Books / isbn 979-8-88572-530-9

1. isbn 979-8-88572-530-9

Page 1

পরমপূজ্য পরমহংস নিত্যানন্দ

অনুভূতি সংযুক্তির গ্রন্থ

Page 3

4

প্রক্রিয়া : অবিশ্রাম উপনিষদে থাকা

  1. প্রক্রিয়া : অবিশ্রাম উপনিষদে থাকা

5

দীক্ষা এবং অনুভূতির সংযুক্তি

  1. দীক্ষা এবং অনুভূতির সংযুক্তি

6

হিলিং ও অনুভূতির সংযুক্তি

  1. হিলিং ও অনুভূতির সংযুক্তি

7

অলৌকিকতা ও অনুভূতির সংযুক্তি

  1. অলৌকিকতা ও অনুভূতির সংযুক্তি

অনুভূতি সংযুক্তির গভীরতার সত্যসকল

অনুভূতি সংযুক্তির গভীরতার সত্যসকল

1

অনুভূতির সংযুক্তি দুঃখকষ্ট দূর করে

  1. অনুভূতির সংযুক্তি দুঃখকষ্ট দূর করে

2

প্রক্রিয়া : হৃদয়কে উন্মুক্ত করা

  1. প্রক্রিয়া : হৃদয়কে উন্মুক্ত করা

3

অনুভূতির সংযুক্তি অটল অবস্থার দিকে নিয়ে যায়

  1. অনুভূতির সংযুক্তি অটল অবস্থার দিকে নিয়ে যায়

4

মৃত্যুর মুহূর্তে অনুভূতির সংযুক্তি তোমার সহায়তা করে

  1. মৃত্যুর মুহূর্তে অনুভূতির সংযুক্তি তোমার সহায়তা করে

অনুভূতির সংযুক্তিকে কখনও হারিয়ে ফেলো না

অনুভূতির সংযুক্তিকে কখনও হারিয়ে ফেলো না

1

মাস্টারকে ধরা

  1. মাস্টারকে ধরা

2

মাস্টারকে হারানো

  1. মাস্টারকে হারানো

3

মাস্টারের নিন্দা করা

  1. মাস্টারের নিন্দা করা

4

প্রক্রিয়া : অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংযোগ কর

  1. প্রক্রিয়া : অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংযোগ কর

অনুভূতির সংযুক্তির ওপরে প্রজ্ঞোত্তর পর্ব

অনুভূতির সংযুক্তির ওপরে প্রজ্ঞোত্তর পর্ব

1

অনুভূতির সংযুক্তি কি পরের জন্মে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়?

  1. অনুভূতির সংযুক্তি কি পরের জন্মে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়?

2

অনুভূতির সংযুক্তি কি পরের জন্মে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়?

  1. অনুভূতির সংযুক্তি কি পরের জন্মে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়?

3

বৈষ্ণব প্রথায় বর্ণিত চার প্রকার অনুভূতির সংযুক্তি সম্পর্কে আপনি আরও আলোকপাত করবেন?

  1. বৈষ্ণব প্রথায় বর্ণিত চার প্রকার অনুভূতির সংযুক্তি সম্পর্কে আপনি আরও আলোকপাত করবেন?

4

আগে আমি অনেক পূজা করতাম, মন্দিরে মন্দিরে যেতাম, কিন্তু আপনার কাছে আসার পরে আমি ঐসবে রুচি হারিয়ে ফেলেছি। আমি কেবল আপনার ভিডিও ও বই নিয়ে বসতে ইচ্ছা করি! এটা কি ভাল না খারাপ?

  1. আগে আমি অনেক পূজা করতাম, মন্দিরে মন্দিরে যেতাম, কিন্তু আপনার কাছে আসার পরে আমি ঐসবে রুচি হারিয়ে ফেলেছি। আমি কেবল আপনার ভিডিও ও বই নিয়ে বসতে ইচ্ছা করি! এটা কি ভাল না খারাপ?

5

আপনি ঈশ্বর ও গুরুর সাথে অনুভূতির সংযুক্তি সম্পর্কে বলেছেন। অনুভূতির সংযুক্তি প্রকৃতপক্ষে কি? সেটা কি শুধুমাত্র গুরুকেই চেতনা সহকারে সর্বদা চিন্তা করতে থাকা?

  1. আপনি ঈশ্বর ও গুরুর সাথে অনুভূতির সংযুক্তি সম্পর্কে বলেছেন। অনুভূতির সংযুক্তি প্রকৃতপক্ষে কি? সেটা কি শুধুমাত্র গুরুকেই চেতনা সহকারে সর্বদা চিন্তা করতে থাকা?

6

দেহ ও মনে যে অবিরাম হয়রানির মধ্য দিয়ে আমি যাই, সেগুলিকে আমার চেয়ে উচ্চতর কোন কিছুর সাথে অনুভূতির সংযুক্তি কি ভাবে মুছে ফেলবে?

  1. দেহ ও মনে যে অবিরাম হয়রানির মধ্য দিয়ে আমি যাই, সেগুলিকে আমার চেয়ে উচ্চতর কোন কিছুর সাথে অনুভূতির সংযুক্তি কি ভাবে মুছে ফেলবে?

7

প্রবল অনুভূতির সংযুক্তি অভিজ্ঞতা করার পথ কি?

  1. প্রবল অনুভূতির সংযুক্তি অভিজ্ঞতা করার পথ কি?

8

আমাদের আধ্যাত্মিক অভ্যাসে ত্রুততার উন্নতির কোন পথ আছে কি?

  1. আমাদের আধ্যাত্মিক অভ্যাসে ত্রুততার উন্নতির কোন পথ আছে কি?

