1. isbn 979-8-88572-524-8
Page 2
১
অবতরণিকা
3
২
কৃতজ্ঞতা কি?
4
৩
কৃতজ্ঞতা - প্রসন্নতার চাবিকাঠি
6
৪
কৃতজ্ঞতা হল মহত্তম মনোভাব
8
৫
কৃতজ্ঞতা হল ঐশ্বরিকতার দিকে এগিয়ে যাবার পথ
10
৬
কৃতজ্ঞতা হল পরিপূর্ণতার প্রকাশ
12
৭
কার্যকলাপ
14
৮
কৃতজ্ঞতা হল সবকিছুর উপহার বলে উপলব্ধি করা
16
৯
কার্যকলাপ
18
১০
কৃতজ্ঞতা? না ধন্যবাদ!
20
১১
কৃতজ্ঞতা হল পছন্দনীয়তার আকাশ
22
১২
কৃতজ্ঞতা হল কৃচ সন্তবনার দ্বার খুলে দেওয়া
24
১৩
আবেগগুলো তোমার ডিএনএ-কে নবরূপ দিতে পারে
26
১৪
ধ্যানে কৃতজ্ঞতা
28
১৫
কৃতজ্ঞতা হল তোমার দেহকে ধন্যবাদ জানানো
30
১৬
কার্যকলাপ
32
১৭
কৃতজ্ঞতা হল অপরকে শ্রদ্ধা করা
34
১৮
কার্যকলাপ
36
১৯
কৃতজ্ঞতা তোমাকে বেদনার উর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে
38
২০
ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্যে কৃতজ্ঞতা
41
২১
কৃতজ্ঞতা হল মনকে ছাড়িয়ে যাওয়া
43
২২
কৃতজ্ঞতা তোমাকে 'কেউ না' বানায়
44
২৩
কৃতজ্ঞতা তোমার কর্মসকল দগ্ধ করতে পারে
45
২৪
কৃতজ্ঞতা তোমার শরীরের ভাষা পরিবর্তন করে
46
২৫
কার্যকলাপ
47
২৬
কৃতজ্ঞতা - শ্রদ্ধার জন্য এক শক্তিশালী উপকরণ
48
২৭
কৃতজ্ঞতা - সাকার থেকে নিরাকারে প্রস্ফুটিত হওয়া
50
২৮
গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা
52
২৯
কৃতজ্ঞতা হল প্রার্থনা
54
৩০
কৃতজ্ঞতা হল একটু অভিজ্ঞতা করা
56
৩১
কৃতজ্ঞতা হল অস্তিত্বে আস্থা রাখা
60
৩২
কৃতজ্ঞতা হল মঙ্গলত্বে বাস করা
62
৩৩
কার্যকলাপ
64
Page 3
অবতরণিকা
১
কৃতজ্ঞতা কি তা নিয়ে চিন্তা করলে তোমার মনে কি আসে? মনে প্রথমে কোন জিনিষটা আসে? শব্দাবলী যেমন, ধন্যবাদ, কথায় ও কাজে প্রেমের প্রকাশ, সমর্পণের ভাবনা, বাধিত হওয়া ইত্যাদি তোমার মনে আসতে শুরু করবে।
অভিধান অনুযায়ী কৃতজ্ঞতার সংজ্ঞা হল ধন্যবাদপূর্ব হবার বা শুণমান অথবা কৃদর করার প্রবণতি এবং অনুগ্রহ বিনিময়।
এই গ্রন্থে আমরা কৃতজ্ঞতাকে আধ্যাত্মিক দিক থেকে অন্বেষণ করব। কৃতজ্ঞতা কি, কৃতজ্ঞতার বিভিন্ন প্রকার, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কারণ, কৃতজ্ঞতার প্রভাব এবং সবশেষে কৃতজ্ঞতা আমাদের কোথায় পরিচালিত করে।
সারা গ্রন্থটিতে তোমাদের জন্য অনেক কার্যকলাপ ও ধ্যান প্রক্রিয়া দেওয়া হয়েছে যাতে এই গ্রন্থে দেওয়া জ্ঞানের তোমরা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা লাভের চেষ্টা করতে পার।
পুরো গ্রন্থটি পড়ে ‘কৃতজ্ঞতা কি’ এবং তার অনেক অভিমুখ সম্পর্কে তুমি আরও ভাল বুঝতে পারবে।
<< কৃতজ্ঞতা আমাদের বাস্তবিক প্রকৃতি... কৃতজ্ঞতা এক শক্তি যা তোমার জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে প্রগাঢ় ও উদ্ধীপনাময় করে। যখন তুমি কারণহিত কৃতজ্ঞতায় সমাচ্ছন্ন হও, বাইরের পরিস্থিতি নির্বিশেষে জীবন সর্বদা মধুর হবে >>
২
~ পরমহংস নিত্যানন্দ
Page 4
2
কৃতজ্ঞতা কি?
4
যখন আমরা স্বীকার করি যে আমরা অস্তিত্বের সম্পূর্ণ পরিকল্পনার অংশ এবং প্রতিটি মিনিটে অস্তিত্ব প্রেমবশত আমাদের যত্ন নিচ্ছে, আমরা কৃতজ্ঞতায় অভিভূত হই। আমরা প্রতিটি মুহূর্তে যা পেয়েছি তার জন্য ধন্যবাদপূর্ণ হই, সেই পাওয়াটা আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়গুলোর ব্যবহারের মত মৌলিক ব্যাপারও হতে পারে। কৃতজ্ঞতা হল অস্তিত্বের অতিপ্রাচুর্যকে স্বীকার করার জন্য সাড়া দেওয়া। তোমার জীবনে সবকিছুর যত্ন নেওয়ার জন্য যদি কোন শক্তি থাকে, তা হল কৃতজ্ঞতার শক্তি! যদি ভাবো তোমার জীবনে কিছু মিস্ হচ্ছে, তার কারণ তুমি কম কৃতজ্ঞতা অনুভব করছ। কৃতজ্ঞতা তোমাকে সরাসরি ঐশ্বরিক শক্তির সাথে সংযুক্ত করে।
4
কৃতজ্ঞতাকে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস হতে হবে। তা তোমার মধ্যে ও তোমার আশেপাশে ঘটনাগুলিকে রূপান্তরিত করে। সেটা এমন এক শক্তি যা তোমাকে মহাজগতের শক্তির সাথে ঐকতানে নিয়ে আসে এবং তোমাকে অসাধারণ সমৃদ্ধি প্রদান করে। তুমি দেখবে, কৃতজ্ঞতার সাথে অস্তিত্ব সহজেই তোমাকে সাড়া দেয়। সেটা হল অস্তিত্বের সাথে অত্যস্ত আন্তরিকতার সাথে বিনিময় করার চ্যানেল।
4
এটা বোঝা : যখন সব কিছুর প্রতি তুমি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, তার অর্থ তুমি পরিপূর্ণতা অনুভব করছ, তুমি আনন্দপূর্ণ হচ্ছ। তাই যখন কৃতজ্ঞতা বিকিরণ কর, তোমার পরিপূর্ণতার শক্তি তোমার দিকে পরিপূর্ণতা আকর্ষিত করে বস্তুগত লাভ, উত্তম সম্বন্ধতা, ভাল স্বাস্থ্য ইত্যাদির রূপে। মুখ্য ব্যাপার হল, কৃতজ্ঞতা তোমাকে অস্তিত্বের সাথে অনুরণন করায় এবং তোমাকে সুন্দর মানুষ্যতে রূপান্তরিত করে।
4
সমাজ আমাদের শিখিয়েছে যে কৃতজ্ঞতা এক সামাজিক শিষ্টাচার যেটা আমাদের সবার অভ্যাস করা উচিত - যা পেয়েছি তার জন্য ধন্যবাদপূর্ণ হওয়া উচিত। কিছু চাইলে আমরা তা অস্তিত্ব বা ভগবানের কাছে চাই এবং সেটা পেলে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ঈশিত জিনিষ সন্দেহ চাইবার মানসিক থেকেও যদি আমরা অস্তিত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব ও প্রকাশের মানসিকভাবে চলে যাই, তাহলে কি হবে?
5
কৃতজ্ঞতা আমাদের বাস্তবিক প্রকৃতি...কৃতজ্ঞতা এক শক্তি যা তোমার জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে প্রগাঢ় ও উদ্দীপনাময় করে। যখন তুমি কারণহীন কৃতজ্ঞতায় সমাচ্ছন্ন হও, বাইরের পরিস্থিতি নির্বিশেষে জীবন সর্বদা মধুর হবে।
5
তুমি সর্বদা বিশ্বাস কর তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তুমি তার যোগ্য অথবা সেটা এক দুর্ঘটনা।
5
যখন অস্তিত্বের সেই অদৃশ্য হাত তোমার যত্ন নিচ্ছে বলে দেখতে ও অনুভব করতে শুরু কর, তুমি বুঝবে অস্তিত্ব তোমাকে এখানে চায়। কেবল তখন তুমি উপলব্ধি করবে যে অস্তিত্ব তোমার উপরে অনবরত বর্ষণ করে চলেছে।
5
Page 5
3
কৃতজ্ঞতা - প্রসন্নতার চাবিকাঠি
6
আজ পৃথিবীতে প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি হল : যে কোন কার্যের একটা কারণ চাই। উপযোগিতা থাকলে কার্য হয় না তবা কার্যের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করা কঠিন হয়ে যায়। প্রকৃত কৃতজ্ঞতার কখনও কারণ থাকে না। সেটা তোমার মধ্যে কারণরহিত প্রক্ষুটিত হয়ে ঘটতে থাকে।
ফুল কি কোন কারণে প্রক্ষুটিত হয়? না! ফুল ফোটে, কারণ সেটা তার প্রকৃতি।
কৃতজ্ঞতা আমাদের সতিকার প্রকৃতি। সমাজের নিয়মত্রের অনেকগুলি প্রলেপ তাকে ঢেকে দিয়েছে। সমাজ কৃতজ্ঞতার ভাষা জানে না। তা কেবল উপযোগিতার ভাষা জানে। সমাজ সরাসরি আমাদের মধ্যে লোভ ও ভয় প্রবেশ করায় যাতে আমরা সমাজকে সমাজের দরকারী ফলাফলগুলি দিই।
সমাজ জানে না যে কৃতজ্ঞতার এক পথ আছে, যেটা ভয় ও লোভের পথ থেকেও আরও ভাল ফলাফল দেবে। সেটাই সমস্যা। কৃতজ্ঞতা অনুভব করার অশেষ কারণ আছে। এই জীবনটাই তো আমাদের পাওয়া এক উপহার। মানুষ চেতনা সহকারে জন্ম হওয়াই তো আমাদের পাওয়া প্রথম আশীর্বাদ। সেখান থেকে আমাদের কৃতজ্ঞতা আরম্ভ হওয়া উচিত। আমরা যে আছি, কেবল তার জন্যই কৃতজ্ঞতা অনুভব করা উচিত।
বোঝ, যদি তুমি কখনও অনুভব কর জীবন নীরস, জীবন যেরকম হবার কথা সেরকম নয়, তার কারণ হল, তোমার মধ্যে কৃতজ্ঞতা ঘটেনি। কৃতজ্ঞতা এমন এক শক্তি যা তোমার জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে প্রগাঢ় ও উদ্দীপনাময় করে। যখন তুমি নিজের মধ্যে কারণরহিত কৃতজ্ঞতায় সমাচ্ছন্ন হও, বাইরের পরিস্থিতি নির্বিশেষে জীবন সর্বদা মধুর হয়ে যাবে।
যখন কৃতজ্ঞতা হারাও, ঘনঘন তুমি এই প্রকার ভাবনার কবলে পড়বে যে জীবন বেদনাময়, কিন্তু তুমি সেই ভাবনার প্রকৃত কারণ জানবে না।
জীবনে প্রতিটি ছোট জিনিসকে এক উপহার হিসাবে গ্রহণ কর। যখন আহার করার জন্য তুমি প্লেট নাও, প্লেটটাকে এক উপহার হিসাবে দেখো।
মানবচেতনা সহকারে জন্ম হওয়াই তো আমাদের পাওয়া প্রথম আশীর্বাদ।
7
যখন প্লেটে খাবার পরিবেশন কর, খাবারকে উপহার হিসাবে দেখো। যখন আহার করার জন্য চেয়ারে বসে পড়, চেয়ারটিকে উপহার হিসাবে দেখো।
এক উপহার হিসাবে দেখে দ্যাখো। খাবার পরে যখন হাত ধোও আলজুলগুলি উপহার হিসাবে দ্যাখো।
এমন মানুষ আছে যাদের খাবার জন্য প্লেট নেই। এমন মানুষ আছে যাদের আলজুল নেই, যে আলজুল দিয়ে তারা খেতে পারে! আমরা কেবল তাদের দিকে তাকাই যাদের আলজুলে ছিঁড়ার আঁচড় আছে। আমরা তাদের দিকে তাকাই না যাদের আলজুল নেই। সেইজন্য আমাদের জীবনে আমরা কোনকিছুতেই উপহার বলে অনুভব করি না। প্রতিদিন সকালে জেগে বিছানা থেকে ওঠার আগে শুধুমাত্র বিদ্যমান থাকার জন্য, এই সুন্দর অস্তিত্বে মানুষ হয়ে বাস করার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করার চেষ্টা কর। একইভাবে, প্রতি রাত্রে ঘুমানোর আগে বিদ্যমান থাকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি নিয়ে ঘুমো। সেটা তোমার সমস্ত দেহ ও মনে অনুভব কর।
সমস্ত বিচার পাশে রেখে দাও এবং কৃতজ্ঞতা অনুভব কর। যখন আমরা ছোট জিনিষগুলির জন্য ধন্যবাদপূর্ণ অনুভব করতে শুরু করি, আমাদের সমগ্র সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। যখন সংবেদনশীলতা ঘটে, প্রতিটি মুহূর্ত অস্তিত্বের ঘটনাগুলির প্রতি অতিশ্রদ্ধ বিষ্ময়ে কাটবে।
আনন্দময় হও!
7
Page 6
8
কৃতজ্ঞতা হল মহত্তম মনোভাব
8
বারংবার লোকেরা আমায় প্রশ্ন করে, ‘স্বামীজী, আমার যখন এতগুলো সমস্যা, আমি কিভাবে কৃতজ্ঞ হই?’ দেখো, আমরা বারবার প্রার্থনা করি, ‘হে ভগবান, আমাকে এটা হীরের আংটি দাও’ আমরা কি কৃতজ্ঞতা বোধ করি যে হীরের আংটি পারার জন্য তিনি আমাদের আংগুল দিয়েছেন? না! আংগুল তো আমাদের জন্মাধিকার নয়। হাজার হাজার মানুষের তো হাত বা আংগুল নেই। সেটা আমাদের জন্মাধিকার নয়। আমরা অবিরাম জোরে জোরে সমস্ত সম্ভাব্য উপায়ে প্রার্থনা করি, ‘হে ভগবান, আমাকে এটা দাও। হে ভগবান, আমাকে ওটা দাও।’ কিন্তু আমাদের ওপর যা বর্ষিত করা হয়েছে তার জন্য আমরা কখনও কৃতজ্ঞবোধ করি না। এই জীবনটাই তো এক আশীর্বাদ!
