual Healing Service) চান্ডিচ দ্বারা সেই আরোগ্য সেবা হাজারজনের উপকারে উৎসর্গ করেছেন।
Page 20
Content: মণিকর্ণিকা ঘাট, বারাণসী— মৃত্যু জয়
Content: বারাণসীর গঙ্গাতীরের মণিকর্ণিকা ঘাটকে অতি পবিত্র গণ্য করা হয়। এখানে শব দাহ করলে মৃতকের আত্মা মুক্তিলাভ করে এমন এক বিশ্বাস অনন্তকাল থেকে চলে আসছে। অন্য এক বিশ্বাস অনুসার এখান থেকে শিব বিশ্ব রচনা করেছিলেন।
Content: এখানে গভীর ধ্যানে বসে নিত্যানন্দদেব 'মৃত্যু'র অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সর্বসাধারণ যাকে সর্বাধিক ভয় করে— উনি সেই ভয়কে জয় করলেন।
Content: গঙ্গা তীরে মণিকর্ণিকা ঘাট বারাণসী
Content: সন্ন্যাসী জীবনের পরিত্রাজক রূপে ২২ বৎসর ব্যাতীত করার পরে নিত্যানন্দ সিদ্ধি লাভ করে। কাব্যের চিত্র উনি দিব্যজ্ঞান লাভ করার ঠিক পরে চিত্র। নিত্যানন্দের চঞ্চল অস্থিরতা কমে গেল, তার ঠিক নিল সমাহিত পরমশান্তির দৃষ্টি। জন্মপত্রে উল্লিখিত রাজশেখরন, এখন থেকে হলো “পরমহংস নিত্যানন্দ”।
Content: আজ
Content: নিত্যানন্দদেব বলেন ঃ “আধ্যাত্মিক শ্রমের ফলে মানুষের আধ্যাত্মিক বিকাশ ঘটে” প্রাচার্য প্রশিক্ষণের অংশ হিচাবে প্রশিক্ষার্থীকে ভিক্ষা খোঁজতে পাঠানো হয়। উনি বলেন, “সন্ন্যাসীর ভিক্ষা গ্রহণ হলো এক উপায়- যার দ্বারা আবেগগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সন্ন্যাসীরা ভিক্ষা পাওয়াতো আনন্দ নেই, না পালেও নেই নিরানন্দ।”
Page 21
Content: দিব্যজ্ঞান লাভের ঠিক পথের কয়েক দিন
Content: চরমসত্যর আদর্শ হাতের নির্দেশে নিত্যানন্দদেব মহাপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্ব্র থেকে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু পৌছিলেন। সেখানে কাবেরীর তীরে এক কুণ্ডে ঘরে আশ্রয় নিলেন। নিকটবর্তী গ্রামের ভক্তবৃন্দরা নিত্যানন্দদেবকে ভোজনাদির ব্যবস্থা করে দিল। তিনি সেখানে অনেকের রোগ নিরাময় করলেন। নিত্য হোম এবং ধ্যানের শিক্ষা দিলেন। যুবর সন্ন্যাসীর রোগ আরোগ্য করার ক্ষমতার বিষয় বনজুইয়ের মত ব্যাপ্ত হল। জনসমূদ্র সুস্থ হইয়ে গেল। বৃদ্ধি হলো উনার সেবা কার্য।
Content: এটা সংকল্পনা (VISION) র প্রস্ফুটন
Content: "অময়া আনন্দ লাভের এক উপায় আমি পেয়েছি। আমার মিশন হলো পৃথাক ব্যক্তি রূপে উঠিক যে সে অনন্য এবং অদ্বীতম এবং সেই ই হলো সেই ব্যক্তির আসল অময়া আনন্দ ।"
Content: —নিত্যানন্দদেব
Content: নিত্যানন্দদেব অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা ভাবী আশ্রমের ভূমি খোঁজের সন্ধ্যে পেয়েছিলেন। বাগালোরের উপকন্ঠে ৬০০ বছরের এক বটবৃক্ষ সহিত এই ভূমিখন্ডের জনশ্রুতি মতে ছিল "জীব সমাধি"। হয়তো কোনো কালে কোন মহান পুরুষের আবাস স্থান ছিল এই স্থান। নিত্যানন্দদেবের শুভবিংশতি (২৬) জন্মদিনে সেই ভূমিতে "নিত্যানন্দ ধ্যানপীঠম"- এর আনুষ্ঠানিক শুভারম্ভ হলো। অনেক সাধু সন্ন্যাসী এবং রাজনীতিক জীবনের লোক এই স্থান দর্শন করল। পৃথিবীতে এক নবীন আধ্যাত্মিক আধারাশিলা রোপন হল।
Page 22
Content: বিশ্বের হাজার হাজার লোকের জন্য নিত্যানন্দদেব একজন প্রবাদ পুরুষ, দিব্যজ্ঞানী মনীষী। নিজের সত্তা উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে, নিত্যানন্দদেবের মানব সমাজের প্রতি বাণীর জন্য রচনা করেছেন অমূল্য উপহার Technology of Bliss (আনন্দের প্রযুক্তিবিদ্যা)।
Content: উনার নির্দেশিত উপায়ের ফলে মানুষের দৈহিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি হয়। উক্ত উপায়গুলির প্রয়োগের ফলে বিশ্বের আগমন লোক লাভবান হয়েছে।