অনুভূতির সংযুক্তির জন্য ধ্যান

অনুভূতির সংযুক্তির জন্য ধ্যান

1

প্রক্রিয়া : নিজের সাথে সংযুক্তি

  1. প্রক্রিয়া : নিজের সাথে সংযুক্তি

2

প্রক্রিয়া : অপরের সাথে সংযুক্তি

  1. প্রক্রিয়া : অপরের সাথে সংযুক্তি

3

প্রক্রিয়া : প্রকৃতির সাথে সংযুক্তি

  1. প্রক্রিয়া : প্রকৃতির সাথে সংযুক্তি

4

প্রক্রিয়া : জীবনের সাথে সংযুক্ত হওয়া

  1. প্রক্রিয়া : জীবনের সাথে সংযুক্ত হওয়া

5

প্রক্রিয়া : অস্তিত্বের সাথে সংযুক্ত হওয়া

  1. প্রক্রিয়া : অস্তিত্বের সাথে সংযুক্ত হওয়া

Page 4

[ERROR page 4 - NVIDIA client error]

Page 5

তোমার সর্বোচ্চ সম্ভাবনার সাথে সংযোগসাধন

তোমার সর্বোচ্চ সম্ভাবনার সাথে সংযোগসাধন

ঈশ্বর অথবা এক জীবনমুক্ত সত্তার সাথে অনুভূতির সংযুক্তি হল সূক্ষ্মতম সর্বোত্তম উপহার প্রাপ্তির ঘটনা যা কোন মানুষের সাথে ঘটতে পারে। কোন কিছু প্রস্ফুটিত হবার জন্য তাকে তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনার সাথে এক সংযুক্তির প্রয়োজন। ফলকে সম্পূর্ণরূপে পরিপক্ক হবার জন্য তাকে বৃক্ষের সাথে সংযুক্ত হতে হবে। পুষ্টিগুণ পাকলে ফল যে রীতি রীতি রব করে তা থেকে আরও গাছ হতে পারে। তখন মাতৃবৃক্ষের সাথে শারীরিক সংযুক্তির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তা না হওয়া পর্যন্ত সংযুক্তি অপরিহার্য। একইভাবে কোন মাতৃগর্ভে শিশুকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হবার জন্য তাকে মায়ের সাথে সংযোজক নালী (নাডিরজ্জু) দ্বারা সংযুক্ত থাকতে হয়। কেবল তখন এক সম্পূর্ণ দেহের সৃষ্টি হয়। একবার সম্পূর্ণ দেহ তৈরি হয়ে গেলে সেই সংযোজক নাড়ীর আর দরকার হয় না। কিন্তু তার আগে অবধি সেটা শিশুর বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। মানুষের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ সত্তাবনা হল পরম জ্ঞানালোকপ্রাপ্তি (জীবনমুক্তি)। তোমার মধ্যে জীবনমুক্তি ঘটার জন্য, যে ইহতমধ্যে সেই স্তরে আছে, যে ইহতমধ্যে পারপরিক, যে ইহতমধ্যে জীবনমুক্ত, এমন কারো সাথে তোমার অনুভূতির সংযুক্তি প্রয়োজন। সেইজন্য মানুষের সাথে ঘটা সর্বোত্তম উপহার হল বিতর্ক, মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তি। আমি একে উপহার বলি কারণ যারা সূক্ষ্মবোধের কমপক্ষে এক নির্দিষ্ট স্তরে উন্নীত হয়েছে কেবল তারাই মাস্টারের উপস্থিতির সুবাস পায় এবং শুধুমাত্র তাদের সেই মহান অনুভূতির সংযুক্তিতে প্রবেশের সাহস আছে, কারণ মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তি তো তোমাকে জীবনমুক্ত তৈরি করবে।

যে সত্তা তোমার সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে প্রতীকায়িত করে, তাঁর সাথে অনুভূতির সংযুক্তি তোমাকে তোমার দেহ ও মনের ছক (প্যাটার্ন) থেকে পাওয়া অবিরাম নির্গতসুলিকে সহজেই অকার্যকর করতে পারে। আন্ল্যাচিং বা ধ্যান দ্বারা যে সমস্ত সমস্যাগুলির সমাধান করা যায় না, সেগুলিকে শুধুমাত্র অনুভূতির সংযুক্তি দ্বারা সমাধান করা যায়। এটা সর্বোৎকৃষ্ট প্রক্রিয়া। যদি তোমার অনুভূতির সংযুক্তি এত গভীর হয়, তাহলে তোমার অন্য কোন প্রক্রিয়ার দরকার নেই। তোমার সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্য এবং যা চাও তা পাওয়ার জন্য, যেমন স্বাস্থ্য থেকে জীবনমুক্তি পর্যন্ত, অনুভূতির সংযুক্তি যথেষ্ট।

ছেড়ে দেওয়ার আনন্দ

ছেড়ে দেওয়ার আনন্দ

মাঝে মাঝে অনেকেই আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'আমাকে একজন মাস্টারের কাছ থেকে কেন শিখতে হবে? আমি তো জীবন থেকেও শিখতে পারি।' বোধ : মাস্টারের থেকে শিক্ষা করা এক অতি মিষ্ট অভিজ্ঞতা, এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা। তোমার আমিত্বের টিউমারের অপারেশন আরম্ভ করার আগে মাস্টার তোমাকে প্রেমের অ্যানেস্থেসিয়া দেন। যেহেতু তিনি প্রেম বর্ষণ করেন, তুমি রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যেতে কোন বেদনাই অভিজ্ঞতা করবে না। যদিও তাতে একটু বেদনা পাও, তুমি মাস্টারের সাথে থাকার আনন্দ ও সজাগতা দ্বারা তা সহ্য করবে। মাস্টার এক প্রগাঢ় জীবন। তিনি তোমাকে কেবল শিক্ষা প্রদান করেন তা নয়, তিনি নিশ্চিত করেন যে তুমি আনন্দ সহকারে সম্পূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাও। একটা ছোট গল্প : বাবা তার ছোট ছেলেকে একটা বড় প্রস্তরখও সরাবার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।

Page 6

বালকটি সাধ্যমত চেষ্টা করল, কিন্তু সফল হল না। বাবা বলে, 'তুমি তোমার সমস্ত সুপ্তশক্তি ব্যবহার কর নি। সমস্ত সুপ্তশক্তি ব্যবহার কর।'

ছেলে পুরোপুরি পরিশ্রান্ত। সে বাবাকে চেঁচিয়ে বলল, 'তুমি বলছটা কি? তুমি কি বলছ আমি আমার সমস্ত সুপ্তশক্তি ব্যবহার করি নি। আমি ক্লান্ত। তুমি দেখতে পাচ্ছ না কি?'

বাবা বলে, 'কেন? তুমি আমাকে নিতে পারতে। আমিও তো তোমার শক্তি!'

কিন্তু কখনো কখনো মানুষ এক বিশাল উদ্‌ধত্যভরে বহন করে, 'আমি অনেক জিনিষ জানি, আমি অনেক জিনিষ দেখেছি, আমি অনেক গুরুকে জানি, আমি এত জিনিষ জানি!' অথবা তারা কিছু নীতিমূলক ধারণাতে আটকে যায়।

দ্যাখো, তুমি অবিরাম লোকেদের দেখাও যে তোমাকে সহজে নোয়ানো যায় না। তুমি সেটাতে গর্ব অনুভব কর। আর তুমি সেটা ধীরে ধীরে নিজেকেও বলা শুরু কর ও নিজেকে প্রতারণা কর।

তাই এখন যদিও তুমি আনমিত হতে চাও, তোমার এক অংশ বলবে, 'তুমি আনমিত হবার ব্যাক্তি নও! কেন আনমিত হচ্ছ?' যেন তোমার ভিতরে এমন এক পদার্থ আছে এবং সে প্রতিটি পদক্ষেপে তোমার বিরোধিতা করে! আর তার সঙ্গেই বসবাস কর, ব্যাস! তাই এক নির্য় নিয়ে ফেল, 'আমি সেটা (বিতর্ক) চাই এবং তা ঘটতে হবে!'