আমরা কি বলতে পারি যে বিশ্বের বৈকুণ্ঠ অথবা শিবের কৈলাসে আমরা কিছু কাজ করেছি বলে পারিশ্রমিক হিসাবে আমাদের জীবন প্রদান করা হয়েছে? না! এমন নয় যে আমরা কৈলাসে একশ বছর কাজ করেছি এবং একটা চেক পেয়েছি যাতে লেখা আছে, ‘ঠিক আছে, সত্তর বছরের জীবন নাও’। সেবাবহিনীতে কাজ করলে আমাদের পড়াশুনা করার জন্য টাকা দেয়া হয়। এটা সেরকম নয়; আমরা তো আর জীবনকে বেতন হিসাবে পাই নি। জীবন তো আমাদের জন্য পবিত্র আশীর্বাদ হিসাবে বর্ষিত হয়েছে।
শ্বাসপ্রশ্বাসই তো এক আশীর্বাদ! জীবনটাই তো এক আশীর্বাদ। অনবরত আমরা সেগুলিকে মিস্ করছি যেগুলি আমাদের অধিকারের অংশ নয়। কিন্তু ঈশ্বর দ্বারা আমাদের ওপর বর্ষিত জিনিষগুলির কখনও আমরা অভিজ্ঞতা করি না।
আমাদের যা যা দেওয়া হয় নি, তা তালিকা আমরা যদি সততার
যখন আমরা অনুভব করি জীবন এক আশীর্বাদ এবং ঐশ্বরিকতার দিকে গভীর প্রেম ও কৃতজ্ঞতা সহকারে এগিয়ে যাই, তখন কেবল ঐশ্বরিক চেতনা নয়, আমরা ঈশ্বরকে পেয়ে যাই।
9
সাথে বানাই সেটা অশেষ অসীম তালিকা হবে। যদি আমাদের যা যা দেওয়া হয়েছে তার তালিকা ঐকান্তিকভাবে বানাই সেটাও অশেষ অসীম হবে। এখন এটা আমাদের ওপর যে আমরা না পাওয়া তালিকাটি দেখব ও অবিশ্রাম দীর্ঘ অনুভব করে নরকবাস করব, নাকি আমাদের ওপর বর্ষিত জিনিষের তালিকায় তাকিয়ে স্বর্গে থাকব। দ্বিতীয় পথটি আমাদের গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা অনুভব করায়। আমরা কৃতজ্ঞবোধ করি এবং আমাদের নিজেদের স্বর্গ বানাই। এটা তো একদম আমাদেরই চয়েস্ (পছন্দ)।
Page 7
কৃতজ্ঞতা হল ঐশ্বরিকতার দিকে এগিয়ে যাবার পথ
10
ঐশ্বরিকতার দিকে কৃতজ্ঞতার মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হও। কৃতজ্ঞতা অনুভব করলে, ঐশ্বরিকতার সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত থাকলে আমাদের সম্পূর্ণ জীবন পরিবর্তিত হয়। লোকেরা বিভিন্ন স্তর থেকে মাস্টারের দ্বারস্থ হয়।
10
আমি দেখেছি কি প্রকর মানুষেরা আমার কাছে আসে। ১) কেউ আমার কাছে লোভবশত আসে; ২) কেউ আমার কাছে ভয়বশত আসে; ৩) কেউ আমার কাছে দুঃচিন্তার জন্য আসে; ৪) কেউ আমার কাছে নামযশের জন্য আসে; ৫) কেউ আমার কাছে আসে ঐশ্বর্য ও তুলনা করার জন্য ৬) কেউ আমার কাছে আসে তাদের জন্য আসে, তাদের আমিত্বকে আরও শক্তিশালী করার জন্য;
10
৭) খুবই কম মানুষই আমার কাছে কৃতজ্ঞতাবশত আসে যারা আমার কাছে লোভবশত আসে তাদের একটা সমস্যা আছে। তাদের যে কেবল লোভই আছে তা নয়, তাদের একজন মাস্টার সম্পর্কে নিজেদের ধারণা ও অতিকল্পনা থাকে। যখন কোন ব্যাপারে আমাদের অতিকল্পনা থাকে, আমরা বাস্তবতার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব না। যারা ভয় সহকারে আসে, তারা সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারে না। তারা আটকে থাকবে কারণ ভয় তো এক অতিকল্পনামাত্র।
10
মানুষেরা বিভিন্ন স্তরে মাস্টার অথবা ঈশ্বরের দ্বারস্থ হয়। আমরা যত পরিপক্ক হই, তত আমরা সেই মানুষটির সাথে সংযুক্ত অনুভব করি যে
10
আমাদের পরিপূর্ণতা প্রদান করে। পরিপক্ক হলে, ভয় ও লোভের উর্ধ্বে গেলে আমরা একই মাস্টার, একই ভগবানের কাছে আরও পরিপক্ক সহকারে যাব।
11
পরিপক্কতা অনুসারে আমাদের মনোভাব ভিন্ন ভিন্ন হয়। যত বেশী পরিপক্ক হই, তত বেশী কৃতজ্ঞতা ঘটে। পরিপক্কতা যত কম হবে, তত আমরা আমাদের জীবন প্রার্থনা দিয়ে ভরে দই। তোমরা প্রার্থনা (prayer) কর লোভবশত, আর স্বীকারোক্তি বা কবুল কর (confession) ভয় থেকে! তাই আমি বলি, ‘কৃতজ্ঞতা হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থনা এবং ‘ধন্যবাদ’ হল সর্বোত্তম মন্ত্র’ ঈশ্বরের দিকে আমাদের কিভাবে অভিগমন করি, তার ওপর ভিত্তি করে সম্প্রদায়ের রীতি নিয়ম সৃষ্টি হয়। সমাজের সাথে আমরা কতটা শেয়ার করব তা নির্ভর করে আমরা কতটা পরিপক্ক। একই পরিপক্কতা সহকারে আমরা ভগবানের দ্বারস্থ হই। যদি আমরা টাকাপয়সা নেই বলে মনে করি, আমরা সেই দেবতার কাছে যাই যিনি ধনদৌলত দেন। যদি জ্ঞানের অভাব অনুভব করি, আমরা সেই দেবতার কাছে যাই যিনি জ্ঞান প্রদান করেন। যদি অসুরক্ষিত অনুভব করি, সুরক্ষা প্রদানকারী দেবতার কাছে যাই। যদি আমরা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার, পরম অভিজ্ঞতার অভাব অনুভব করি, তখন ঈশ্বরের চূড়ান্ত অভিব্যক্তি, ঐশ্বরিক অবতারের কাছে যাই।
11
তোমার পরিপক্কতার স্তর হিসাবে তোমার ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতা হবে যতক্ষণ তুমি ভয় ও লোভে আটকে আছ, তুমি কেবল সেই প্রকার দেবতাদের কাছেই যাবে। যে কোন একটি স্তরে শুরু করা ঠিক আছে কিন্তু আমরা যেন সেই স্তরটিতে থেমে গিয়ে সেখানেই থেকে না যাই সেটা যেন ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুতে যেতে না পারা। ভগবান বিশ্বুর অবতার শ্রীকৃষ্ণ পবিত্র ভগবদগীতায় বলেন, ‘যে মানুষ আমার কাছে প্রেম ও কৃতজ্ঞতা সহকারে আসে, সে সর্বোত্তম, কারণ আমি তার প্রিয় এবং সে আমার প্রিয়’
11
Page 8
৬
কৃতজ্ঞতা হল পরিপূর্ণতার প্রকাশ
12
পরিপূর্ণতা কি?
পরিপূর্ণতা পরিতৃপ্তি থেকে একেবারে আলাদা। তুমি যদি 'আমার নেই, আমার নেই' এই ধারণা সহকারে শুরু কর, তুমি কেবল অধিকার করতে থাকবে।
যদি তুমি এই বাস্তবতা সহকারে শুরু কর, 'আমার উপরে বর্ষণ করা হয়েছে' আরে! আমি এখনও বেঁচে আছি, আমার কিডনি (বৃক্ক) কাজ করছে, আমার লিভার (যকৃৎ) কাজ করছে, আর আমার মস্তিষ্ক কথনসক্ষম কমপক্ষে কাজ তো করে! আমার হৃৎপিণ্ডও কাজ করছে, আমার ফুসফুস কাজ করছে। তাই আমার সিস্টেমে খুব জিনিষ কাজ করছে! আমি এখনও জীবিত অনুভব করছি' - তাহলে কোটি কোটি সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়ে যায় যে মুহূর্তে তুমি সজীব অনুভব কর। যে মুহূর্তে তুমি এই দরজার বাইরে যাবে, কোটি কোটি তারা দেখা যাবে, কোটি কোটি সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। একইভাবে যে মুহূর্তে অনুভব কর যে তুমি সদ্য আছ, কোটি কোটি সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে থাকে। কোটি কোটি সম্ভাবনার দ্বারটি হল 'আমি জীবিত' তার প্রথম অভিজ্ঞতা। সেটাকে স্বীকার করে উদযাপন করছ না কেন?
তোমার দেহ যে জীবন ঘটছে তা একটা উপহার। তোমার উপরে অনবরত বর্ষণ করা হয়েছে। তুমি যদি এই ভিত্তিতে খাড়া থাক, তবে তুমি দশ গুণ বেশি ধনসম্পদ সৃষ্টি করতে পার। তুমি পরিকাঠামো সৃষ্টি করতে পার। দ্যাখো, 'আমার নেই' এই মেজাজ থেকে জীবন শুরু করলে তুমি ধনসম্পদ সৃষ্টি করতে পারবে না। তুমি ধনসম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে তা আঁকড়ে থাকবে। যদি তুমি জীবনকে আশীর্বাদপুষ্ট অনুভূতির সাথে শুরু কর, তুমি ধনসম্পদ সৃষ্টি করবে, তুমি ছিনিয়ে নেবে না। দুটোতে বিরাট পার্থক্য আছে। বুঝে নাও। জীবন 'আমার নেই' এই ভাব নিয়ে শুরু করলে তুমি ছিনিয়ে নিতে থাকবে ; তুমি কখনও সৃষ্টি করবে না। তুমি ছিনিয়ে নেবার সুযোগগুলির অপেক্ষায় থাকবে। মাঝে মাঝে আমাকে লোকেরা বলে, 'স্বামীজী, আমি পুরোপুরি
পরিতৃপ্ত' আমি তাদের বলি, 'ও সেটা দারুণ ব্যাপার! যদি তুমি কোন লটারী পাও, কয়েক কোটি টাকা পাও, তুমি কি বলবে তুমি তা চাও না?' তারা বলে, 'না, না, না!' তাহলে তুমি পুরোপুরি পরিতৃপ্ত বলতে কি বোঝাচ্ছ? না। পরিতৃপ্তি থেকে পরিপূর্ণতার দিকে যাওয়া।
Page 9
৯
কার্যকলাপ
14
কারণহিত কৃতজ্ঞতা প্রতিপালন করার জন্য এখানে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল।
প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে বিছানা ছাড়ার আগেই শুধুমাত্র বিদ্যমান থাকার জন্য, এই সুন্দর অস্তিত্বে মানুষ হয়ে বাস করার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করার চেষ্টা কর। এই বোধটি নিয়ে এসো, তুমি যা কিছু উপভোগ করছ তা করতে পারছ কেবল তুমি মানুষ হয়ে জন্মেছ বলেই। তার জন্য কৃতজ্ঞ হবার চেষ্টা কর। কয়েক মিনিট সেই কৃতজ্ঞতা সহকারে দ্বীভূত হও।
সমস্ত দিন ধরে ছোট বা বড় যা কিছু তোমার আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হও।
যখন ভোজন করার জন্য প্লেট না ও, সেই প্লেটটিকে এক উপহার হিসাবে দেখো। সেই প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হলে, খাবারকে উপহার হিসাবে দেখো। যখন ভোজন করার জন্য চেয়ারে বসো, সেই চেয়ারকে এক উপহার হিসাবে দেখো। যখন খাবার পরে হাত ধোও, নিজের আঙ্গুলগুলিকে এক উপহার হিসাবে দেখো।
রোজ রাতে ঘুমাতে যাবার আগে বিছানায় বসো এবং সততার সাথে কেবলমাত্র বিদ্যমান থাকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা নিয়ে এসো। সেটা তোমার সম্পূর্ণ দেহ ও মন দিয়ে অনুভব কর। যদিও তোমার দিনটা খারাপ গিয়ে থাকে, তাও ঠিক আছে। সবকিছু সরিয়ে রেখে কেবল বিদ্যমান থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব কর। সব দিনই তো আর খারাপ হয় না। এমন অনেকেই আছে যাদের দিনগুলি তো তোমার সবচেয়ে বাজে দিনটির চেয়েও খারাপ হয়। তাই সমস্ত বিচার সরিয়ে রাখ এবং কৃতজ্ঞতা অনুভব কর। এই ভাবনা সহকারে ঘুমাতে যাও।
মানুষ চেতনা সহকারে জন্ম হওয়াই তো আমাদের পাওয়া প্রথম আশীর্বাদ। সেখান থেকে আমাদের কৃতজ্ঞতা শুরু হওয়া উচিত।
15
Page 10
কৃতজ্ঞতা হল সবকিছুকে উপহার বলে উপলব্ধি করা
16
কৃতজ্ঞতার অভিজ্ঞতা মিস্ করার প্রধান কারণ হল তুমি সবকিছুকে অবধারিত বলে গণ্য কর। তুমি ভাব মানুষ তোমার জন্য যা কিছু করে তা তোমার জন্মাধিকার। বুঝে নাও, জিনিষগুলি তোমার জন্য না করে মানুষেরা তো অন্যান্যদেরও করতে পারতো। সেইজন্য তোমাকে তাদের ধন্যবাদ দিতে হবে।
16
জীবনে প্রতিটি ছোট জিনিষকে উপহার হিসেবে গ্রহণ কর। যখন তুমি ভোজন করার জন্য প্লেট নাও, সেটাকে এক উপহার হিসেবে দ্যাখো। যখন সেই প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হয়, খাবারকে উপহার হিসাবে দ্যাখো। যখন চেয়ারে বসে খেতে যাও, চেয়ারটাকে এক উপহার বলে দ্যাখো। খাবার পরে হাত ধোবার সময়, আঙ্গুলগুলিকে উপহার হিসাবে দ্যাখো।
16
আমরা কখনও দেখি না যে অনেকের খাবার জন্য প্লেট থাকে না। অনেকের আঙ্গুল দিয়ে খাবার জন্য আঙ্গুল থাকে না! আমরা কি কখনও তা চিন্তা করেছি? আমরা কেবল তাদের দিকে তাকাই যাদের আঙ্গুলে হীরের আংটি আছে। সেটাই সমস্যা। তাই আমরা জীবনে কোনকিছুকেই উপহার বলে অনুভব করি না।
16
যখন আমরা ছোট জিনিষের জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব করতে শুরু করি, আমাদের সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। আমরা আরও পরিশুদ্ধ হই। জীবনের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ মনোভাব এক ভিন্ন স্তরে চলে যায়। স্মরণে রেখো, ছোট জিনিষের প্রতি ধন্যবাদপূর্ণ না হলে বড় জিনিষের জন্য কখনও ধন্যবাদপূর্ণ হবে না।
16
এমনকি বড় জিনিষগুলিকেও অবধারিত বলে গণ্য করা হবে। বর্তমানে আমরা ভাবি আমরা যা কিছু পাই তাতে আমাদের অধিকার আছে। এই মনোভাবেৱ জন্য আমরা অস্তিত্ব বা ঈশ্বরের দয়াশীলতা দেখতে পাই না। অস্তিত্ব থেকে বর্ষিত উপহারগুলির প্রতি আমরা অসংবেদী হয়ে থাকি।
17
আমরা জীবনে ঠিক এই প্রকার অসংবেদী! আমরা সবকিছুকে অবধারিত বলে গণ্য করি। যদি আমরা নিজেদের কৃতজ্ঞতা সহ সংবেদী করি, আমরা কোনকিছুই অবধারিত বলে গণ্য করব না, সেটা আমাদের আঙ্গুল হোক বা আমাদের ধনদৌলত হোক বা অস্তিত্বের সময়োপযোগী দয়াশীলতা হোক। সংবেদনশীলতা ঘটলে প্রতিটি মুহূর্ত অস্তিত্বের ঘটনাগুলির জন্য গভীর বিষয়ে কাটে।
17
Page 11
৯
কার্যকলাপ
18
তোমার ভিতরে ও বাইরে সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল।
সোজা হয়ে বসো এবং তোমার চোখ বন্ধ কর। কেবল তোমার সহস্রার চক্রে কেন্দ্রিত হও ও সেখানে স্বস্তিতে থাক।
সম্পূর্ণ সত্তা সহকারে, এই দেহ প্রদান করার জন্য তোমার মাতাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। স্মরণ কর এবং তোমার সমগ্র সত্তা দিয়ে তাকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
এই জীবন প্রদান করার জন্য এবং তোমার সমস্ত আবশ্যকতার যত্ন নেবার জন্য তোমার পিতাকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
এই পৃথিবীতে তোমার আগমনের সময় যে ডাক্তারেও ও নার্সেরা তোমাকে গ্রহণ করেছিল তাদের কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমার যেখানে জন্ম হয় সেই হাসপাতাল বা বাড়ী যারা নির্মাণ করেছিল তাদের কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমার শৈশবে যারা তোমাকে যত্ন করেছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমার ছোটবেলায় যারা তোমার খাদ্য, কাপড় ও জীবনধারণের জন্য কাজ করেছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমার জীবনে যে বন্ধুরা খুশী ও আনন্দ নিয়ে এসেছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমাকে প্রতিপালন ও যত্ন করার জন্য তোমার ভাই বোন ও অন্যান্য আত্মীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়, সচেতন বা অচেতনভাবে তাঁদের কোন ক্ষতির কারণ হয়ে থাকলে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাও।
যারা তোমাকে শিক্ষা প্রদান করেছে, যারা তোমাকে দু পায়ে দাঁড়াতে সাহায়তা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
প্রয়োজনে যারা তোমাকে আর্থিক সাহায্য করেছে তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমার স্ত্রী বা স্বামীকে প্রেম ও সুরক্ষা প্রদান করার জন্য কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তাদের কোন কাজে আঘাত পেয়ে থাকলে তাদের ক্ষমা কর তোমার জানাসরে বা অজ্ঞানে তাদের কোন প্রকার আঘাত দিয়ে থাকলে তাদের ক্ষমা প্রার্থনা কর।
তোমার আধ্যাত্মিক গুরুগণ যারা তোমাকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর যারা কোন না কোনভাবে তোমার জীবনে সেবা করেছে : মুদী, জঞ্জাল সাফাই কর্মী ইত্যাদি যাদের তুমি অবধারিত বলে গণ্য কর, তাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা, সচেতন বা অচেতনভাবে কোন আঘাত দিয়ে থাকার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চাও।
তোমার শত্রুরা যারা তোমাকে আঘাত দিয়েছে, যারা তোমাকে বলবান ও ক্ষমাশীল বানিয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তাদের কোন প্রকার আঘাত দিয়ে থাকলে তার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও।
তোমার দেহকে ও তার সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে একটি একটি করে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমার মনকে আলৌকিকভাবে কাজ করার জন্য কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
তোমার জীবনে এই সমস্ত জিনিষগুলিকে সৃষ্টি করার জন্য অস্তিত্ব, পূর্ণ ও ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
কৃতজ্ঞতার এই আকাশে কয়েক মিনিট বসে থাক। তোমার সমস্ত সত্তা দিয়ে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।
19
Page 12
১০
কৃতজ্ঞতা? না ধন্যবাদ!