Content: সুজনীমূলক এবং উৎপাদনমুখী জীবননির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় সার-সঙ্গম তিনি দিয়েছেন— যার ফলে মানুষের জীবন, পুথি জ্ঞান এবং আর্থিক উন্নয়নের পরিবর্তে স্বচ্ছল এবং স্ব-বিকশিত দ্বারা পরিচালিত হয়। বাহ্যজগতে সমৃদ্ধিবান এবং অন্তর্জগতে সফল হওয়ার পথ তিনি প্রদর্শন করেছেন। উনার প্রচামের শিক্ষা হল— স্বাভাবিক অবস্থায় থাক এবং ধ্যান কর।
Content: নিত্যানন্দদেব বলেছেনঃ “ধ্যান হল আসল চাবিকাঠি যি বস্তুবাদী সংসারে সাফল্যের কপাট খোলে দেয় এবং অন্তর্জগতের সসীমত্বির দ্বয়ার খোলে দেয় ” উনার ধ্যানের প্রচামগুলিতে মানুষের আত্মরাষ্টা জেগে উঠে, বিকশিত হয়— অতি কম সময়ের মধ্যে।
Content: বিজ্ঞানী এবং গবেষকের সংগো বিচার বিমর্ষ করে নিত্যানন্দদেব রহস্যবাদের বিজ্ঞানভিত্তিকরূপ নথীভূক্ত করেছেন। উনার সায়বিদ্যা প্রক্রিয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানীকে বিস্মিত করেছে। বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষণের পর নিশ্চিত হয়েছে যে, নিত্যানন্দদেবের পীঠস্থান দ্বারা কিছু রোগ যেমন হৃদরোগ, কেপার, আর্থরাইটিস, মস্তিষ্কে আঘাত ইত্যাদি থেকে সফল ভাবে মুক্তি পেতে পারে।
Page 23
Content: 'Life Bliss Foundation' ছিল নিত্যানন্দদেবের বিশ্বব্যাপী আন্দোলন— ধ্যানের, পরিবর্তনের এবং পরিমার্জনের। ২০০৩ সালে শুরু করা এই ফাউন্ডেশন এখন পর্যন্ত ৩৩ খন দেশে প্রায় ১০০০ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ব্যক্তি পরিবর্তনের দ্বারা সমষ্টির পরিবর্তন — এটাই হলো ফাউন্ডেশনের মূল ধারণা।
Content: নিত্যানন্দ মেডিটেশন একাডেমী
Content: (Nityananda Meditation Academes, NMA) এখন বিশ্বব্যাপী আধ্যাত্মিক গবেষণাগার রূপে চিহ্নিত হয়েছে। ধ্যান এবং বিজ্ঞানের সংযোগে মানবের বাহ্য, এবং আন্তর, দুই প্রকারের সত্ত্বার বিকাশ এবং উন্নতির আশে এই একাডেমিগুলির পাঠ্যক্রম রচনা করা হয়েছে।
Content: বিদাদী আশ্রমের পবিত্র বটবৃক্ষতলো
Content: একাডেমীর মাধ্যমে বস্তুবাদীজগত এবং আধ্যাত্মিক জগতের মিলন সম্ভব করে তোলা হয়েছে— যার ফলে আমরা আনন্দের জীবনযাপন সন্ধান এবং রচনাত্মক বোধশক্তির গভীর সজাগতার উত্থব হয়।
Content: হায়দরাবাদ আশ্রম (ভারত)
Content: তদুপরি বিশাল জনসমুদ্রের আশা আকাঙ্খা এবং কল্যাণকে সাকার করার জন্য অনেক নবীন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে নতুন একাডেমী স্থাপন করা হয়েছে।
Content: কলকাতা আশ্রম, তাহাইড্, আমেরিকা
Content: ২৮
Page 24
Content: ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সমাজ সেবা কার্য সারা বিশ্ব ব্যাপ্ত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নিজ সিপারচুয়েল ইলিং পদ্ধতি অনুসার বিনামূলীয়া উন্নত চিকিৎসা (energy healing), যুবক-যুবতীর জন্য বিশেষ শিক্ষা, কলা, এবং সংস্কৃতি চর্চার জন্য প্রोत्सাহন, ব্যক্তিত্ব বিকাশ প্রগ্রাম, সংঘীয় প্রগ্রাম, বিনামূলীয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চক্ষু চিকিৎসা, বিশেষ আশ্রমে বিনামূলীয়া
Content: আনন্দেশ্বর মন্দির গর্ভগৃহ, বিনাদী আশ্রম
Content: আহার, এক বৎসরের আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ প্রগ্রাম
Content: (ভারতে) গুরুকুল পদ্ধতিতে শিশুকে শিক্ষা দান ইত্যাদি।
Content: চালেম আশ্রম (ভারত)
Content: নিত্য ধীর সেবা সেনা (Nithya Dheera Seva Sena NDSS), এর সদস্য সকলকে “আনন্দ (সেবক)” করা হয়। স্বয়ং এভাবে যোগদান করা এই ‘আনন্দ সেবক’ (স্বেচ্ছাসেবক)রা সকলই অতি উৎসাহ, ধৈর্য্য এবং নিষ্ঠা সহকারে আশ্রমের প্রতিষ্ঠিত কাজ-কাজগুলির যথাযথভাবে দেখাশোনা করে।
Content: লচ এঞ্জেলিচ আশ্রম, আমেরিকা
Content: ২৬
Content: Ebook ISBN : 979-8-88572-118-9