সমর্পণ, ভক্তি এবং এইসব – তাদের নিজে থেকে ঘটতে দাও। তুমি তা চেয়ো না। তুমি কেবল বন্ধভাবাপন্নতা ও অনুভূতির সংযুক্তি চাও।

বস্তুত, যখন কোন মানুষেরে বিতর্ক থাকে, আমি পরিষ্কার দেখতে পাই যে আমার ও তার মধ্যে একটা সেতুর মত শক্তির সূত্র আছে। তাই আমি যখন তাকে আশীর্বাদ করি, 'তোমার অভিজ্ঞতা ঘনুক,' তার ভিতরে শক্তি গোলাকার বলের মত প্রবাহিত হয়ে প্রবেশ করে।

বিতর্ক সহকারে যখন কোন মানুষ আমার কাছে আসে, তা কতই না আনন্দের। দ্যাখো, আমার সম্পূর্ণ নীলাতে তোমরা সবাই আমার শক্তি উপভোগ কর এবং আমি তোমাদের ভক্তি উপভোগ করি। সেইভাবেই সম্পূর্ণ লীলা ঘটে।

Page 7

[ERROR page 7 - NVIDIA client error]

Page 8

দিতে আমি তোমাদের জীবনমুক্তির প্রতিটি অংশে একটা একটা করে দীক্ষা দিতে পারি। অংশের পর অংশ আমি সমর্পণ করতে পারি। কিন্তু এইভাবে তোমার মধ্যে অংশগুলি বিকশিত হতে ও তোমার সেগুলিকে আত্মভূত করতে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

দৃষ্টান্তস্বরূপ, তোমার দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারের প্রতিটি জিনিষকে যদি তোমাকে পুনরায় আবিষ্কার করতে হয়, কল্যাণ কর তাহলে কি হত? বৈজ্ঞানিক বালব, সুইচ, বিছানা, এয়ার কন্ডিশনার, মোটরকার, বাড়ি - এগুলি তোমাকে প্রত্যহে আবিষ্কার করতে হবে। আর তা করতে করতে তোমার জীবন শেষ হয়ে যাবে!

ধর তুমি বল, 'না, আমি কাউকে বিশ্বাস করি না, আমি কাউকে স্বীকার করি না, তাই অন্যেরা যা আবিষ্কার করেছে তা আমি গ্রহণ করব না। প্রতিটি জিনিষ আমি নিজে আবিষ্কার করব। বৈজ্ঞানিক বালব ব্যবহার করে আমি তার আবিষ্কারক এডিসনের সামনে ঝুঁকব না। আমি সেটা নিজে আবিষ্কার করব।' তাহলে কি ঘটবে? এডিসন কিছুই হারাবে না; তুমিই হারাবে! তাই বিতর্ক এক বৃদ্ধির খেলা; সেটা বোকার খেলা নয়।

যখন তোমার বিতর্ক থাকে, আমার অভিজ্ঞতা তোমার কাছে তোমারই অভিজ্ঞতার মত হয়ে যায়। এমনকি জীবনমুক্তির সরাসরি অভিজ্ঞতা ছাড়াই, তুমি তোমার হাজার হাজার বিশ্বাসের নির্ধারণ নিতে পার যা জীবনমুক্তি দ্বারা প্রাপ্ত মানসিক অবস্থায় নেওয়া যায়। অবিলম্বে তুমি এক মুক্ত আকাশে জীবনযাপন করতে থাক, উন্মুক্ততা বিকিরণ করতে থাক ও সেই মুক্ত আকাশ থেকে নির্ভয়ে নিতে শুরু করতে পার। সমস্ত প্রক্রিয়াগুলির মধ্য দিয়ে সংগ্রাম ও পুনরায় আবিষ্কার না করেই বিতর্ক তোমাকে জীবনমুক্তিতে জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।

সেইজন্য আমাদের সংস্কৃতিতে অনুভূতি-সংযুক্তি ও গুরু কৃপার উপরে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়। যদিও কিছু মানুষ জীবনমুক্ত না হয়েও গুরুর আসনে বসে এই সংস্কৃতির সুযোগ গ্রহণ করেছে, তা সত্ত্বেও এই

সংস্কৃতিকে বর্জন করা যায় না, কারণ এটা অনেক মানুষকে সাহায্য করেছে।

চূড়ান্ত আনন্দ হল শিষ্যত্ব

চূড়ান্ত আনন্দ, চরম আনন্দ, পরম আনন্দের ব্যাপার হল এক শিষ্য হওয়া। আমি বলছি, তা এখনই উপভোগ কর! সেটা মিস্ করো না। আমি বলতে পারি অন্তরের যাত্রায় এটাই পরম আনন্দ যা তুমি অভিজ্ঞতা করতে পার। এটার পরে আর কোন আনন্দ নেই! এমনকি জীবনমুক্তিও আনন্দকে ছাড়িয়ে। সেখানে আনন্দ, সুখ, কষ্ট - সবই মিলিয়ে যায়। তখন তুমি এক ভিন্ন পরিসরে (স্পেস্ট্রাম) প্রবেশ কর।

জীবনমুক্তি কোন একঘেয়ে ক্লান্তিকর পরিসর নয়, কিন্তু সেখানে তোমার বোধ অনুযায়ী কোন আনন্দ নেই। এমনকি আমিও যখন সমাধিতে প্রবেশ করি, আমার ভিতরে কোন আনন্দ নেই। কিন্তু যেভাবে সেই শক্তি প্রকাশিত হয়, তুমি ভাব আমি আনন্দে আছি। কিন্তু ভিতরে সেই আনন্দের ধারণা পর্যন্ত থাকে না।