20
সারা জীবন তুমি ‘আপনাকে বা তোমাকে ধন্যবাদ’ শব্দগুলি ব্যবহার কর। শৈশব থেকেই তোমাকে ‘ধন্যবাদ’ বলা শেখানো হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগেই সেটা আমাদের একটা অংশ হয়ে যায়। আমরা শব্দগুলিকে যান্ত্রিকভাবে, ব্যবসায়ের মত ব্যবহার করি। ধন্যবাদ শব্দটিতে যে আবেগ থাকা প্রয়োজন তা কদাচিৎ থাকে : কৃতজ্ঞতা। কার্যত আমরা জীবনকে বিষাক্ত করে তুলি। আমরা বলি : প্রত্যাশা। আমাদের সম্পর্কগুলিতে আমরা ভালবাসা দাবী করি। সমাজে আমরা দাবী করি মনোযোগ। নিজেদের থেকে আমরা ভাল, আরও ভাল কর্মক্ষমতা দাবী করি। আর অন্যরা যা দিতে পারে না, তা আমরা ভগবানের কাছে দাবী করি! আমাদের কাছে যা আছে তার জন্য ধন্যবাদ না দিয়েই আমরা চাইতে থাকি, দাবী করতে থাকি।
20
কৃতজ্ঞতা তোমার ওপরে চাপানো কোনও প্রকার নৈতিকতা নয়। সেটা তোমার নিজের আনন্দের মূল তত্ত্ব! যতক্ষণ তুমি চাইতে থাক, তুমি বাইরের ঘটনাগুলির নিয়ন্ত্রণে থাক। যখম তুমি কৃতজ্ঞতা সহকারে জীবনধারণ কর, কেউ বা কোনকিছুতেই তোমার আনন্দকে স্পর্শ করতে পারবে না।
20
প্রত্যাশা নিয়ে জীবনযাপন করলে, তোমার প্রত্যাশা ও সেগুলির পরিপূর্তার মধ্যে ব্যবধান থাকতেই হবে। যেই মুহূর্তে একটি বাসনা তৃপ্ত হয়, আরও দশটি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। অবশ্যই প্রত্যেকের জীবনে চাওয়া-পাওয়ারই আছে। সবসময়েই কিছু অপূর্ণ বাসনা থাকবে। সেটা স্বাভাবিক। বলতে শুনেছি নিশ্চয়, তুমি গ্লাসকে আধা ভর্তি নাকি আধা খালি দেখতে পছন্দ কর ?
20
যতক্ষণ তুমি জীবনে যা নেই তাতে কেন্দ্রিত থাক, জীবন তোমার শূন্য লাগবে। “আমি……চাই” কথাটা যেন এক ব্ল্যাক-হোল। সেটা নিশ্চিত তোমার জীবনে যা কিছু আছে তা শুষে ফেলবে এবং তোমাকে শূন্যতার অনুভূতি দেবে।
20
কৃতজ্ঞতা জানিও না, কৃতজ্ঞতা হয়ে যাও! জীবনব্যাপী আনন্দের জন্য কৃতজ্ঞতা হল সবচেয়ে অনায়াস পথ।
21
তোমার জীবনে এখন যা চাইছ সে-গুলো চিন্তা কর। তাদের একটি তালিকা বানাও। আরেকটি তালিকা বানাও যা তোমার ইতিমধ্যে আছে। কোন তালিকাটি তোমাকে আনন্দ দেয় আর কোনটা তোমাকে অস্বস্তি দেয়? উত্তর সংশয়াতীত। তাহলে কোন তালিকাতে তোমার কেন্দ্রিত থাকা উচিত? সম্ভবত জীবের তার নিজের আনন্দকে সংরক্ষিত করার বোধ আছে! আমরা তা করি না? ভারতবর্ষে আমাদের একটি সুন্দর ধারণা আছে : এখানে দাতা বলে ‘ধন্যবাদ’! তার কারণ অন্য জন তাকে দান করার সুযোগ দিয়েছে, অন্য জন তার দান গ্রহণ করেছে। ভারতবর্ষে দেওয়াকে পাপ এবং দেওয়াকে সৌভাগ্য বলে গণ্য করা হয়। তাই দাতা গ্রহীতাকে অনুগ্রহ করার জন্য, তার দান গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানপান করে।
21
কিন্তু আমি বলি, যখম তুমি কোনও প্রকার প্রত্যাশা ছাড়া দান কর অথবা গ্রহণ কর, উভয়ই পবিত্র কল্যাণ হয়।
21
করুণা সম্পর্কে শেষগুরুইয়র সুন্দর বলেন : যে দেয় ও যে নেয়, উভয়ই ধন্য। বাস্তবতার সাথে, অস্তিত্বের সাথে সংযুক্তি রাখার একমাত্র উপায় হল কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে। তোমার জীবনের ভিত্তি চাওয়ার ওপরে নাকি কৃতজ্ঞতার ওপরে বানাবে, তা পুরোপুরি তোমারই হতে। যখম তুমি প্রেমময়, প্রবীণমন ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হও, তোমার মধ্য দিয়ে অস্তিত্বের প্রবাহিত হবার বিরাট শক্তিকে তুমি সর্বদাই অনুভব করবে।
21
ধন্যবাদ বলতে হবে না, ধন্যবাদ হয়ে যাও! কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে না, কৃতজ্ঞতা হয়ে যাও! এটাই ‘তথাক’ - জীবন যা দেয় তা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা সহকারে স্বীকার করা। জীবনব্যাপী আনন্দের জন্য কৃতজ্ঞতা হল সবচেয়ে অনায়াস পথ।
21
Page 13
১১
কৃতজ্ঞতা হল পছন্দহীনতার আকাশ
22
তোমার অজ্ঞতাকে বাঁচিয়ে রাখে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঁটকে আমি খুলে ফেলেছি। আমি অজ্ঞতার মূলকে বিনষ্ট করেছি। যদি তুমি সজাগ হও যে কোটি কোটি সম্ভাবনা তোমার স্মৃতিতে আছে, তোমার কোন বাসনাই থাকবে না। তুমি অনাশ্রয় (পতঞ্জলি যোগসূত্র ৪.৬) অভিজ্ঞতা করবে; তার অর্থ সেখানে কেবল পছন্দহীনতা আছে তা নয়, বাসনার সম্ভাবনাও পড়ে যাবে; গভীরে গেলে: তুমি ভবতে পার তা কি করে হবে?
22
যদি আমার সামনে কোটি কোটি সম্ভাবনা থাকে, স্বভাবতই আমার অনেক অনেক বাসনা থাকবে, এটা পছন্দ করা, ওটা পছন্দ করা। না! যখন তোমার সামনে কোটি কোটি সম্ভাবনা থাকে, পছন্দ (choice) করার কোটি কোটি জিনিষ থাকে, হতো তুমি পছন্দহীনতায় (choicelessness) বিশ্রাম করতে চাইবে।
22
পছন্দহীনতায় বিশ্রাম করার নির্নয় তোমার মধ্যে তখন ঘটে যখন তুমি সামনে কোটি কোটি পছন্দ করার জিনিষ দেখো। যখন তোমার সামনে কোটি কোটি সম্ভাবনা থাকে, তুমি নির্নয় নিয়ে নাও যে পছন্দহীনতায় স্বস্তিতে থাকাই সর্বশ্রেষ্ঠ। তুমি অনুভব কর যে পছন্দ করে নেবার সামর্থ্য তোমার যে কোন পছন্দের চেয়ে বেশী ক্ষমতাবান, গুরুত্বপূর্ণ, পরিপূর্ণতা-প্রদায়ক।
22
বোঝ, যেই মুহূর্তে তুমি বাছাবাছি শুরু কর, তোমার পছন্দহীনতায় থাকার স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। যেই মুহূর্তে তুমি বাছো, তুমি একটি ভাষা বেছে নেবে। তুমি তাহলে সেই ভাষার জগতে কাজ করার বন্ধনে পড়ে গেলে। পছন্দ করার আগে পর্যন্ত তোমার কাছে সমস্ত ভাষার স্বাধীনতা ছিল। যেই মুহূর্তে তুমি ভারতে জন্মানো বেছে নাও, তখন তুমি ভারতীয় সমাজের সমস্ত ভাল ও খারাপ জিনিষগুলিতে বাঁধা পড়।
22
বেছে নেবার আগে পর্যন্ত তো তুমি ভারতীয় সমাজের ভাল ও খারাপ জিনিষগুলির উর্ধ্বে ছিলে। বেছে নেবার প্রতিটি কাজ তোমার পছন্দহীন
22
হবার কিছু অংশকে তোমার থেকে সরিয়ে নেয়। তাই যখন তোমার সামনে পছন্দ করার জন্যে কোটি কোটি জিনিষ থাকে, তুমি হতো নির্নয় নাও, 'বাঃ পছন্দহীন হওয়াই সর্বশ্রেষ্ঠ। পছন্দহীন হওয়া হল ছুড়ান্ত অভিজ্ঞতা!' পছন্দহীন মানস অসীম শৃঙ্খলা হবে।
23
বোঝ, পছন্দহীনতায় বিশ্রাম করার চেষ্টা কর। দেখবে, না ছিনিয়েই কতই না ধনসম্পদ তুমি সৃষ্টি করবে ও আকর্ষণ করবে। কৃতজ্ঞতার আকাশে বিশ্রাম কর : 'তোমার ওপরে কতই না বর্ষণ করা হয়, তোমার সামনে কোটি কোটি পছন্দ তোমার সামনে থাকো' যখন তুমি উপলদ্ধি কর যে তোমার সামনে কোটি কোটি পছন্দ আছে, তুমি পছন্দহীন সজাগতায় বিশ্রাম করবে।
23
Page 14
১২
কৃতজ্ঞতা হল বহু সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাওয়া
24
বোঝ, ঠিক কিছু দিন আগে আমরা আমার জীবনমুক্তির দিন উদযাপন করলাম। আমি তোমাদের সরাসরি বলছি। সেদিন (কয়েক বছর আগে যেদিন জীবনমুক্তি লাভ করি) যা ঘটেছিল তা আমি সহজ কথায় বলতে চাই। আমি শনাক্ত করলাম ‘আমি জীবন্ত’ এবং উপলদ্ধি করলাম ‘আমি জীবন্ত’।
24
এটা অতীন্দ্রিয় জগতে, জীবনের ক্ষেত্রে, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, ধনসম্পদ, জ্ঞান, জীবনমুক্তি ও সমৃদ্ধতার ক্ষেত্রে হাজার হাজার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যা তুমি জীবনের সার অথবা সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজন বলে অনুভব কর, অবশেষে সমস্ত ক্ষেত্রগুলিতে কোনকিছু ছাড়াই আনন্দিত হওয়া যায়।
24-25
আমি হঠাৎ অনুভব করলাম প্রতিটি ক্ষেত্রে আমার জন্য হাজার হাজার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হচ্ছে, কারণ আমি জীবন্ত। আমি শুধুমাত্র শনাক্ত করলাম আমি জীবন্ত এবং উপলদ্ধি করলাম হাজার হাজার সম্ভাবনা আমার সামনে খুলে যাচ্ছে, কোটি কোটি সম্ভাবনা আমার সামনে উন্মুক্ত হচ্ছে, আর আমি আনন্দ উদযাপন করতে লাগলাম।
25
আমি জীবন্ত, সেটা শনাক্ত করা হল সৎ - সত্য। আমার সামনে কোটি কোটি সম্ভাবনা আছে তা শনাক্ত করা হল চিৎ - চেতনা। ‘ওঁওঁ’ বা ‘বা:’ উদযাপন করা হল আনন্দ। ব্যাস। আমি সেদিন সচ্চিদানন্দ, সচ্চিদানন্দের ঝলক অভিজ্ঞতা করলাম। সেটাকেই আমি বলছি পরমজ্ঞানালোক বা জীবনমুক্তি। আর তুমি আজ নিশ্চয় নিয়ে ফেল যে তুমি শনাক্ত করবে যে তুমি জীবন্ত। তুমি জীবন্ত, তার অর্থ কি? তাহলে হাজার হাজার সম্ভাবনা তোমার সামনে খুলে যাচ্ছে। হাজার হাজার কি, লাখ লাখ। লাখ লাখ নয়, কোটি কোটি সম্ভাবনা তোমার সামনে উন্মুক্ত হচ্ছে। তুমি এক ভাল পিতা হতে পার অথবা খারাপ পিতা হতে পার। তুমি এক ভাল ভাই হতে পার বা খারাপ ভাই হতে পার। তুমি এক ভাল বন্ধু হতে পার বা খারাপ বন্ধু হতে পার। তুমি স্বাস্থ্যবান হতে পার অথবা অসুস্থ হতে পার। কিন্তু সবই তো সম্ভাবনা।
25
তোমার সামনে বহু সম্ভাবনা উন্মুক্ত হচ্ছে। উদযাপন করার সেটাই যথেষ্ট কারণ। বুঝে নাও, যখন তুমি উপলদ্ধি কর যে কোটি কোটি সম্ভাবনা তোমার সামনে উন্মুক্ত আছে, তুমি বসে আনন্দে যাবে।
25
Page 15
১৩
তোমার আবেগগুলি তোমার ডিএনএ-কে নবরূপ দিতে পারে
26