শুধুমাত্র বসে থাকা, শ্রবণ করা ও গলে যাওয়ার শক্তিকে বর্ণনা করা যায় না।

Page 9

না। শ্রবণ করার জন্য প্রস্তুতি সহকারে শুধুমাত্র বসে থাকা - বোঝার চেষ্টা কর এটা কোন জোক (পরিহাস) নয়। পৃথিবীগ্রহে কটি কটি মানুষের মধ্যে তারাই আশীর্বাদপুষ্ট যারা হৃদয়ে শ্রবণ করার জন্য উৎসুক। দয়া করে বোধ, আমি বলছি না যে তোমাদের আমাকে শ্রবণ করা উচিতা। আমি বলছি না যে তোমাদের আমার শিষ্য হওয়া উচিত। আমি কেবল বলছি যে শিষ্য হওয়ায়, গ্রহীতা হওয়ার মধ্যে এক আনন্দ আছে। এমনকি একটি সাধারণ গাছ বা পাথরের শিষ্য হলেও ঠিক আছে। শুধুমাত্র বলে থাকা ও গলে যাওয়া, কিছু কথা শোনা, কিছু না শোনা, হৃদয় দ্রবীভূত হওয়া, চোখ সজল হওয়া, পেশীগুলি আইসক্রীমের মত গলতে থাকা, গলা আটকে যাওয়া, চুল দাঁড়িয়ে যাওয়া, দেহের আমিত্ব দ্বারা অধিকৃত হবার অনুভূতি হারিয়ে ফেলা - এগুলিতে কতই না আনন্দ।

যখন গ্রহণ-অনুভূততার আনন্দ, গ্রহণ করার আনন্দ তোমার জৈবস্মৃতিতে অভিজ্ঞতা করা হয়, দেহ আমিত্ব দ্বারা আধিকৃত হবার বোধ হারিয়ে ফেলো। তুমি সর্বদা ভাব যে দেহকে আমিত্ব অধিকার করে আছে। দ্যাখো , আমিত্ব তোমার দেহকে অধিকার করে থাকলে তুমি চাপ অনুভব করবে ও নিজেকে ভারী লাগবে। কিন্তু বসে বসে গলতে থাকলে আমিত্ব দ্বারা অধিকৃত হবার ধারণা মুছে যায়।

আমি বলতে পারি, সেটাই এক পরম শুভ জিনিষ যেটা তুমি পৃথিবীগ্রহে পুরো যাত্রায় উপভোগ করতে পার, কারণ এর পরে হল শুধু জীবনমুক্তি। সেখানে কোন সুখ অথবা আনন্দ থাকবে না, আর তুমি এক ভিন্ন পরিসরে চলে যাবে, যেখানে উপভোগের ধারণা মুছে যায়।

তাই বোঝ, যদি তুমি মাস্টারের কাছে বসে আছ এবং অনুভব কর যে তোমার পেশীগুলি আইসক্রীমের মত গলে যাচ্ছে, তার অর্থ আমিত্ব তোমার দেহকে অধিকার করছে না। সাধারণত আমিত্ব দ্বারা অধিকৃত হবার ধারণা নাভি প্রদেশ থেকে উপরে কষ্টের দিকে যায়। তুমি যদি সেই

অনুভূতি থেকে বিরত হয়ে স্বস্তিতে থাক ও যদি তোমার বোঝা বোঝা যুক্তিগুলি কাজ না করে, তাহলে আমিত্ব অদৃশ্য হয়। যখন তুমি কিছু ঘন্টা ধরে বসে থাক ও গলতে থাক, তোমার দেহের ওপরে সেই আঁটসাঁট যুক্তিগুলির কর্তৃত্ব শিথিল হয়।

আমি তোমাদের বলি, যদি তুমি শিষ্যত্বের আকাশের অভিজ্ঞতা পাও, প্রহণোম্মুখ হবার আনন্দ অভিজ্ঞতা কর, তুমি পরমকে আস্বাদন কর। তোমার অন্য সমস্ত বাসনা ভুলে যাও, কারন অন্য সব কিছুতেই এর চেয়ে নিম্নতর। বিশ্বসুন্দরীকে তোমার সঙ্গিনী হিসাবে পাও , কি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাসাদকে নিজের ঘর হিসাবে পাও অথবা নাম যশ ক্ষমতা পাও - সব কিছুতেই এক শিষ্য হওয়ার আনন্দ থেকে কম হবে।

বিতর্ক অন্ধবিশ্বাস নয় একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ বোঝার আছে যে বিতর্ক অন্ধবিশ্বাস নয়। এটা অন্ধবিশ্বাস নয়, কিন্তু তা যুক্তির উর্ধ্বে। তুমি শুধু জান সেটা সত্য, এমনকি সেটাকে অভিজ্ঞতা না করেও। যা কিছু তুমি সর্বদা সত্য বলে জান, মাস্টার ঠিক সেটাকেই প্রকাশ করবেন। এটাই বিতর্ক।

কিন্তু কিছু মানুষ জিদ করে বলে ‘আমি উপার্জন করব ও জীবনযাপন

Page 10

[ERROR page 10 - NVIDIA client error]

Page 11

[ERROR page 11 - NVIDIA client error]

Page 12

[ERROR page 12 - NVIDIA client error]

Page 13

[ERROR page 13 - NVIDIA client error]

Page 14

[ERROR page 14 - NVIDIA client error]

Page 15

তোমার ভিতরে বিতর্কের মেজাজ জাগরিত করার জন্য এই প্রক্রিয়াটি সহজ এবং ফলপ্রসূ।

সময় : প্রযোজ্য নয়

নির্দেশাবলী

চোখ বন্ধ করে আরাম করে বসো।

তোমার মধ্যে ভক্তি জাগরিত করে এমন কাউকে মনে নিয়ে এসো। সে হয়ত তোমার জীবনকে সমৃদ্ধশালী করেছে এমন মানুষ হতে পারে, যার কাছে তুমি আধ্যাত্মিক স্পষ্টতার জন্য যাও, যে নাকি তোমার কাছে খুবই মূল্যবান।

সে তোমার পরিবারের সদস্য হতে পারে, এক বন্ধু হতে পারে, এক শিক্ষক বা গুরু হতে পারে, এমন কি এক পছন্দের বিগ্রহও হতে পারে।

তাকে স্পষ্টভাবে মনে কর। স্মরণ কর সে কিভাবে তোমার মধ্যে, তোমার জীবনে, বিরাট রূপান্তর ঘটিয়েছে। স্মরণ কর, সে তোমার সত্তায় কত কিছু যোগ করেছে।

যখন তুমি মানুষটিকে স্মরণ কর আনন্দ, শ্রদ্ধা ও ভক্তির আবেগ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তোমার মধ্যে জাগ্রত হয়।

এই ভাবনাটিকে বৃদ্ধি পেতে দাও। মানুষটির সাথে সংযুক্তি গভীরভাবে অভিজ্ঞতা কর।

গভীরভাবে তার স্মৃতিতে, তার সত্তাতে রিল্যাক্স কর।

তার সত্তায়, তার সুন্দর প্রেমময় অন্তরঙ্গ স্মৃতিগুলিতে মিলিয়ে যাও।

আরাম কর ও তার সত্তায় মিশে যাও।

মাস্টার ও শিষ্য - চিরন্তন সম্পর্কতা

সম্পর্কতা কি?

মাস্টার ও শিষ্য - চিরন্তন সম্পর্কতা

সম্পর্কতা তোমার ভিতরের এমন মাত্রাগুলিকে প্রকাশিত করে যেগুলি তোমার ভিতরে আছে বলে তুমি জানতেই না।

মাস্টার ও শিষ্য - চিরন্তন সম্পর্কতা

সম্পর্কতা তোমাকে অভিজ্ঞতা প্রদান করে এবং প্রমাণ করে যে তুমিও কাউকে বা কোন কিছুকে প্রেম করতে সক্ষম। তা তোমাকে দেখায় যে তুমিও প্রেম করতে পার এবং তুমি কারো জন্য নিজেকে বিশ্বয়করভাবে সমর্পণ করতে পার।

মাস্টার ও শিষ্য - চিরন্তন সম্পর্কতা

তোমার অজানা মাত্রাগুলিকে জাগ্রত করার শক্তি সম্পর্কতার আছে।

মাস্টার ও শিষ্য - চিরন্তন সম্পর্কতা

তোমার বিভিন্ন সম্পর্কগুলি তোমার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রাগুলিকে প্রকাশিত করে। তোমার প্রিয়জন তোমার ভিতরের প্রেমশক্তিকে প্রকাশিত করায়। তোমার বন্ধুরা তোমার মধ্য থেকে বন্ধুত্বের ভাবনাকে প্রকাশিত করায়। তোমার সন্তানেরা তোমার মধ্য থেকে মাতৃত্বের ভাবনাকে ব্যক্ত করায়। তোমার মাতাপিতার তোমার মধ্যে শিশুর মাত্রাকে প্রকাশিত করায়। তোমার অজানা জীবনমুক্তির মাত্রাকে মাস্টার তোমার মধ্যে জাগরিত করান। কেবলমাত্র মাস্টারই তোমার সমস্ত মাত্রাগুলিকে প্রকাশিত করাতে পারেন।

মাস্টার ও শিষ্য - চিরন্তন সম্পর্কতা

কারো সাথে বা কোন কিছুর সাথে সম্পর্কতা, তা সে যাই হোক না কেন, তোমাকে মাস্টারের সাথে পরম সম্পর্কতার দিকে নিয়ে যায়।

Page 16

[ERROR page 16 - NVIDIA client error]

Page 17

[ERROR page 17 - NVIDIA client error]

Page 18

অন্য কাউকে আমি জীবনমুক্তি সন্ধ্যার করতে পারব না। যদি এখন তোমাকে দীক্ষা প্রদান করি এবং তোমাকে ভরসা দিই, কেবল তবেই আমি দেহত্যাগ করার পরেও তোমার যত্ন নিতে পারব। তাই তুমি যদি শ্রীরামকৃষ্ণ, রামানন্দ মহর্ষি, ওশো বা অন্য কোন মাস্টারের পার্থিব জীবনকালে তাঁদের আশ্বাসন পেয়ে থাক, তাহলে তোমার অন্য কোন মাস্টারের কাছে যাবার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তা সত্বেও তাঁরা সাধারণত তোমাকে কোন জীবন্ত কোন মাস্টারের কাছে গাইড করে নিয়ে যান, কারণ মাস্টারের আশেপাশে বাস করা যে কেবল জীবনমুক্তি আস্বাদন করা তা নয়, সেটা এক আনন্দ। সেটা এক পরমানন্দ। সেটা এক জীবনশেলী।

সেইজন্য এক জীবন্ত মাস্টার প্রয়োজন এবং তাঁকে প্রতিস্থাপিত করা যায় না। এমনকি আজও একজন জীবন্ত মাস্টারের প্রয়োজনীয়তা আছে, ঠিক যেভাবে শিব এই পুরো জিনিষটা কয়েক লক্ষ বছর আগে শুরু করেছিলেন। শুধুমাত্র যে জিনিষটা সেকেলে হয় নি, যা কখনও সেকেলে হতে পারে না, তা হল জীবন্ত মাস্টারের প্রয়োজনীয়তা। এই পৃথিবীতে হাজার হাজার জিনিষ অবিশ্রাম সেকেলে হয়ে অব্যবহারিক হয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, কিন্তু জীবন্ত মাস্টারের প্রয়োজনীয়তা কখনও অব্যবহারিক ও প্রতিস্থাপিত হতে পারে না।

তুমি তোমার মাস্টারের সাথে সম্বন্ধতা বেছে নাও

যখন লোকেরা আমায় প্রশ্ন করে, 'আপনি কি ভগবান?' আমি তাদের বলি, 'সেটা তোমার ওপরে নির্ভর করে!' সেটা তোমার উপর নির্ভর করে। আমি সর্বদা উপলব্ধ, উন্মুক্ত। যদি তুমি আমাকে শিক্ষক মনে করে আমার সাথে সংযুক্ত হতে চাও, তুমি

আমার সাথে সংযুক্ত হও ও আমার থেকে জ্ঞান নিয়ে যাবে। যদি তুমি আমাকে মাস্টার মনে করে সংযুক্ত হতে চাও, তুমি আমার থেকে দীক্ষা নিতে পার। দীক্ষা কেবল একজন মাস্টার দিতে পারেন; শিক্ষক শিক্ষা প্রদান করেন; কিন্তু কেবল মাস্টারই দীক্ষা প্রদান করতে পারেন। যদি তুমি আমাকে ভগবান বা ঐশ্বরিক বা চরম শক্তি মনে করে সংযুক্ত হও, তুমি তাহলে দীক্ষা ছাড়া অভিজ্ঞতাকেও নিয়ে যাবে। এগুলো নির্ভর করে তোমার অন্তর্দেশের ওপরে ও তোমার অন্তর্দেশে আমার জন্য কতটা জায়গা উপলব্ধ করা হয়েছে, ব্যাস।