তোমার চিন্তা ও আবেগগুলি তোমার ডিএনএ পরিবর্তিত করতে পারে। বৈজ্ঞানিক ড্যানিয়েল ইউইটার এবং তার হার্ট কোহেরেন্স টিম নাকি প্রমাণ করেছে যে মানুষের আবেগগুলি তোমার ডিএনএ-কে নবরূপ দিতে পারে এবং তোমার রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতার উন্নতিসাধন করতে পারে। আবার বিজ্ঞানী ও গবেষক গ্রেগ ব্রাডেন প্রমাণ দিয়েছে কিভাবে তোমার আবেগ তোমার ডিএনএ পরিবর্তিত করতে পারে। কৃতজ্ঞতা, প্রেম ও তারিফ করার ক্ষেত্রে ডিএনএ নাকি স্বস্তিতে থাকে ও আরও লম্বা হয়। Balancedexistence.com এমন আরও একটি ওয়েবসাইট যা এই প্রকার ডিএনএ বিজ্ঞান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করেছে যে আবেগের পরিবর্তন ডিএনএ-র আকার পরিবর্তিত করতে পারে। তারা সিদ্ধান্তে আসে, আবেগ আমাদের শুল ডিএনএ-কে পরিবর্তিত করতে পারে এবং আমরা পরিবর্তিত হলে আমাদের চারপাশে বিশ্বও পরিবর্তিত হয়। তাহলে বোঝা যায়, আবেগগুলি আমাদের ডিএনএ পরিবর্তিত করতে পারে এবং যখন আমরা পরিবর্তিত হই আমাদের চারপাশে বিশ্ব পরিবর্তিত হয়। আমি সর্বদা লোকেদের বলি, 'আনন্দময় হও, ধনসম্পদ তোমার
26
দিকে আকর্ষিত হবে। ভাল জিনিষ, সঠিক পরিস্থিতি ও সঠিক ঘটনা আকর্ষিত করবে। তোমার চারপাশে বিশ্ব পরিবর্তিত হবে।' বিজ্ঞানীরা একই কথা ভিন্ন ভিন্ন শব্দে বলছে। বোঝা, এমনকি রোগগুলিও তোমার আবেগের সাথে সংযুক্ত। যদি মধুমেহতে (ডায়াবেটিস) ভুগছ, তা সেই কষ্টের সাথে সংযুক্ত বাসনা ও চিন্তাগুলি তোমাকে পরিপূর্ণ করেছে না। উচ্চ রক্তচাপের জন্য ভয় দায়ী। অনবরত ভয় রক্তচাপ বাড়ায়। যদি তোমার বেঁচে থাকার সহজ প্রবৃত্তিকে অনবরত চ্যালেঞ্জ করা হয়, তোমার রক্তচাপ বেড়ে যাবে। অপরাধবোধের সংকুচিত চিন্তায় অনবরত কষ্ট পাওয়া থেকে আর্থরাইটিস হয়। যদি তুমি শারীরিক, মানসিক ও আবেগের বেদনার স্মৃতিগুলির জন্য কষ্ট পাচ্ছ, তা তোমার সন্ধ্বতা কে প্রভাবিত করে; তুমি জীবনে নিজেকে সম্প্রসারিত করতে অসমর্থ হও। বোঝ, কিছু আবেগ সংক্রান্ত বেদনা তোমার মধ্যে বেশী করে বহন করলে তোমাকে সম্প্রসারিত হতে বাধা দেয়। তাই মানুষের প্রধান রোগগুলির সাথে কোন না কোন আবেগ সংযুক্ত থাকতে পারে। তোমার আবেগ পরিবর্তন করলে তোমার ডিএনএ পরিবর্তিত হয় এবং তাতে তোমার রোগ নিরাময় হতে পারে।
27
Page 16
১৪
ধ্যানে কৃতজ্ঞতা
28
যখন তুমি অনবরত ধ্যান কর, তুমি কোমল ও ভেদ্য হও। তুমি বহুরন্ধ্র, সংবেদনশীল ও সজাগ হও। তুমি দেখবে যে তোমার চেতনা প্রতিটি মুহূর্তে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তোমার চেতনা তোমার ভাবনা ও কার্যসকল নির্ধারণ করে। সেইজন্যই বারংবার আমি তোমাদের ধ্যান করতে বলি।
সেটা তোমার চেতনাকে বিশুদ্ধ করবে। তোমার কাছে জিনিষগুলি স্পষ্ট হবে। তুমি অনুভব করতে সমর্থ হলে যে তোমার কেন্দ্র মন থেকে হৃদয়ে সরে যাচ্ছে। যখন তোমার মন ও ‘তুমি’-র মধ্যে ব্যবধান বাড়ে, তোমার সমগ্র সত্তা এক ভিন্ন অনুভূতি সহ স্পন্দিত হতে শুরু করে। এই অনুভূতি হল এক গভীর পরিপূর্ণতা, পূর্ণের প্রতি কারনরহিত এক গভীর প্রেম, আনন্দ ও উৎফুল্লতার এক ক্রমাগত অনুভূতি।
নকারাষ্মক চিন্তায় ও অসন্তুষ্ট থাকার জন্য আগে তুমি যত শক্তি খরচা করেছ তা উন্মোচিত হয় এবং তুমি আনন্দিত ও সুসংহত অনুভব কর এবং শক্তিতে ভরে যাও। কৃতজ্ঞতা তখন তোমার প্রার্থনা হয়ে যায় এবং ‘ধন্যবাদ’ হয়ে যায় তোমার মন্ত্র।
ঘুমাতে গেলে এক কৃতজ্ঞতার ভাবনা নিয়ে যাও যে আরও একটি দিন অস্তিত্বের সাথে কাটালে। জেগে উঠলে আরও একটি দিন অস্তিত্বের সাথে কাটাবার ভাবনা সহকারে জাগো! এটাই সবচেয়ে সহজ এবং সর্বাধিক ফলপ্রসূ ধ্যান যেটার অভ্যাস তোমার সত্তাকে কৃতজ্ঞতা বানিয়ে ফেলতে পার।
যখন প্রত্যেকে কৃতজ্ঞতা অনুভব করে ও বিকিরণ করে, কোন হিংসা, ঈর্ষা ও লোভ থাকবে না।
28
আমি তোমাদের বলি, তোমার সত্তায় কৃতজ্ঞতা অনুভব করে অন্তর ক’রে তা বিকিরণ করলে, তুমি পূর্ণপ্রভাবে পরিবর্তন নিয়ে আসতে পার। সবার মধ্যে কৃতজ্ঞতা নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার সজাগতাকে বিস্তার ক’রে সমস্ত আত্মবাদ, আত্মশ্লাঘ্য, নারদ্র ইত্যাদি নির্মূল করা যেতে পারে।
29
যদি সকাই কৃতজ্ঞতা অনুভব করে ও বিকিরণ করে, কোন হিংসা, কোন ঈর্ষা, কোন লোভ থাকবে না। বিশ্বের সমস্ত নকারাষ্মকতার সমস্ত মূলকে এই একটি অনুভূতি দ্বারা ধ্বংস করা যায়, কারন সমস্ত নকারাষ্মকতার কারনগুলি এর সাথে মিলিয়ে যাবে।
সেটাই কৃতজ্ঞতার সৌন্দর্য।
29
Page 17
১৫
কৃতজ্ঞতা হল তোমার দেহকে ধন্যবাদ জানানো
30
প্রতিটি মানুষ ঈশ্বরের এক মহৎ শিল্পকর্ম। সেইজন্য কোন দেহ দেখতে এক নয়। ঈশ্বর এক ইঞ্জিনীয়ার নন। তিনি শিল্পী। সেইজন্য আমাদের প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন দেখতে। তিনি ইঞ্জিনীয়ার হলে তিনি আমাদের একই ছাঁচে ফেলতেন, কারখানায় উৎপাদনের মত! তিনি আমাদের অদ্বিতীয়ভাবে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমরা কখনও অনুভব করি না যে আমরা যথেষ্ট সুন্দর। আমরা অবিরাম নিজেদের অন্যের সঙ্গে তুলনা করি এবং অন্যের দিকে তাকাই। আমরা আমাদের দেহকে কখনও সুন্দর বলে অনুভব করাই না। দেহ সম্পর্কে আমাদের চিন্তাগুলি দ্বারা আমাদের দেহ প্রভাবিত হয়। প্রতিটি কোষ আমাদের চিন্তা ভাবনাগুলিতে সাড়া দেয়। যদি আমরা আমাদের দেহের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করি, আমাদের দেহ স্বাস্থ্যের উন্নতিসাধন করে সাড়া দেয়। যদি আমরা দেহকে ঘৃণা করি, দেহ অসুস্থতা সহকারে সংকুচিত হয়ে সাড়া দেয়। এটা যেন অন্যের ওপরে আমাদের চিন্তার প্রভাব। যদি আমরা লোকেদের উৎসাহিত করি, তারা আরও ভাল কাজ করে। কেবল তোমার এই দেহের জন্যই তুমি এখানে আসতে পেরেছ ও আমার কথা শুনতে সমর্থ হচ্ছ। আর তুমি যে আমার এই কথাগুলি পড়ছ তাও তো তোমার দেহেরই দৌলতে। তাহলে তুমি কি করে দেহকে অবমাননা কর বা তাকে অবধারিত বলে মনে নাও? যদি চারিদিকে তাকিয়ে দেখো, দেখবে অনেকেই হাত বা পা ছাড়াই জন্ম নিয়েছে। কেউ দৃষ্টিহীন হয়ে জন্ম নিয়েছে বা হৃদরোগনায় অন্ধ হয়েছে। আমাদের তো সবকিছুই আছে এবং তাও আমরা এগুলিকে অবধারিত বলে গণ্য করি। কখন কখন সুস্থ দেহের মানুষের চেয়ে এক বিকলাঙ্গ ব্যক্তি দেহের প্রতি অনেক বেশী কৃতজ্ঞ থাকে। বিকলাঙ্গ ব্যক্তি জানে দেহের একটি অংশ হারালে কি হয়, তাই সে স্বতঃস্ফুর্তভাবে দেহের অন্য অংশগুলির প্রতি কৃতজ্ঞ হয়।
30
প্রতিটি মানুষ ঈশ্বরের এক মহৎ শিল্পকর্ম। সেইজন্য কোন দেহ দেখতে এক নয়। ঈশ্বর এক ইঞ্জিনীয়ার নন। তিনি শিল্পী। তোমার দেহ তোমাকে শ্রমণ করতে পারে! প্রতিটি কোষ তোমার চিন্তা ভাবনাতে সাড়া দেয়। যখন তুমি তোমার দেহের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, দেহ সুস্থ্য বিকিরণ করে সাড়া দেয়। দেহকে অগ্রাহ্য করলে তা অসুস্থতা সহকারে সংকুচিত হয়। যখন তুমি দেহের কাছে নিবিড়ভাবে প্রার্থনা কর, তা তোমার প্রার্থনা ও অনুযোগে সাড়া দেয়। দেহের বৃদ্ধিসত্তা তার নিজ-নিরাময়ের ক্ষমতা সক্রিয় করবে।
31
Page 18
১৬
কার্যকলাপ
32
কৃতজ্ঞতা সহকারে সুস্বাস্থ্য বিকিরণ করার জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল।
প্রতিদিন সকালে জেগে ওঠার পরেই এটাকে অভ্যাস করতে হবে। বিছানা থেকে না উঠে, চোখ না খুলে তোমার দেহকে প্রত্যক্ষ কর। নিজের দেহকে যতটা স্পষ্টভাবে পার প্রত্যক্ষ কর।
তারপর তোমার দেহের প্রতিটি অংশকে গভীর প্রেম ও কৃতজ্ঞতা সহকারে স্পর্শ কর। একটার পর একটা অংশকে অনেক প্রেম সহ স্পর্শ কর।
তুমি তোমার দেহকে কখনও প্রেম সহকারে স্পর্শ কর না ! কখনও ভেবো না যে তোমার দেহ তোমার স্পর্শ ও প্রেম অনুভব করতে পারে না।
না!
তোমার দেহ একটি সচেতন বুদ্ধিমতা যেটা তোমার প্রতি অবিশ্রাম সাড়া দিচ্ছে।
কৃতজ্ঞতার এই মনোভাব তোমার সাথে সারাদিন ধরে বহন কর। তোমার প্রতিটি দৈনন্দিন কার্যকলাপে তোমার দেহের যে অংশগুলি কার্য করছে, সেগুলির প্রতি সজাগ থাক। যখন হাঁটছি নীরবে তোমার পা দুটিকে তোমার ভার বহন করার জন্য, তোমাকে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ দাও। যখন তুমি কাজ করছ, খাচ্ছ, শ্বাস করছ, পড়ছ, সজাগ হও যে তোমার দেহ তোমাকে কতই না সহায়তা করছে।
প্রতিটি মুহূর্তে এই ভাবনা তোমার মধ্যে সজীব রাখ, যতক্ষণ না তুমি ঘুমাতে যাচ্ছ।
কয়েকদিনের মধ্যেই তুমি তোমার মধ্যে দুটি সুন্দর জিনিষ ঘটতে লক্ষ্য করবে। প্রথম, তুমি তোমার শরীরে এক নতুন মাধুর্য লক্ষ্য করবে। তোমার দেহ আরও সুন্দর দেখতে শুরু করবে এবং স্বাস্থ্য ও সৌষ্ঠব বিকিরণ করবে। দ্বিতীয়, যখন তুমি অবিশ্রাম দেহকে লক্ষ্য কর, তুমি ধীরে ধীরে উপলব্ধি কর যে তোমার দেহ ‘তুমি’ নয়!
33
এখন পর্যন্ত তুমি তোমার দেহ সম্পর্কে অখশী কারনে তোমার দেহকে ‘তোমার’ ভাব। তোমার দেহে ঘটে পরিবর্তনগুলিকে তুমি ‘তোমার’ পরিবর্তন ঘটছে বলে ভাব। সেইজন্য তুমি দেহকে তরুণ, সুন্দর ও অটল রাখতে সংগ্রাম কর। তুমি তোমার দেহকে স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হতে, সাবলীলভাবে বৃদ্ধ হতে দাও না।
যখন তুমি জান যে তুমি তোমার দেহ থেকে আলাদা, তুমি তোমার দেহের ওপরে নির্ভরশীল না হয়ে দেহকে কদর করবে ও উপভোগ করবে। তুমি নিজেকে দেহ থেকে মুক্ত কর এবং দেহকে তোমার থেকে মুক্ত কর!
Page 19
১৭
কৃতজ্ঞতা হল অপরকে শ্রদ্ধা করা
34
প্রথমে যে জিনিষটা বুঝতে হবে তা হল কেউ শুধুমাত্র তোমাকে সেবা করার জন্য জন্ম নেয় নি। প্রতিটি মানুষ আমাদের মতই জীবনের পথে আছে। দয়াশীল হবার জন্য ও প্রশংসিত তারা আমাদের জন্য কিছু জিনিষ করে। তোমার সেবা করে বা তোমাকে নানাকিছু যোগান দিয়ে বা তোমার যত্ন করে তোমার স্ত্রী বা স্বামীও এক অতী দয়ার কাজ করছে। অবশ্যই বিবাহ দেওয়া-নেওয়া দায়ী করে কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীকে কখনও অবধারিত বলে গণ্য করা যায় না। তাদের ওপর আমাদের জন্মাধিকার আছে বলে চিন্তা করা যায় না। বিশেষ করে অংশীদারদের মধ্যে অনেক কিছুই অবধারিত বলে গণ্য করা হয়। প্রতিটি মানুষের আমাদের জীবনে সমান অবদান। কাউকে অবধারিত বলে গণ্য করা উচিত নয়। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জন্য কৃতজ্ঞতা থাকতে হবে। আমি সর্বদা লোকেদের বলি, তুমি ও তোমার স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে অথবা অন্যান্য সম্পর্কতা ঠিকঠাক না চলার জন্য বেড়িয়ে আসতে হলে, সেটাও কৃতজ্ঞতা সহকারে করতে হবে। প্রতিটি সম্পর্কতা তোমার জীবনে ভাল কিছু নিয়ে আসে। প্রতিটি সম্পর্কতাই শুধু সমস্যা হল আমরা ভাবি কিছু মানুষ আমাদের আঘাত করার জন্য অপেক্ষা করেছে। এরকম নয়। আমাদের অসুরক্ষার ভাবনা আমরা অন্যের ওপর অভিক্ষেপ করি। আমাদের একটি স্ব-প্রতিরক্ষা পদ্ধতি আছে যেটা কারণহিতভাবে সমস্ত সম্পর্কতাতে কার্য করে। অন্যরা আমাদের আঘাত করার অপেক্ষায় আছে - এই চিন্তার ওপর সেটা চালিত। এই পদ্ধতিটি কৃতজ্ঞতা প্রকটিত হলে মিলিয়ে যাবে। নির্দিষ্ট কিছু পথে প্রতিপালিত হবার জন্য বহু মানুষ তাদের পিতামাতা ও সমাজের ওপর অতিকতঞ্জ হয়ে থাকে। আমাদের দেওয়া কৃতজ্ঞতার ধ্যানগুলির মধ্যে একটিতে আমরা মানুষটিকে প্রথমে তার মাতাপিতা ও
34
যারা তাকে মানসিক গঠন ও মনোভাব প্রদান করেছে তাদের কৃতজ্ঞতা অর্পণ করতে বলি। বোঝো, তোমার এখনের বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তুমি বুঝতে পারছ, আগে তুমি সঠিক মানসিক গঠন পাও নি। তুমি এখন নতুন এক মানসিক গঠনে রূপান্তরিত হবার চেষ্টা করছ। সেটা একদমই ঠিক আছে। কিন্তু তোমার আগের মানসিক গঠন প্রদানকারীদের অভিসম্পাত করা ঠিক নয়। তোমাকে যারা এই দেহ ও মন দিয়েছে, তাদের কোনভাবেই আমাদের বর্ষিত বা বিমিশ্রিত করা ইচ্ছা ছিল না। তারা সর্বশ্রেষ্ঠ বলে যা জানত, তাই তারা কেবল সেগুলিই আমাদের দিয়েছে, ব্যস। আমরা সেগুলির আরো উন্নতি যাচ্ছি কারণ আমরা আরো বুদ্ধিদত্তা সম্পন্ন হয়েছি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, তাহলেই যথেষ্ট। যখন তুমি তোমার সম্পর্কতায় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে, তুমি কখনও তাদের অধিকার করতে চেষ্টা করবে না। তুমি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবে তারা কত সুন্দর এবং সেখানেই ছেড়ে দেবে। অধিকার করার প্রবণতা তখন ঘটে যখন তুমি অন্যান্যজনকে এক স্বতন্ত্র ব্যক্তি না ভেবে বস্তু বলে মনে কর। কৃতজ্ঞতা সহকারে তুমি ব্যক্তিটিকে তার নিজের আকাশে থাকতে দেবে।
35
যখন তুমি তোমার সম্পর্কতায় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে, তুমি কখনও তাদের অধিকার করতে চেষ্টা করবে না।
35
Page 20
১৮
কার্যকলাপ
36
অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল।
সচেতনভাবে নির্বায় নাও, পরের কয়েক দিন যখনই কোন মানুষ বা পরিস্থিতির সাথে মিথষ্ক্রিয়া করতে হয়, যখনই কিছু বল বা কর, তা সেই পরিস্থিতি যাই হোক না কেন - তুমি পবিত্র প্রেম ও কৃতজ্ঞতা সহকারে সাড়া দেবে। শুধুমাত্র দুই দিনের জন্য নির্বায় নাও, এতদিন যেভাবে প্রতিক্রিয়া করতে তা করবে না। নির্বায় নাও, তুমি কেবল পবিত্র নির্বিমান প্রেম সহকারে সাড়া দেবে।
দেখবে তোমার সমস্ত সম্পর্কগুলি আরও ভাল হবার দিকে যাচ্ছে। স্বতঃস্ফুর্তভাবে তুমি প্রতিটি মানুষকে অস্তিত্বের এক অনন্য সৃষ্টি হিসাবে, ঐশ্বরিকতার প্রতিফলন হিসাবে দেখতে শুরু করবে। তোমার চারপাশে সবকিছু ও সবার সাথে তুমি গভীর সংযুক্তি অনুভব করবে।
তুমি তোমার চারপাশে সবকিছুর প্রতি অসাধারণ করুণা অনুভব করবে। যদি তুমি আগে একটুতেই রেগে যেতে, দেখবে তোমার ক্রোধ মিলিয়ে যাচ্ছে। কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে যে সমস্ত শক্তি নকারাত্মক আবেগে বিনিয়োগ করা হয়েছিল তা উন্মোচিত হবে। তুমি করুণাময় ও প্রেমী হবে।
37
যখন তুমি তোমার সত্ত্বায় মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে, তুমি কখনও তাদের অধিকার করতে চেষ্টা করবে না। তুমি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবে তারা কত সুন্দর এবং সেখানেই ছেড়ে দেবে।
Page 21
১৯
কৃতজ্ঞতা তোমাকে বেদনার উর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে
38
আমার হাতভাঙ্গা এবং সেটা থেকে কি শেখার আছে সে সম্পর্কে কিছু বলব। যে শিক্ষার মধ্য দিয়ে আমি গেছি ও তোমরা সবাই যা শিখতে পার, শিখে নাও। প্রথমে যে প্রশ্ন সবাই করে তা হল, ‘স্বামীজী কেন ঘোড়ায় চড়তে গেলেন? কি দরকার ছিল?’ দ্যাখো, জীবন এই নয় যে এই বিচ্ছিন্ন থেকে উঠতে হবে, এই মেকেতে হাঁটতে হবে এবং এই গাড়িতে চড়তে হবে, এই অফিসে যেতে হবে, ফিরে এসে এই বিচ্ছিন্নায় শুয়ে পড়তে হবে।
জীবন হল শিক্ষা। তাই আমি ভাবলাম ঘোড়ায় চড়া শিখি না কেন। আর যাই হোক না কেন, অশ্বারোহণ, সাঁতার এগুলো তো আমাদের জন্মসূত্রে আছে। সেটাকে জাগ্রত করলে তা প্রকাশিত হবে। তাই আমি ভাবলাম, ‘চেষ্টা করা যাক না কেন?’ সেইজন্য আমি চেষ্টা করেছিলাম। অশ্বারোহণ ঠিকই চলছিল। রোজ তা ঠিকই চলছিল এবং প্রতিদিন আমি আশ্রমের চারিদিকে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরতাম; সকালে ও সন্ধ্যায়। নির্দিষ্ট সেই দিনটিতে আশ্রমে জোরে গান চালানো হচ্ছিল এবং সকল আশ্রমবাসীরা জোরে জোরে উল্লাসধ্বনি করতে আরম্ভ করল। তাই ঘোড়াটি একটু উত্তেজিত হল এবং আমি ঘোড়া থেকে পড়ে গেলাম।
যেই মুহূর্তে পড়লাম, আমি ভাবলাম, ‘ওহ! আশ্রমবাসীরা যেন কষ্ট না পায়’ আমার চারপাশে সমস্ত ব্রক্ষচারী ও আশ্রমবাসীরা যেন কষ্ট না পায়। প্রথমেই আমি বললাম, ‘আমি ঠিক আছি। উদ্বিগ্ন হও না।’ উঠে পড়ার পরে আমি আমার হাত ভেঙেছে দেখলাম এবং তাদের বললাম, ‘হয়ত হাত ভেঙেছে। চল হাসপাতালে যাওয়া যাক এবং কি করতে হবে করা যাক।’
আমরা হাসপাতালে গেলাম। আমি সকাল সাতটায় পড়ে গিয়েছিলাম এবং আড়াইটার সময় তারা সার্জারী করল। সেই সময় পর্যন্ত আমি
ব্যাথা বন্ধ করার জন্য কোন ওষুধ বা এ্যানেস্থেসিয়া নিই নি। ভাঙ্গাটা দু জায়গায় হয়েছিল। হাড়গুলো টুকরো টুকরো হয়েছিল। ডাক্তাররা অবাক হয়েছিল। তারা বারবার বলছিল, ‘কোন ব্যাথা নেই বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন স্বামীজী?’ আমি বললাম, ‘আমি জানি না।’ প্রকৃতপক্ষে হাতভাঙ্গাতে আমার দেহে কোন প্রভাব বা সমস্যা হয় নি।
কোন কষ্ট ছিল না এবং কোন বেদনাও ছিল না। ডাক্তাররা বলছিলে অসন্তব। ডাক্তাররা বলছিল যে অসহ্য ব্যাথা নিশ্চয় হচ্ছে কারণ একটা হাড় চামড়া ছিঁড়ে বার হয়ে এসেছিল। হাড় দুই জায়গায় ভেঙেছিল ও তিন চার টুকরার সাথে রক্ত পড়ছিল। তুমি প্রশ্ন করতে পার, ‘ব্যাথা নেই কেন?’ দ্যাখো কোন কষ্ট ছিল না। আমি পিছনে ফিরে তাকিয়ে চিন্তা করি নি যে কেন ঘোড়ায় চড়তে গেলাম। আমি ঘোড়ায় চড়া এড়িয়ে যেতে পারতাম অথবা এই ব্রক্ষচারীরা গান বাজানো এড়াতে পারত। আমি সে সম্পর্কে কিছুই ভাবি নি অথবা কি হয়েছিল তা পিছনে ফিরে তাকিয়ে প্রশ্ন করিনি ‘কেন?’।
সময়-চক্রের (অতীত, বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎ) দিকে ‘কেন’ প্রশ্ন করে তাকাতে নেই। সময়চক্রের দিকে মননাত্মদত্তের মেজাজে কখনও তোমার তাকানো উচিত নয়। আমি মননাতদত্ত করি না। জীবন এই প্রকার, ব্যস। হয় সময়কে গভীর সম্পূর্ণ শিকৃতি অথবা কৃতজ্ঞতা সহকারে দেখ। আমি কৃতজ্ঞতা সহকারে তাকিয়েছিলাম। ঈশ্বর সৌভাগ্যবশত মাঝে কোন আঘাত লাগে নি। পিঠে কোন আঘাত লাগে নি। সৌভাগ্যবশত ঘোড়া থেকে পড়ে গেলে লোকেরা মাথায় চোট পায়। তারা কাঁধের হাড় ভাঙলে। সেরকম তো কোন আঘাত লাগে নি?’ তাই আমি তো সময়ের দিকে কৃতজ্ঞতা সহকারে তাকিয়েছিলাম।
জীবনের দিকে মননাতদত্তের মেজাজে তাকাবে না। আমি ভাবতে পারতাম, ‘ওহ! এরা তো গান এড়িয়ে যেতে পারত। এরা না চাঁচালে, উল্লাসধ্বনি না করলে ঠিক থাকত। আমি ঘোড়ায় না চড়লেই হত। এই বয়সে আমার ঘোড়ায় চড়ার কি প্রয়োজন? কে আমাকে ঘোড়ায় চড়তে বলেছিল?’
Page 22
ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্যে কৃতজ্ঞতা
40-41
পাশ্চাত্য থেকে সুন্দর যে জিনিষগুলি আমি শিখেছি তার মধ্যে একটি হল ধন্যবাদ জ্ঞাপন। বুঝে নাও, আমি উন্মুক্ত ও সরল; যা কিছুই বলা বা করা হোক না কেন, যে কোনভাবেই হোক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের ধারণাটি ভারতবর্ষে ছিল না, এই ধারণাটি ভারতে এতটা গভীরে ছাপ ফেলে নি। কেবল পাঁচালো এই ধন্যবাদ জ্ঞাপনের অনুষ্ঠানকে আমি বিশেষ করে বিরাট গুরুত্ব ও শ্রদ্ধা জানাতে দেখলাম।
হ্যাঁ, অনেক সুন্দর জিনিষই আমাদের শেখার আছে। তাই এই দেশ, এই প্রথা থেকে আমার শেখা মহান জিনিষগুলির মধ্যে এটি একটি। এমনকি সৌখিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করাকেও এই সংস্কৃতিতে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সেটা দরকার।
বৈদিক প্রথাতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অথবা কৃতজ্ঞতা এক আধ্যাত্মিক গুণমান হয়ে গেছে। সেটা কখনও সামাজিক গুণমান ছিল না। সেটা ছিল এক আধ্যাত্মিক গুণমান হিসাবে। কিন্তু এখানে (পাশ্চাত্যে) আমি দেখলাম, সেটা দৈনন্দিন জীবনে স্পন্দনশীল ও সজীব। এটি একটি সামাজিক গুণমান এবং আমাদের তা শেখা উচিত ও আয়ত্ত করা উচিত।
হাজার হাজার উপায়ে তুমি জীবনের প্রতি ‘কেন’ প্রশ্ন ওঠাতে পার। কিন্তু জীবনের প্রতি ‘কেন’ প্রশ্ন সর্বদাই দুঃখকষ্ট নিয়ে যায়। কেন, যদি ও স্ত্রী (why, if and wife)! তিনটিই দুঃখকষ্ট নিয়ে যায়। ‘কেন’ কোন উত্তর দেয় না। তা কেবল বেশী, আরো বেশী দুঃখকষ্ট প্রদান করে।
এসো! এই একটি ধারণা সহকারে কয়েক মিনিট বসো, ‘আমাকে জীবনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা অথবা সম্পূর্ণ স্বীকৃতি সহকারে এগোতে দাও। জীবনকে কোন ‘কেন’ নয়।’
হয়ত আমি বলতে পারি এটি একপ্রকার অবিশ্রাম ধ্যান, প্রাত্যহিক ধ্যান। যখনই তুমি ‘আপনাকে বা তোমাকে ধন্যবাদ’ কথাটা বল, সেটা যেন এক প্রাত্যহিক ধ্যান, তোমাকে স্মরণ করানো কৃতজ্ঞতা কিভাবে আধ্যাত্মিক অভ্যাস হয়ে যায়। আজ একটা মজার এবং অতীন্দ্রিয়-সমন্বীয় ঘটনা ঘটে। পূজাবিধি ও যজ্ঞের সময়ে আমি গভীর নীরবতা ও সমাধিতে ছিলাম। আমি দেখলাম আমার পিছনে বসা দুই এক জন একটু অস্বস্তিতে আছে। অবশ্য আমি শারীরিকভাবে দেখি নি, যেহেতু সমাধিতে ছিলাম আমি পরিষ্কার দেখতে পেলাম আমার আশেপাশে লোকেদের মনে কি চলছে।
Page 23
কৃতজ্ঞতা হল মনকে ছাড়িয়ে যাওয়া
২১
তুমি ও অস্তিত্বের মাঝে সর্বদা তোমার মন দাঁড়িয়ে। মন তোমাকে অস্তিত্বকে শুনতে, দেখতে, অনুভব করতে ও অস্তিত্বকে আবেগভরে গ্রহণ করতে বাধা দেয়। একবার তুমি তোমার মনকে ছাড়িয়ে গেলে অস্তিত্বের সৌন্দর্য দেখলে, কৃতজ্ঞতা তোমার সত্তার প্রার্থনা ও আনন্দ হয়ে যায়! তুমি মুক্তি ও ভিত্তরতম আনন্দ উপভোগ করবে!