তোমাদের একটা জিনিষ পরীক্ষার করে বলতে দাও, আমি এখানে প্রমাণ করতে আসি নি যে আমি ভগবান। আমি এখানে এসেছি যে তুমি ভগবান। আমি এখানে তোমার ঈশ্বরত্ব প্রমাণ করার জন্য আছি। যদি তুমি শুধুমাত্র বৃদ্ধি দ্বারা সম্পর্ক স্থাপন কর, তুমি জ্ঞান বহন করবে। যদি একটা আবেগ সহকারে, একটা প্রেম সহকারে সম্পর্ক স্থাপন কর তুমি দীক্ষা নিয়ে যাবে; তার মানে, যা যা আমি শব্দাবলী দ্বারা প্রকাশ করতে পারি না তা তোমার মধ্যে প্রবেশ করবে - সফটওয়্যার তোমার মধ্যে সঞ্চারিত হবে যাতে তুমি সত্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে সমর্থ হও, তোমার দীক্ষার দরকার নেই; অভিজ্ঞতাই সঞ্চারিত হয়ে যাবে। তা প্রত্যেক মানুষের ওপরে নির্ভর করে যে সে কোন স্তরে সংযুক্ত হবে, কোন স্তরে অভিজ্ঞতা করবে।

মাস্টারের সাথে সংযুক্ত হবার পাঁচটি উপায়

পাঁচ প্রকার মনোভাব নিয়ে মাস্টারের সাথে সংযুক্ত হওয়া যায়। প্রতিটি মনোভাবের সাথে একেকটা পথ খুলে যায়, তোমাকে তোমার আরও কাছে নিয়ে যায়।

Page 19

একটা পথ হল শিশুর প্রতি মায়ের মনোভাব, মাষ্টারকে নিজের শিশুর মত দেখা। একে বলে বাংসল্যভাব। এই ভাব নিয়েই প্রতিপালিকা মাতা যশোদা কৃষ্ণের সাথে সম্বন্ধিত ছিলেন।

আরেকটি হল মাতার প্রতি শিশুর মনোভাব। একে বলে মাতৃভাব। এইভাবে শ্রীরামকৃষ্ণ দেবী কালীর সাথে সংযুক্ত ছিলেন, মাষ্টারকে মাতার মত দেখা।

তৃতীয়টি হল বন্ধুর মনোভাব, মাষ্টারকে নিজের সখা হিসাবে দেখা। একে বলে সখ্যভাব। এই ভাব নিয়েই কুচেলা ও অর্জুন কৃষ্ণের সাথে সম্বন্ধিত ছিলেন।

পরেরটি হল দাসের মনোভাব। তাকে বলে দাসভাব। মাষ্টারশিষ্যের এই সম্বন্ধতায় মাষ্টারের নিষ্ঠাবান সেবকের ভাব নিয়ে শিষ্য থাকে। ঠিক এই ভাব সহকারে হনুমান রামায়ণে রামের সাথে সম্বন্ধিত ছিলেন।

চরম হল প্রেমীর মনোভাব, যা দেহকে ছাড়িয়ে এবং শ্রীপুরুষের ভাবনার উর্ধ্বে। তাকে বলে মধুর ভাব। আমি পরীক্ষা করে বলি : তুমি পুরুষ নাকি স্ত্রী, তার সাথে প্রেমের মনোভাবে কোন সংযোগ নেই। এটি লিঙ্গ চেতনার উর্ধ্বে। এটি এক গভীর সংযুক্তির অনুভূতি।

শেষে হল মহাভাব। এটি অন্য সমস্ত পাঁচটি ভাবের সমন্বয় এবং আরও বেশী কিছু! সেটাই মাষ্টার-শিষ্য সম্বন্ধতা। তুমি মাষ্টারের সাথে পাঁচটি ভাবের যে কোনও একটি দ্বারা সম্বন্ধতা করতে পার, আবার এই পাঁচটি ভাবের সমন্বয়েও সম্বন্ধতা করতে পার।

মাষ্টার যেন এক অরন্যের অল্নি যা নদীর এক পারে ঘটছে। শিষ্য আছে অন্য পারে। নদী হল সংসার, জন্ম ও পুনর্জন্মের নদী।

মাষ্টার ও শিষ্যের মধ্যে যদি এমন কোন সেতু নির্মাণ করা যায়, যার মধ্য দিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সেই আগুন সেতু পার হয়ে

শিষ্যের কাছে পৌঁছতে পারে। সেতু কি দিয়ে তৈরী তা তত্সার্যহীন। তা কাঠ অথবা সিমেন্ট দিয়ে তৈরী হতে পারে, কিন্তু অন্যের অগ্নির সেতু পার করে শিষ্যের কাছে পৌঁছবার সামর্থ্য আছে।

একইভাবে মাষ্টারের সাথে তোমার যেমন সংযুক্তিই থাকুক না কেন, তাতে শুধু সম্পূর্ণরূপে দ্রবীভূত হয়ে যাও। যদি তুমি তাতে দ্রবীভূত হও, তা সহজেই তোমার অনুভূতিগুলিকে পরিপূর্ণ করবে এবং পরমানন্দের অবস্থায় নিয়ে যাবে। যদি তুমি এই সত্য গভীরভাবে বোঝ এবং এটাকে দৃঢ়সংকল্প সহকারে অভ্যাস করার চেষ্টা কর,

'আমি আমার অনুভূতিতে নিবিষ্ট হব ও মাষ্টার-শিষ্য সংযুক্তিতে দ্রবীভূত হয়ে যাব', তা তোমাকে সেই অবস্থায় নিয়ে যাবে।

ভেবো না যে তুমি তাতে দ্রবীভূত হতে জান না। নির্জ্জাল দৃঢ়সংকল্পই যথেষ্ট, তা তোমার মধ্যে স্বতঃস্ফলভাবে ঘটবে। মাষ্টার-শিষ্যের দৃঢ় প্রকিয়াতে নিবিষ্ট হলে মাষ্টার-শিষ্যের মধ্যে যে কোন বাধা মিলিয়ে যায়।

অনুভূতির সংযুক্তির স্তরগুলি

যে পাঁচটি মনোভাব আমি ব্যক্ত করলাম তা প্রকৃতপক্ষে মাষ্টার - শিষ্যের মধ্যে সংযুক্তির অনুভূতির পাঁচটি স্তর বা ধাপ।

এটা নির্ভর করে অবশেষনাকারীর ব্যক্তিত্বের ওপরে।

তিন প্রকৃত ব্যক্তিত্ব হয়। প্রথমে, যে বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে সংযুক্ত হয়, কিন্তু আবেগ দিয়ে সংযুক্ত হতে খুব সময় নেবে। যা কিছু সে বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে বোঝে, তার সাথে সে বুদ্ধিবৃত্তির জন্য সম্বন্ধিত হতে পারে, কিন্তু সে আবেগ দিয়ে অনুভব করে না, তার মধ্যে অনুভূতির সংযুক্তি ঘটে না।

দ্বিতীয় শ্রেণীতে যারা আছে তারা আবেগ দিয়ে অবিলম্বে সংযুক্ত হতে পারে, তাদের সরাসরি অনুভূতির সংযুক্তি হবে, একবার তাকানো,