যখন তুমি মনের নীরস যুক্তি ফেলে দাও, তুমি এক নদীর মত প্রবাহিত হবে - শ্রোতের সাথে পছন্দহীনভাবে, অনায়াসে, আনন্দপূর্ণ হয়ে। তুমি তখন তোমার ভূমিকা নির্বাহ করবে এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবে। তুমি বুঝবে তুমি এক সুন্দর নাটকের অংশ, যেখানে তুমি পরিচালকের প্রতি যত বেশী সংবেদী হবে, তোমার ভূমিকা তত বেশী ভাল করে নির্বাহ করতে পারবে!
যখন তুমি শ্রোতের বিপরীতে যাও, তোমাকে প্রচেষ্টা ও বাঁচাবাঁচি করতে হবে। শ্রোতের সাথে গেলে তোমাকে কোন প্রচেষ্টাই করতে হবে না, তুমি ক্লান্ত হবে না, তুমি হতাশ হবে না; তুমি কেবল প্রভাবমান হয়ে হালকা অনুভব করবে। তখন সবকিছুই সুন্দর প্রতীয়মান হবে।
আমাদের চারিদিকে সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব করার পরিবর্তে, আমরা সর্বদা প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা করছি। অস্তিত্বের সাথে আমাদের এই সংযুক্তিকে আবার ফিরে পেতে হবে। কৃতজ্ঞতা সেই হারানো সংযুক্তিকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। তা তোমার শিকড়কে পুনরায় খুঁজে বার করতে সাহায্য করতে পারে। তা তোমাকে প্রকৃতি ও অস্তিত্বের সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করতে পারে।
Page 24
22
কৃতজ্ঞতা তোমাকে 'কেউ না' বানায়
44
কেউ আমাকে একবার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, 'আপনি কেন ওখানে আছেন, আর আমরা কেন এখানে?' আমি তাকে সুন্দরভাবে যা বলেছিলাম, সেই কয়েকটি ধারণা প্রসঙ্গে তোমাকে কৃতজ্ঞতা সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেবে যে কোথায় আমরা মিস্ করি ও কি মিস্ করি। আমি তাকে বলেছিলাম, 'যেহেতু আমি 'কেউ না' আমি এখানে আছি। যেহেতু তুমি কেউ একজন তুমি সেখানে আছ।' বুঝে নাও, যদি তুমি কেউ একজন হও, যদিও তোমাকে এখানে বসতে দেওয়া হয় তুমি চিন্তা করবে, 'মনে হয় আমার যোগ্যতা অনুযায়ী এটাকে আরও ভাল হওয়া উচিত।' যেখানেই তুমি যাও, যেভাবে তুমি সম্মান পাও, তুমি অনুভব করবে যে আরও বেশী পাবার ছিল, আরও বেশী কিছু করার ছিল। যদি তুমি কেউ না হও, তুমি সম্মান পাও কি না পাও তুমি কখনও বিব্রত থাকবে না; তুমি কতই না সহজভাবে স্বস্তিতে, আরাবে, নির্বিঘ্নে থাকবে। যে মানুষ 'কেউ না' হয়েছেন, সে যেখানেই যাক না কেন, স্বস্তিতে থাকবে। যে 'কেউ একজন' হয়েছেন, সে যেখানেই থাকুক না কেন, তার কিছু জটিলতা, কিছু ভুল বোঝাবুঝি থাকবে। কৃতজ্ঞতা তোমাকে 'কেউ না' বানাবে; তুমি এক প্রবাহমান শক্তি হয়ে যাবে। সুফি অতীন্দ্রিয়বাদীদের কবিতায় আমি সেই প্রবহমান শক্তি দেখেছি। সুফি পরম্পরা সমপ্রূর্ণরূপে কৃতজ্ঞতার ওপর ভিতি করে। আর যেভাবে তাঁরা প্রবাহিত হন, তা কতই না সুন্দর প্রবাহ, কত না কৃতজ্ঞতার ওপর ভিতি করা ঐতিহ্য। সুফিবাদে ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতার জন্য কোন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। অন্য সমস্ত প্রখ্যাতে ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতার জন্য, মনের অতীত অভিজ্ঞতার জন্য বহু সময় লাগে। তাই এই একটি মহান গুণমানকে বোঝ; সেটা তোমাকে ভিন্ন এক স্তরে চালিত করে নিয়ে যাবে।
44
২২
কৃতজ্ঞতা তোমার কর্মসকল দগ্ধ করতে পারে
45
বোঝ, কৃতজ্ঞতার সহজ সরল শুভময়ান শুরু হলে, কৃতজ্ঞতার অল্প অল্প তোমার সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করতে পারে। কর্ম কি? কর্ম হল তোমার অপরিপূর্ণ কার্য যা তোমাকে পরিপূর্ণ করতে বারংবার টানে। আমাদের জমানো সমস্ত কর্মকে পরিপূর্ণ ও নিঃশেষ করার জন্য আমরা বারবার জন্ম নিই। কেবলমাত্র কৃতজ্ঞতার শক্তির সাথে বিদ্যমান থাকলে এই কর্মগুলি দগ্ধ হয়ে যায়! সমস্ত কর্ম, যা তুমি নিয়ে এসেছ, বহন করছ ও সংগ্রহ করছ - তা সবই দগ্ধ করা যায়। কৃতজ্ঞতার স্মরণ কেবল মাষ্টারের প্রতি নয়, সকল সত্তার প্রতি, সবকিছুর প্রতি কৃতজ্ঞতা অনেক সংবেদনশীলতা নিয়ে আসে। তা কতই না প্রেম, কতই না সৃষ্টির ভাবনা, কতই না সংযুক্তির অনুভূতি প্রদান করে। তা তোমার সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করতে পারে। কৃতজ্ঞতার এমনই ক্ষমতা। কৃতজ্ঞতা তোমাকে 'কেউ না' বানাবে; তুমি কেবল এক প্রবাহিত শক্তি হবে।
45
Page 25
24
কৃতজ্ঞতা তোমার শরীরের ভাষা পরিবর্তন করে
46
24
সর্বদা প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করলে আমরা আমাদের শরীরের ভাষাতে সূক্ষ্ম হিংস্রতা বহন করব। এটা ইচ্ছাকৃত হিংস্রতা নয়, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিংস্রতা। আমরা যদি আমাদের শরীরের ভাষার প্রতি একটু সংবেদী হই, আমরা এটাকে ধরতে পারব।
46
24
নিজেকে লক্ষ্য কর, যখন তুমি কম্পিউটারে টাইপ কর, যখন তুমি ফোন-কল কর, কিভাবে তুমি ফোনের রিসিভারটিকে তার ক্র্যাডেলে রাখ, কি প্রকার আগ্রাসন নিয়ে তুমি হাঁট, তোমার পিছনে দরজা কিভাবে বন্ধ কর, তোমার শিশুর হাত তুমি কিভাবে ধর ... সবকিছু লক্ষ্য কর। তুমি দেখবে যে সবকিছুতেই একটা সূক্ষ্ম হিংস্রতা আছে।
46
24
কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমার শরীরের ভাষা পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়। যখন তুমি গভীর কৃতজ্ঞতা অভিজ্ঞতা করা শুরু কর, পরিস্থিতিগুলিতে তোমার দেওয়া সাড়াগুলি পরিবর্তিত হয়। তুমি অস্তিত্বের সাথে অনুরণন করা শুরু কর। তোমার শরীরের সেই অনুরণন সহকারে, সাবলীল, মধুর ও কোমলভাবে প্রবাহিত হবে। তোমার সমস্ত কার্যের উদয় এই মাধুর্য থেকে হবে। সেখানে কোন হিংস্রতা থাকবে না।
46
24
কেবল আনন্দ প্রবাহিত হবে। তখন তুমি যা কিছু কর তা জীবনকে আরও মধুর করবে।
46
24
যখন তুমি গভীর কৃতজ্ঞতা অভিজ্ঞতা করা শুরু কর, পরিস্থিতিগুলিতে তোমার দেওয়া সাড়াগুলি পরিবর্তিত হয়। তুমি অস্তিত্বের সাথে অনুরণন করা শুরু কর।
46
কার্যকলাপ
47
কৃতজ্ঞতা কিভাবে তোমার শরীরের ভাষা পরিবর্তিত করে তা দেখার জন্য নীচের সহজ পরীক্ষাটি চেষ্টা কর।
47
পরেরবার দরজা বন্ধ করার সময় স্মরণে রেখো ও লক্ষ্য কর যে তুমি সেটা কিভাবে বন্ধ করলে। এখন দরজাটি আবার খোল এবং অসাধারণ কৃতজ্ঞতা ও সচেতনতা সহকারে আস্তে আস্তে দরজাটাকে পুরোপুরি বন্ধ কর। এটা করার সময় নিজেকে অনুভব কর।
47
দুটো অভিজ্ঞতার মধ্যে তুমি পার্থক্য দেখবে। দ্বিতীয়বার তুমি হঠাৎ করে নিজের ভিতরে কোমল হবে! তোমার ওপরে কৃতজ্ঞতার এটাই প্রভাব।
47
ওপরেরটা তুমি অন্য যে কোন কার্যকলাপের সাথে চেষ্টা করতে পার এবং দেখো তুমি কিভাবে অনুভব কর !
47
Page 26
২৬
কৃতজ্ঞতা হল শ্রদ্ধার জন্য এক শক্তিশালী উপকরণ
48
শ্রদ্ধা হল সততার চেয়ে বেশি কিছু। সততা শ্রদ্ধা নয়। দয়া করে বোঝ, সততা হল শ্রদ্ধার জন্য একটি উপকরণমাত্র। শ্রদ্ধা সততার চেয়ে আরও বেশি কিছু। আমি তোমাদের সততা ও শ্রদ্ধার মধ্যে পার্থক্য দেখাব।
48
উদাহরণস্বরূপ, যদি কারও সাথে ক্রোধান্বিত হও, তুমি সরাসরি সেই ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করবে 'আমি তোমার ওপরে রেগে আছি' - এটা সততা। কিন্তু এটা শ্রদ্ধা নয়। শ্রদ্ধা অর্থ দু'টি সত্তা সত্যতিত্তি পরস্পরকে বুঝতে পারে, সেখানে ক্রোধ ঘটবে না।
48
বুঝে নাও, সততা ও শ্রদ্ধার মধ্যে পার্থক্য আছে। সততা একটি সামাজিক উত্তম গুণমান। শ্রদ্ধা এক আধ্যাত্মিক গুণমান। সেটা সামাজিক গুণমান নয়। সততা কেবল প্রথম ধাপ, প্রাথমিক ধাপ। শ্রদ্ধা এক আধ্যাত্মিক গুণমান। শ্রদ্ধা অর্থ আধ্যাত্মিক সত্যগুলিকে নিয়ে শ্রদ্ধার সাথে জীবনধারণ করা।
48
দ্যাখো, একজন পতি তার পত্নীকে মিথ্যা কথা বলছে - তাতে কোন সততা নেই, আবার শ্রদ্ধাও নেই। একজন পতি তার স্ত্রীকে যদি সত্য বলে যে সে বহু মহিলার সাথে সম্পর্ক রাখে, সেটা সততা, শ্রদ্ধা নয়। পতি যদি পতির মত জীবনযাপন করে, তাহলে সেটা শ্রদ্ধা। তাই মানুষ তার ভূমিকা পূরণে নির্বাহ করলে সে শ্রদ্ধাশীল। যখন সে অসমর্থ হয় এবং সেই অসমর্থতা অন্যের কাছে ব্যক্ত করা হল সততা। অসমর্থতা প্রকাশ করা সফলভাবে জীবনযাপন করা নয়; বোঝ সেটা। ব্যর্থতা প্রকাশ করা হল ব্যর্থতা প্রকাশ করা। সেটা শ্রদ্ধা নয়;
48
সৎ কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু শ্রদ্ধা নয়। তুমি হয়ত তোমার হিসাবনিকাশপত্র (ব্যালেন্স শীট) তোমার দেশে সঠিকভাবে রাখছ। তুমি কি তোমার হিসাবনিকাশপত্র মহাজগতের কাছে, বিশ্বব্রক্ষাণ্ডের কাছে ঠিক করে রাখছ? মহাজগতের সাথে হিসাবনিকাশপত্র ঠিক করে রাখার কি অর্থ? তার অর্থ, নিরন্তর স্মরণে রাখা যে কোন কিছুই তোমার নয়, সবকিছুই তোমার ওপরে বর্ষণ করা হয়েছে।
49
বুঝে নাও, তোমার জীবনে মহাজগৎ তোমাকে সবকিছুই উপহার দিয়েছে - এটা স্মরণে রাখা - তাকেই আমি মহাজগতের সাথে হিসাবনিকাশপত্র ঠিক রাখা বোঝাচ্ছি। তোমাকে কিছুই পরিশোধ করতে হবে না। প্রতিটি জিনিষ তোমার পাওয়া একটি উপহার - এই মনোভাব মহাজগতে তোমার হিসাবনিকাশপত্র শ্রদ্ধাশীল রাখছে।
49
তুমি জান না যে কৃতজ্ঞতা এত ক্ষমতাশালী একটি উপকরণ। যেই মুহূর্তে তুমি কৃতজ্ঞতা যোগ কর, তোমার সততা হয়ে যায় শ্রদ্ধা। আমি দেখছি অনেক সময় লোকেরা সততাকে শ্রদ্ধা বলে ভুল করে। না! সততা শ্রদ্ধা নয়। সততা যেন উষ্ণ ভালোবাসা। শ্রদ্ধা যেন এক শীতল ধারা। বোঝ, সততা সর্বদাই দাবী করতে থাকে। শ্রদ্ধা সর্বদা স্বীকার করে 'আমি তোমার কাছে ঋণী'; আমি তোমার সম্পর্কে বিব্রত নই।'
49
শ্রদ্ধা তোমাকে ও অন্যদের ভরে দেয়। সততা অন্যের ও তোমাকে দগ্ধ করে। আমি অনেক সময়ে দেখছি সৎ লোকেরা কিছু দিন বা কিছু সপ্তাহ বা কিছু মাসের মধ্যে সততার নামে অন্য একজন মানুষকে অত্যাচার করে বা হত্যা করে। হে ভগবান! সততা হল শ্রদ্ধার এক মূর্খতাপূর্ণ বিকল্প। এদিকে কৃতজ্ঞতা তো তোমাকে আরও শ্রদ্ধাশীল করে।
49
Page 27
২৭
কৃতজ্ঞতা হল সাকার থেকে নিরাকারে প্রস্তুতিত হওয়া
51
Page 28
২৮
গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা
53
প্রশ্ন : গুরুর চরণে আমাদের পূজা করার কি কারণ? লোকেরা গুরুর চরণ স্পর্শ কেন করতে চায়?