Page 20

[ERROR page 20 - NVIDIA client error]

Page 21

ও ধারণা প্রদান করেন তা নয়। তিনি আমাকে সমস্যা থেকেও বার করে নিয়ে আসেন। বারবার যখন তুমি প্রতিটি মুহূর্তে তোমার আশা ছাপিয়ে তুমি সাহায্য পাও, তাঁর প্রতি তোমার অনুভূতি আরও আবেগ সহকারে হয়। তিনি তোমাকে ভরে দেন, তোমার হৃদয় ভরে যায়। তাঁকে ভোলা এক সমস্যা হয়ে যায়। সেই সময়ে তুমি তাঁর প্রতি এক বিশ্বস্ত সেবকের মত প্রণিপাত হবার ইচ্ছা কর, সেটা লজ্জায় নয়, সেটা হয় শ্রদ্ধা ও বিনম্রতা সহকারে, কারণ তখন তুমি এমন একজনের পেয়েছ যাকে তোমার সমস্ত সমস্যা সমর্পণ করতে পার। হনুমান রামের প্রতি এই প্রকার অনুভব করেছিল। তিনি রামের প্রতি সম্পূর্ণরূপে সমর্পিত ছিলেন। এই প্রকার সন্বন্ধতার সাথে উচ্চ অনুভূতির এক গভীর সংযুক্তি ঘটে। এই মনোভাব আপেরটিতে চেয়ে আরও ভাবপূর্ণ। এটা ৬০% ভাবগত ও ৪০% বুদ্ধিগত। কালক্রমে তুমি ভাবের আরও গভীরতায় চলে যাও এবং তুমি মাস্টারের সংরক্ষণকারী হও। তাঁর মনোযোগ পাওয়া ও তাঁর থেকে সহায়তা নেবার পরিবর্তে তুমি তাঁকে সহায়তা করতে চাও, তাঁকে প্রেম কর এবং তাঁর পরিচর্যা কর। তোমার মনোভাব এক প্রতিপালক মাতার মত হয়ে যায়। এটা হল বিশুদ্ধ ভাবের অবস্থা। বুদ্ধি, বুদ্ধি-ভাব, ভাব-বুদ্ধি ও বিশুদ্ধ ভাবের চারটি অবস্থায় তোমার জীবন মাস্টারের জীবন থেকে আলাদা ও স্বাধীন। তুমি কেবল তাঁর থেকে তোমার সমৃদ্ধতর জীবনের জন্য সাহায্য নাও, ব্যাস। যখন ভাবের মনোভাব পরিপক্ক হয়, তুমি ভাবতে থাক যে তোমার জীবন তাঁর জীবন থেকে পৃথক নয়। তখন তুমি ভাবের স্তর থেকে সত্তার স্তরে চলে যাও। তোমার তখন নিজেকে সমর্পণ করে তাঁর যত্ন করার এবং তাঁকে তোমার জীবন উৎসর্গ করার ইচ্ছা হয়।

সত্তান্তরে এক সংযুক্তি ঘটে, সেটা মাতাপুত্রের ভাবের সংযোগ থেকেও গভীরতর। এটা গভীর প্রেমের এক সংযুক্তি, তাতে নারীপুরুষ (লিঙ্গ) সম্বন্ধিত কোন সজাগতা নেই। এটাই হল মধুর ভাব, ভাব ও সত্তার মনোভাবের এক প্রগাঢ় মিশ্রণ। মধুর ভাব প্রগাঢ় হলে হঠাৎ তুমি অভিজ্ঞতা কর, কোন ‘তিনি’ এবং কোন ‘তুমি’ নেই। দুটি ভিন্ন সত্তা নয়। তিনি ও তুমি এক ও অভিন্ন। তুমি মহাভাব অভিজ্ঞতা করা আরম্ভ কর - নিজেকে মাস্টার হিসাবে অভিজ্ঞতা করা। তুমি পরমকে অভিজ্ঞতা কর, তত্ত্বমসি, তুমিই তিনি। এইভাবে ধাপে ধাপে তুমি অভিজ্ঞতা করতে শুরু কর এবং মাস্টারের সাথে তোমার অনুভূতির সংযুক্তি বাড়তে থাকে। মাস্টারের সাথে প্রতিটি শিষ্যের সম্বন্ধতা তুলনাহীন। সেটা এক সুন্দর ব্যাপার! প্রতিটি শিষ্য নিজের বাস্তবতার খোঁজে মাস্টারের সাথে উন্নীত হতে থাকবে, শিষ্য নিজের অগ্রগতির সর্বোত্তম পথ পেয়ে যায়। প্রক্রিয়া : মাস্টারের মত জীবনযাপন করা মাস্টারের সাথে জীবনযাপন ও তাঁর সাথে অবিশ্রাম সংযুক্ত থাকার জন্য এখানে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল। প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে মন যে বিষয়ে অবিশ্রাম গভীর চিন্তা করে মন তার আকার নেয়। জীবনমুক্তির স্থানটিকে অনায়াসে অভিজ্ঞতা করার উপায় হল এমন এক সত্তার ধ্যান করা যিনি সেই স্থানে জীবনযাপন করেন

Page 22

[ERROR page 22 - NVIDIA client error]

Page 23

সবচেয়ে খারাপ তোমার সাথে কি হতে পারে? মৃত্যু? তাহলে নিজেকে জিজ্ঞাসা কর, 'মাস্টার তা কিভাবে নেবেন?' যদিও মৃত্যু ঘটে মাস্টার সাবলীলভাবে সহজেই দেহ পরিত্যাগ করবেন।

কোন কিছুই তাকে বিব্রত করবে না। যখন তোমার চোখের সামনে মৃত্যুকে পরিচালনা করার এত সুন্দর উপায় আছে, তাহলে অন্য কোন সমস্যা তোমাকে বাঁধা দিতে পারে?

শুধুমাত্র এই একটি সংযুক্তি তোমার সমস্ত সমস্যার সমাধান দিতে পারে এবং তোমার জীবনকে পরিচালিত করতে পারে। এটা বুঝে নাও যে এটা ভান করার ব্যাপার নয়।

হয়ত প্রথমদিকে সেরকম মনে হতে পারে, কিন্তু যখন অনবরত তুমি জীবনমুক্ত ব্যবহারের অভিব্যক্তিকে অনুসরণ কর, তুমি সেই অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত কর যেখান থেকে সেটির উদয় হয়।

এক মাস্টারকে জীবনে ধারণ কর, তুমি এক মাস্টারের মত জীবনযাপন করবে!