স্বামীজী উত্তর দেন : এটা এক প্রাচীন বৈদিক প্রথা। যখন গুরু তোমার ওপর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রেম, আশীর্বাদ ও সবকিছু বর্ষণ করেন, সেই বর্ষণের জন্য তোমার উচ্ছ্বসিত কৃতজ্ঞতায় তুমি জান না কি করতে হবে, তাই তোমার যা কিছু আছে তুমি তাঁর চরণে অর্পণ কর। বৈদিক প্রথায় এইভাবে গুরু পূজার প্রথিত্য আরম্ভ হয়। এটা সবচেয়ে পুরানো আচার-অনুষ্ঠান।
বোঝো, সবচেয়ে পুরাতন ও প্রথাগত পবিত্র অনুষ্ঠান হল গুরুপূজা। আদিশক্তি পার্বতী ছিলেন প্রথম শিষ্যা। যেই মুহূর্তে তিনি শিবের অভিজ্ঞতা সহকারে দীক্ষা পেলেন, সেই অসাধারণ কৃতজ্ঞতায় তিনি শিবের চরণে পড়লেন এবং তাঁর যা কিছু ছিল তা অর্পণ করলেন। এইভাবে গুরুপূজার প্রথম অনুষ্ঠান শুরু হয়।
তোমার উচ্ছ্বসিত কৃতজ্ঞতার জন্য তুমি নিজেকে মাস্টারের চরণে ঢেলে দাও। আর একইভাবে গুরুর চরণস্পর্শ করাও হল নিজেকে তাঁর চরণে অর্পণ করার অনুভূতি। গুরুপূজা কেন করা হয়, গুরুর চরণ কেন স্পর্শ করা হয়, এগুলোর কোন যুক্তিগত কারণ নেই। এটা একটা আবেগজনিত সংযুক্তির অনুভূতি। কিছু মানুষের জন্য 'এটা কেন আমি করব?' কিছু মানুষের জন্য এটা জীবন; তারা এটা ছাড়া থাকতে পারে না।
বুঝে নাও, এটা ব্যক্তির ভাববেগ। আমি তোমাদের আরও একটা জিনিষ বলতে চাই। গুরুপূজা কর, কেবল যদি তুমি প্রগাঢ়স্পর্শে সংযুক্তি অনুভব কর, নয়ত নয়। এটা যেন কেবল একটা আচার-অনুষ্ঠানের মত করা না হয়। দেখো, যোগের ব্যাপারে তুমি চাও কি না চাও তোমাকে সেটা করতে হবে কারণ তুমি দেহের সাথে কাজ করছো। কিন্তু গুরুপূজার ব্যাপারে সেটা
তোমার মনে আছে। তোমার মনকে সেটা অনুভব করতে হবে। উৎফুল্লতা ও আনন্দ থেকে তোমায় নিজেকে ঢেলে দিতে হবে।
তাই কোন এগুলোর কোন যুক্তিগত ব্যাখ্যা নেই - 'গুরুর চরণে আমাদের পূজার করার কি কারণ? কেন লোকেরা গুরুর চরণ স্পর্শ করে?' এর কোন যুক্তিগত কারণ নেই। এটা কেবল এই প্রকার, ব্যস। এটা এই রকমই।
Page 29
২৯
কৃতজ্ঞতা হল প্রার্থনা
54
কৃতজ্ঞতা হল প্রার্থনা। সাধারণত আমাদের আধ্যাত্মিক জীবন প্রার্থনা দ্বারা আরম্ভ হয় ও কৃতজ্ঞতায় গিয়ে পৌঁছায়। প্রার্থনার বিভিন্ন মাত্রা আছে। তুমি পরিপক্ক হবার সাথে সাথে প্রার্থনাও পরিপক্ক হয়। প্রার্থনা হল তোমার উচ্চতর চেতনাতে পৌঁছানোর সেতু। পৃথীগ্রহের দুঃখকষ্টের ঊর্ধ্বে যাবার জন্য প্রার্থনা হল এক সেতু। প্রার্থনা হল তোমাকে অতি চেতনার অবস্থায় পরিচালিত করার জন্য প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। প্রার্থনার বিভিন্ন মাত্রাগুলিকে ধাপে ধাপে বোঝা যায়। প্রার্থনার বিভিন্ন গঠন আছে। কোনটা উচ্চ নয়, কোনটা নীচে নয়। যখনি তুমি শুরু করতে পার, তুমি শুরু কর। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে তুমি উচ্চতর চেতনার দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রথমে প্রার্থনা স্থূল স্তরে আরম্ভ হয় - মন্দিরে যাওয়া, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা, দেবদেবীর মূর্তির কাছে প্রার্থনা করা এবং কিছু পূজা বা হবন করা। প্রার্থনার প্রথম স্তরটি বহিঃস্হত। প্রার্থনাকে বহিঃস্হত উপায়ে শুরু করতে হবে। প্রথম প্রার্থনা বহিঃস্হত পূজার স্তরে শুরু হয়।
তারপর সেটা যায় ঔপচারিক পূজার স্তরে - তুমি শ্লোত্র সব কর, মন্ত্র উচ্চারণ কর, নাম জপ কর, তুমি ঐশ্বরিকতাকে উপাসনা কর, তুমি প্রার্থনা কর। এখন তুমি এক উচ্চতর স্তরে। প্রথমে পূজা, পরে জপ - শ্লোত্র ও বারবার মন্ত্র উচ্চারণ। এগুলিই হল বাচনিক প্রার্থনা।
বাচনিক প্রার্থনা মনকে উচ্চতর আকাশে, উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাবার জন্য বিরাট ভূমিকা নির্বাহ করে - কিছু পবিত্র অক্ষর স্মরণ - সচেতনতা সহকারে অবিরাম সেগুলির পুনরাবৃত্তি। সেটা এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার; সচেতনতা ছাড়া পুনরাবৃত্তি এক অচেতন অভ্যাস হয়ে যাবে। দয়া করে সেটা করো না।
তোমার মন যত বেশী পবিত্র অক্ষর, পবিত্র শব্দাবলী দ্বারা ভরে থাকবে, ততই তোমার ভিতরের কিচিরমিচির পরিশোধিত হবে। তোমার ভিতরের কিচিরমিচির প্রায় যেন আবর্জনা হয়ে গেছে। তোমার সত্তার মধ্যে তুমি কত কিছুই না দমিত করে রাখ, কত ক্রোধ ও কত হিংস্রতা। সেগুলি সব কোথায় যাবে? সেগুলি তো তোমার ভিতরের কিচিরমিচির হয়ে গেছে।
তোমার ভিতরে দমিয়ে রাখা জিনিষ থেকে ভিতরের কিচিরমিচির তৈরী হয়। যদি তুমি অনেক হিংস্রতা দমিয়ে রাখ, যদি তুমি অনেক ঔদ্ধত্যকামনা দমিয়ে রাখ, যদি তুমি অনেক ক্রোধ দমিয়ে রাখ, সেগুলি অচেতনভাবেই তোমার ভিতরের কিচিরমিচির হয়ে যায়।
তুমি ভিতরে যা দমিয়ে রাখ, সেগুলিই তোমার ভিতরের কিচিরমিচির তৈরী হয়। যা তুমি ভিতরে রাখ, তাই তো বার হয়ে আসবে। যদি তুমি ভিতরে মন্ত্র রাখ, ভিতরে পবিত্র অক্ষর রাখ, ভিতরে ঐশ্বরিক শব্দাবলী রাখ, ভিতরে শ্লোত্র রাখ, ভাল কথা রাখ, দেখবে যে তুমি সেই সুন্দর শব্দাবলী, একই সুন্দর অনুভূতি, একই দিব্য উৎফুল্লতা বিকিরণ করছ। যতই তুমি সঠিক শব্দ উচ্চারণ করবে, তত কম তুমি বেঠিক শব্দাবলী উচ্চারণ করবে।
Page 30
৩০
কৃতজ্ঞতা হল একৃত অভিজ্ঞতা করা
56
তৃতীয় স্তরের প্রার্থনা হল মানসিক প্রার্থনা। প্রার্থনা তৃতীয় স্তরে পৌঁছালে সেটা মানসিক হয়। প্রথম বস্তুগত বা স্থূল, দ্বিতীয় বাচনিক বা মৌখিক, তৃতীয় মানসিক। মানসিক স্তরে এটাকে বলা হয় ধ্যান।
বস্তুগত স্তরে প্রার্থনাকে বলা হয় পূজা। বাচনিক স্তরে এটাই হল জপ। মানসিক স্তরে এটাকে বলা হয় ধ্যান।
এই স্তরে পৌঁছালে তোমার দেহকে বিজড়িত হবার প্রয়োজন নেই, আবার তোমার ভিতরের ফিচারমিচারকেও বিজড়িত হবার প্রয়োজন নেই; তখন তোমার সত্তা সমর্পণ করা শুরু করবে। জপ হল বাচালোপ; ধ্যান হল একাত্ম হওয়া। প্রার্থনাতে সেটা হল তুমি ও ঈশ্বরের মধ্যে বাচালোপ করে যোগাযোগ, ধ্যানে সেটা হল তুমি ও ঈশ্বরের একাত্ম হওয়া।
তুমি ঐশ্বরিকতার আভাসদান অভিজ্ঞতা করতে আরম্ভ কর, তুমি ঐশ্বরিকতার ঝলক অভিজ্ঞতা করা শুরু কর, তুমি আনন্দের ঝলক অভিজ্ঞতা করা শুরু কর।
গুরুত্বপূর্ণ জিনিষটি - যতক্ষণ তুমি পূজা ও জপ কর, তুমি ও ঈশ্বর পৃথক। যেই মুহূর্তে তুমি ধ্যানে প্রবেশ কর, তুমি তোমার ঈশ্বরত্ব উপলব্ধি করা শুরু কর, তুমি নিজের ন্যূতম ঐশ্বরিকতা অভিজ্ঞতা করা শুরু কর, তুমি ঐতাদৃশ্য যা পূজা করেছি তার ঝলক পেতে শুরু কর। 'তুমি' ও তোমার মধ্যে এক অন্য একাত্মতা শুরু হয়; এমন কি সেটা তো তুমি ও ঈশ্বরের মধ্যেও নয়, কারন ঈশ্বর তোমার সত্তার অংশ হয়ে যান, তুমি তো তার অংশ হয়ে যাও। বিন্দু মহাসাগরে মিলিয়ে যায়, মহাসাগর বিন্দুতে মিলিয়ে যায়। তুমি ঝলক অভিজ্ঞতা করা শুরু কর, তুমি অনুভব করা আরম্ভ কর যে তুমি পূর্ণের অংশ, অদ্বৈত অভিজ্ঞতা হয়। অদ্বৈত অর্থ দুই নয় - একাত্মবোধের এক অনুভূতি তোমার সত্তায় ঘটা শুরু হয় - সে এক ভিন্ন প্রকার অভিজ্ঞতা।
যতক্ষণ জপ কর, তুমি উপাসনা করছ। যেই মুহূর্তে তুমি ধ্যানে প্রবেশ কর, তুমি যে জিনিষ পূজা করছ সেটার সাথে মিলিয়ে যাও, সেটার সাথে তুমি একাকার হয়ে যাও, তুমি চৈতন্য অভিজ্ঞতা করা শুরু কর। সর্বশেষ বা চতুর্থ ধাপটি হল, তুমি বিদ্যমান নেই এবং ঈশ্বরও বিদ্যমান নেই। উদ্ভয়েই অভিজ্ঞতাতে মিলিয়ে যায়; সেটাকেই আমি বলি কৃতজ্ঞতা।
57
চতুর্থ স্তরে, আধ্যাত্মিক স্তরে, তুমি কেবল একাকার অনুভব কর তা নয়, একাকারের ধারণাও মিলিয়ে যায়। কেবল একটা জিনিষ অবশিষ্ট থাকে, কৃতজ্ঞতা! কার প্রতি? কারও প্রতি নয়! কেবল কৃতজ্ঞতা! কারও উদ্দেশ্যে নয়। যতক্ষণ কারও উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়, সেখানে দুইজন থাকবে; একজন যে জ্ঞাপন করে, একজন যে গ্রহণ করে।
কিন্তু ছুঁড়ান্ত স্তরে সেটা কারও জন্য জ্ঞাপন করা হয় না, সেটা কেবল উপচে পড়তে থাকে। কৃতজ্ঞতা থেকে শক্তি নিজেকে প্রকাশ করে, আনন্দ থেকে শক্তি নিজেকে প্রকাশ করে, পরিপূর্ণতার সে এক গভীর অনুভূতি। সেটাকে আমরা বলি সমাধি।
সমাধি অর্থ, সত্তা সম্পূর্ণভাবে পরিপূর্ণ হবার পরে নিজেকে শক্তি হিসাবে প্রকাশ করে। কেউ প্রকাশ করে না, কেউ গ্রহণ করে না; কেবল অভিজ্ঞতা। এই স্তরে অভিজ্ঞতাকারী এবং যা অভিজ্ঞতা করা হয়েছে, তা অভিজ্ঞতায় মিলিয়ে যায়। সেই সময় - কেবল একটা জিনিষ বিদ্যমান থাকে, সেটা হল কেবলমাত্র অভিজ্ঞতা; অভিজ্ঞতাকারী নয়। অথবা যা অভিজ্ঞতা করা হয়েছে, তাও নয়। উদ্ভয়ই এক সত্তায় মিশে যায়। সেটাকে আমরা বলি অভিজ্ঞতা।
তুমি অনুভব কর যে জীবন তোমার ওপর কতই না বর্ণন করছে। তুমি অনুভব কর 'এটা তো অত্যধিক, আমি আর সহ্য করতে পারছি না।' সেটা এত আনন্দ, এত উচ্ছ্বাস যে তুমি তোমার পরিচিতি হারাতে শুরু কর। তুমি তোমার সীমানা হারাতে শুরু কর। যতক্ষণ তোমার মধ্যে কঠোর চিহ্ন থাকে, ততক্ষণ তোমার পরিচিতি থাকে। যেই মুহূর্তে তোমার ছঃখকষ্ট দূর হয়, তুমি তোমার সীমানােখা হারিয়ে ফেল।
Page 31
58
একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ তোমাকে বুঝতে হবে, যদি তোমার দুঃখকষ্ট থাকে, কেবল তখনই তোমার আমিত্ব থাকতে পারে। দুঃখকষ্ট বিনা তোমার আমিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে না। দুঃখকষ্টই তোমার আমিত্বের মূল। এই তত্পর্যাপূর্ণ জিনিষটা তোমার বোঝা উচিত। আমরা সর্বদা উল্টা ভাবি - আমিত্ব দুঃখকষ্ট দ্বারা উপদ্রুত হয়। না! আমিত্ব দুঃখকষ্ট দ্বারা সমৃদ্ধ হয়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ - তোমার দুঃখকষ্ট কম হলে তোমার আমিত্বও কম হয়।
58
তুমি ভাব তুমি খুবই ছোট তাই তুমি তোমার দুঃখকষ্ট বাড়িয়ে ফেলো। তুমি দুঃখকষ্ট বাড়াও যাতে তুমি অনুভব করতে পার যে তুমি কেউ একজন। আমিত্ব মুছে গেলে তুমি আনন্দে মিশে যাও। আনন্দে মিশে গেলে তোমার আমিত্ব থাকে না। যখন তুমি সত্যসত্যই তোমার সত্তার গভীরে যাও, যখন তুমি অস্তিত্বের সাথে এক হও, যখন তুমি অভিজ্ঞতা কর, তখন শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রবাহিত হয়, কেবলমাত্র কৃতজ্ঞতার অনুভূতি উপচে পড়তে থাকে। সেটা শুধুই কৃতজ্ঞতা।
58
সুফীদের একটি সুন্দর ধ্যান আছে। তাঁরা বলে - ঈশ্বরের সাথে সম্বন্ধস্থাপন করার একমাত্র পথ হল কৃতজ্ঞতা, কারণ কৃতজ্ঞতা সহকারে তুমি তাঁকে অভিজ্ঞতা করা আরস্ত কর। প্রার্থনার দ্বারা তুমি তাঁর সাথে সম্বন্ধস্থাপন করা শুরু কর; কৃতজ্ঞতার সাথে তুমি তাঁকে অভিজ্ঞতা করা শুরু কর; তোমার সত্তার গভীরতর স্তর, তোমার আধ্যাত্মিক স্তর কৃতজ্ঞতা সহকারে অভিজ্ঞতা করা শুরু করবে।
58
কয়েকটা জিনিষ বুঝে নাও। জীবনে তোমার ওপরে কত জিনিষই না বর্ষণ করা হয়েছে! ঈশ্বর কতই না বর্ষণ করেছেন। কিন্তু আমাদের ওপরে বর্ষিত জিনিষগুলোর দিকে কখনও তাকাই না। আমরা সর্বদা তাকাই 'এরপরে কি?' যখন তুমি সত্যসত্যই এক গভীর সমবেদনশীলতা সহকারে, বোধ সহকারে, জিনিষগুলিকে অবধারিত বলে গণ্য না করে বাস কর, তখন তুমি তোমার সত্তার এক নতুন আকাশ অভিজ্ঞতা করবে। তুমি তোমার সত্তায় এক গভীর আনন্দ অভিজ্ঞতা করবে। জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি, পরিস্থিতিগুলিতে ও সর্বশেষে সমগ্র অস্তিত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা অভিজ্ঞতা করবে।
58
59
Page 32
৩১
কৃতজ্ঞতা হল অস্তিত্বে আস্থা রাখা
60
তুমি স্বীকার কর কি না কর, অস্তিত্ব তোমার যত্ন নিচ্ছে এবং তোমাকে তার ওপরে কেবল আস্থা রাখতে হবে এবং তোমার কর্তব্য কৃতজ্ঞতা সহকারে করে যেতে হবে। অস্তিত্ব তাহলে তোমার ওপরে বর্ষণ করবে। আমরা অস্তিত্বের ওপরে আস্থা রাখতে একদম প্রস্তুত নই! তোমার সতায় বিশ্বব্রক্ষাকে বিশ্বাস করার গুণমান তোমাকে পৃথিবীতে ভগবানের মত জীবনযাপন করবে!
যদি আমরা মহাজাগতিক শক্তির প্রতি অবিরত কৃতজ্ঞতা অনুভব করার বোধ সচেতনভাবে অনুভব করি, আমরা অনুভব করতে সমর্থ হব যে অস্তিত্ব তার কোলে আমাদের যত্ন করছে। আমরা অনুভব করব এই শক্তি আমাদের লালনপালন করছে, যেভাবে শিশুকে তার মা করে। তুমি এটা স্বীকার কর কি না কর, এটাই সত্য।
তোমাকে শুধু কৃতজ্ঞতা হতে হবে! কৃতজ্ঞতা হবার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হল, কারণ বিনা উপভোগ করা শেখা। যা কিছু দ্যাখো, যা কিছু শোন, যা কিছু কর, তাতে যেন অগাধ আস্থা থাকে যে অস্তিত্ব যত্ন নিচ্ছে। জীবন তখন তোমার চোখের সামনে রূপান্তরিত হতে থাকবে এবং তুমি সর্বদা উপরে পড়বে কারণ তুমি সবসময় উপভোগ করছ। জীবনকে প্রশ্ন না করে উপভোগ করতে শেখো, যদিও আমি বোঝাতে চাইছি না যে তোমার সমস্ত প্রশ্নের কাজ ফেলে দিয়ে সবসময়ে উপভোগ করা। সন্দেহ নেই, তোমাকে কাজ করতে হবে। কেবল উপভোগ করলে তোমাকে কেউ সবকিছু দেবে না। আমি কেবল বলছি যে উপভোগ করার জন্য কারণ খুঁজবে না, ব্যস। প্রশ্ন না করেই সহজভাবে সবকিছু উপভোগ কর। আনন্দ করাকে তোমার প্রকৃতি হয়ে যেতে দাও, তবেই কৃতজ্ঞতা তোমার সত্তা হয়ে যাবে।
অস্তিত্ব বর্ষণ করে। সেই বর্ষণকে তুমি উপভোগ করা বেছে নিলে, তুমি করবে। সেটা তো একদম তোমারই পছন্দ। তুমি ভুল জিনিষ পছন্দ কর, আর পরে নালিশ কর অথবা অন্য কাউকে দোষ দাও। স্মরণ রেখো, তোমার সাথে ঘটে কোন কিছুর জন্য অন্য কেউ দায়ী নয়। সবকিছুই
60
তোমার অচেতনভাবে করা সচেতন পছন্দ। তোমার মধ্যে সজাগতা কম থাকার জন্য তুমি অচেতন ও একযোগে নিঃর্গুলিতে নাও এবং জীবন সম্পৰ্কে নালিশ কর।
স্মরণ রেখো, স্বর্গ ও নরক পৃথিবীর বাইরে কোন ভৌগলিক অবস্থান নয়। তুমি তাদের তোমার ভিতরেই সৃষ্টি কর। যেই মুহূর্তে তুমি অস্তিত্বের ওপরে আস্থা হারাও, তুমি নিজেকে তার থেকে দূরে সরালে এবং যেখানে যাবে নিজের সাথে নরক বহন করবে।
শুধু স্মরণ রেখো - কৃতজ্ঞতা সহকারে জীবনযাপন করার চেষ্টা কর এবং অলৌকিক ঘটনাগুলির ঘটনা লক্ষ্য কর। যদি কোন প্রশ্ন না করে তুমি উচ্চাশীল হৃদয়ে গ্রহণ করতে প্রস্তুত হও, অস্তিত্ব প্রদান করে।
61
Page 33
৩২
কৃতজ্ঞতা হল মঙ্গলত্বে বাস করা
62
একটা জিনিষ স্পষ্টভাবে বোঝা প্রয়োজন : সমগ্র অস্তিত্ব এক মঙ্গলজনক ঘটনা। তুমি অস্তিত্বের এক অংশ, তাই তোমার চারপাশে সমস্ত ঘটনাও মঙ্গলজনক। অস্তিত্বের এটাই সত্য। অস্তিত্বে ঘটো কোন কিছুই অশুভ বা অমঙ্গল নয়।
62
সবকিছুই কোন না কোন আঙ্গিক এবং আঙ্গুলের তার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার ইঙ্গিত; যদি এটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, তোমার চোখ কৃতজ্ঞ চোখ হয়ে যায়। তখন তা সবকিছুই অসাধারণ বলে দাবখে। কোনকিছুই নিরস মনে হয় না। সবকিছুই আলৌকিক মনে হয়।
62
আমাদের চোখের সামনে সর্বদা আলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা তা অনবরত মিস্ করি! কেবল যেহেতু সেগুলিকে আমরা মিস্ করি, জীবনকে কখন কখন নিরস মনে হয়। যখন আমরা সেগুলিকে অনুভব করা শুরু করি, আমাদের সমগ্র জীবন আলৌকিক হয়ে যায়। সত্য হল, আমাদের জীবনে অনেক অনেক আলৌকিক ঘটনা ঘটে চলেছে।
62
অস্তিত্বের সমস্ত মাত্রাগুলি ও তাতে সকল আপাতবৈপরীত্যে সহকারে অস্তিত্বকে স্বীকার কর ও উদযাপন কর। কোন কিছু বিচার কোরো না। তুমি অনবরত কি হচ্ছে তা বিচার কর : কিছু ঠিক কিছু বেঠিক কিছু এভাবে হওয়া উচিত, কিছু ঐভাবে হওয়া উচিত। সজাগ হও যে অস্তিত্বে যা কিছু ঘটে তা শুভ। দ্বিতীয় দলের মানুষেরা অনুভব করে যা ঘটছে তা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটছে এবং জিনিষগুলিকে সবসময়েই একটু কিছু রদবদল করতে হবে।
62
এই প্রকার মানুষেরা বিচার, পরিবর্তন ও সমালোচনা করার চেষ্টা করবে এবং বিশ্বের ঘটনাগুলিকে নিজেদের ধারণা অনুযায়ী গড়ার চেষ্টা করবে। এই মানুষেরা অবিশ্রাম কষ্ট পায় কারণ তারা সর্বদা জিনিষগুলিকে পরিবর্তিত করতে চেষ্টা করে।
62
প্রতিটি জিনিষ আমাদের বার্তা দেয়, এমনকি মৃত্যু ও রোগও। প্রতিটি জিনিষ আমাদের কিছু না কিছু শিক্ষা দেয়। প্রতিটি ঘটনা আমাদের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি করে, আমাদের চেতনার কম্পাঙ্ক উন্নীত করে। অস্তিত্ব চায় তুমি এখানে থাক। তুমি এখানে একটা দূর্ঘটনা নও, তুমি এক ঘটনা। তুমি অস্তিত্বের এক আলৌকিক ঘটনা। এটাই সোজাসুজি সরল সত্য।
63
ভেবো না এটা সকারাত্মক চিন্তা (পজিটিভ থিকিং)। না। এটা সহজ সত্য। যদি তুমি এই সত্যে আস্থা রাখ, তুমি স্বতঃচালভাবে সকারাত্মক হবে, ব্যাস। রবীন্দ্রনাথ, তুমি অস্তিত্বের এক পরিবর্ধিত অস্তিত্ব তোমাকে মিস্ করবে। তোমার সমস্ত ধনসম্পদ, সমৃদ্ধতা ইত্যাদি কোন দূর্ঘটনা নয়। অস্তিত্ব চায় তুমি এগুলো সব গ্রহণ কর; অস্তিত্ব তোমার মধ্য দিয়ে সজীব হতে চায়, তোমার মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ হতে চায়! এটাই বোঝ।
63
অস্তিত্ব একটা দূর্ঘটনা নয়। সেটা এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিমত্তা। যখন তুমি বোঝ যে অস্তিত্ব এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিমত্তা, যখন তুমি বোঝ অস্তিত্ব এক নিগূঢ় রহস্য যাঁর অভিজ্ঞতা করার জন্য এবং সমাধান করার জন্য নয়, তখন তোমার জীবন নিজে থেকেই উন্মুক্ত হবে এবং তোমার কাছে অস্তিত্ব তার বহন করে আন পাঠ বা শিক্ষাকে ব্যক্ত করবে।
63
উপরের যেভাবে বোঝা হল, সেভাবে জীবনযাপন করাই তোমার গভীর কৃতজ্ঞতা জাগরণের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়।
63
যখন উপচে পড়া কৃতজ্ঞতা সহকারে জীবনযাপন কর, তখন তুমি সেই আকাশকে পেয়ে গেছ যেখানে আর কিছুতেই চাই না। তার অর্থ তুমি ধ্যানে চলে গেছ। তখন তুমি কোন কিছু সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হবে না। তুমি সঠিক পথে আছ।
63
Page 34
৩৩
কার্যকলাপ
64
কৃতজ্ঞতাকে প্রার্থনা রূপে অভিজ্ঞতা করার জন্য এটি একটি শক্তিশালী ধ্যান।
সহস্রার ধ্যান (প্রার্থনা রূপে কৃতজ্ঞতা)
এই ধ্যান সহস্রার (সহস্র দল বা পাপড়ি) চক্রকে নিরাময় করে।
চক্রটির অবস্থান : মাথার তালুতে
চক্রটি তালাবদ্ধ থাকার কারণ : অপরিপূর্ণতা
চক্রটি উন্মুক্ত করার উপায় : কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ
সময় : ৩০ মিনিট
সহস্রার ধ্যান খুবই সহজ একটি ধ্যান প্রক্রিয়া!
আমাদের জীবনে সবকিছু থাকার জন্য, যেগুলিকে আমরা এতদিন ধরে অবধারিত বলে গণ্য করেছি, সেগুলির জন্য অস্তিত্বকে কৃতজ্ঞতা জানান করার এটি একটি আনায়াস প্রক্রিয়া।
যদিও ধ্যানটি অবিশ্বাস্যভাবে সহজ, আমাদের সচেতন ও অচেতন মনে এটার অসামান্য প্রভাব আছে।
যখন আমরা শ্বাস নাকি, আমাদের অস্তিত্বের সমগ্র পরিকল্পনার এক অংশ এবং প্রতিটি মিনিটে অস্তিত্ব প্রেমপূর্ণ হয়ে আমাদের যত্ন করছে, তখন আমরা কৃতজ্ঞতায় আচ্ছন্ন হই।
প্রতিটি মুহূর্তে আমরা যা কিছু পেয়েছি তার জন্য সত্যি সত্যি
৩৩
কার্যকলাপ
65
ধন্যবাদপূর্ণ হই, এমন কি সেটা কোন মৌলিক জিনিষ যেমন আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়গুলি হলেও।
অস্তিত্বের প্রাচুর্যকে স্বীকার করে তোমার সাড়া দেওয়া হল কৃতজ্ঞতা।
এটা তোমার মধ্যে এক সুন্দর বিকাশশীল শক্তি।
প্রতিদিন নিজের সাথে আধা ঘন্টা বসো। চোখ বন্ধ কর এবং যে কোন চিন্তা, মানুষ বা পরিস্থিতিকে তোমার মনে আসতে দাও।
সেটা যদি সকারাত্মক চিন্তা হয়, কোন মানুষ যাকে তুমি ভালবাস বা কোন পরিস্থিতি যা তুমি সযত্নে লালন কর, তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব কর এবং সেটাকে চলে যেতে দ্যাখো।
সেটা যদি নকারাত্মক চিন্তা হয়, বা কোন পছন্দ না লাগা মানুষ বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হয়, তার জন্যও কৃতজ্ঞতা অনুভব কর ও তাকে গভীর কৃতজ্ঞতা সহকারে আসীবাদ কর।
দেখবে, কয়েকদিনের মধ্যে তোমার সম্পূর্ণ মনোভাব কোমল ও করুণাময় হয়ে যাবে।
তুমি সবকিছুকে গভীর করুণা ও সুগ্রাহী হয়ে দেখতে আরম্ভ করবে।
কৃতজ্ঞতা হল পরম প্রার্থনা। কৃতজ্ঞতা সর্বশ্রেষ্ঠ মনোভাব।
ইশ্বরের প্রতি, মানবসতার প্রতি, জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি এবং পরিস্থিতিগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতা হল সর্বশ্রেষ্ঠ মনোভাব।
Page 35
66