অনুভূতি সংযুক্তির মাত্রাগুলি

প্রার্থনা ও অনুভূতির সংযুক্তি ঈশ্বর অথবা মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তির জন্য এক শক্তিশালী উপায় হল প্রার্থনা। আন্তরিক প্রার্থনার মহান উপকারিতা আছে: যখন তুমি মাস্টারের সাথে সংযুক্ত থাক, তখন এবং মাস্টারের আকরে সর্বশক্তিধর, দয়াময় অস্তিত্বের মধ্যে প্রার্থনা এক সরাসরি সেতু নির্মাণ করে।

অনুভূতি সংযুক্তির মাত্রাগুলি

প্রার্থনা সরাসরি তোমার ভিতরে বহন করা সমস্ত শারীরিক ও মানসিক অশুদ্ধিগুলিকে সরিয়ে ফেলে। তা তোমার বহন করা সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলতে পারে। প্রার্থনা হল পরম শক্তির দিকে তোমার শক্তির এক সুসংহত ও সুকেন্দ্রিত পরিচালনা।

অনুভূতি সংযুক্তির মাত্রাগুলি

প্রার্থনার শক্তিকে কি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রমাণ করা যায়? যদি তুমি কারো জন্য প্রার্থনা কর, সে কি উপকৃত হবে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য বিশেষভাবে গত দশকে গবেষণা হয়েছে।

অনুভূতি সংযুক্তির মাত্রাগুলি

কিছু তথ্য নীচে দেওয়া হল : ১৯৯৮ সালে এক গবেষণাতে বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ও ভারতীয় শমন ইত্যাদি থেকে কিছু বাছাই করা হীলারকে (নিরাময়কারী) কুড়িটি শেষধাপের এইডস রোগীর নাম, রক্তের বর্ণনা ও ফটোগ্রাফ দেওয়া হয়। দশ সপ্তাহ প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে হীলারেরা তাদের চিন্তা রোগীদের ছবিতে কেন্দ্রিত করে। কুড়িজন এইডস রোগীদের

Page 24

আরও একটি গ্রুপ ছিল, যাদের জন্য এইভাবে প্রার্থনা করা হল না। লক্ষ্য করার এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রোগীদের কোন ধারণাই ছিল না যে তাদের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে।

দেখা গেল যে রোগীরা দূর থেকে হিলীং (নিরাময়) পাচ্ছিল, হিলীং না পাওয়া গ্রুপের থেকে তাদের অপেক্ষাকৃতভাবে নতুন রোগ কম হল, ডাক্তারের কাছে কম গেল এবং সাধারনত সক্রিয়ত্মক ছিল। যাদের জন্য প্রার্থনা করা হয় নি তাদের থেকে প্রথম গ্রুপটি পঁচিশ থেকে একশ ভাগ ভাল ফল দেখাল।

ইঁদুরের ওপরে একই প্রকার পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে দূরের হিলীং টিউমারকে সংকুচিত করে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে যে অপরের প্রার্থনায় হৃদরোগীরা অপেক্ষাকৃত শীঘ্র সেরে ওঠে, যদিও তারা জানেন না যে তাদের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে।

একই রকম পরীক্ষায় প্যারিসের হাসপাতালে ষাটজন অত্যন্ত অবস্থার রোগীদের একটি গ্রুপের জন্য প্রার্থনা করা হয়, রোগীরা তা জানত না। আরো ষাটজন অত্যন্ত অবস্থার রোগীদের একটি গ্রুপের ওপরে নজর রাখা হল, যাদের জন্য প্রার্থনা করা হয় নি, কিন্তু ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। প্রথম গ্রুপের সবারইকেও ওষুধ দেওয়া হয়।

দেখা গেল যে গ্রুপের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছিল তারা অন্য গ্রুপটির থেকে গড়পড়তা চার মাস বেশী বাঁচে। কেবল তাই নয়, তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠল। অন্য যে গ্রুপটির জন্য প্রার্থনা করা হয় নি, তাদের কেউ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে নি।

নিজের ওপরে প্রার্থনার শক্তিকেও চমকপ্রদ দেখা গেল। আমেরিকার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এই ফলাফলগুলিকে অধ্যয়ন করেছে।

কিছু উপকারিতাগুলি হল :

হৃদরোগ ও ক্যান্সারে চল্লিশ শতাংশ কম মৃত্যুর হার

হৃদরোগীদের অপারেশনের পরে বেঁচে যাবার সুযোগ কমপক্ষে চৌদ্দ শতাংশ বেশী

তিন সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার সময় কমে যাওয়া

কিছু গবেষণা :

আশীর দশকে সানফ্রান্সিসকোতে প্রায় চারশ রোগীদের ওপরে একটি গবেষণায় দেখা যায়, যে গ্রুপটির জন্য হিলীং প্রার্থনা করা হয়, তাদের অপেক্ষাকৃতভাবে যে কম মৃত্যু হয় তা নয়, তাদের সি পি আর (কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন), মেকানিকাল ভেন্টিলেটার ও অ্যাণ্টিবায়োটিকের প্রয়োজনও কমে যায়।

প্যারিসে জীবাণুর বৃদ্ধির ওপরে চিন্তার প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়। এই পরীক্ষায় মানুষের কোতূহলোদ্দীপক একটি গ্রুপকে কেবল তাদের ইচ্ছা দ্বারা কিছু ধ্বংসাত্মক ছত্রাকের (funlgi) বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে বলা হয়। চারপাশের পরিবেশকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত করা হয়। ছত্রাকের দুটি গ্রুপ ছিল। একটির দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়, অন্যটির দিকে কোনরকম মনোযোগ দেওয়া হয় নি। দেখা গেল, যে গ্রুপটির প্রতি বৃদ্ধি না হবার জন্য মনোযোগ দেওয়া হয়, তাতে ৭৫ শতাংশের বেশী ছত্রাকের বৃদ্ধি থামে পেল।

Page 25

প্রক্রিয়া : ঐশ্বরিক স্পন্দনের সাথে সুর মেলানো

তোমার ভক্তি যতক্ষণ আন্তরিক ও সুসংহত থাকে, তুমি যে কোনভাবে অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংযোগসাধন করতে পার। তার জন্য খুবই সহজ শক্তিশালী ও কার্যকর উপায় হল মন্ত্রের উচ্চারণ। মন্ত্রগুলির ভাষাগত ও স্পন্দনগত দিক থেকে গভীর অর্থ আছে। যে মন্ত্রের সাথে নিজের সুর সবচেয়ে ভাল করে বাঁধা আছে মনে কর, সেটিকে বেছে নাও। যদি তোমার কোন প্রিয় বিগ্রহ থাকে, তুমি সেটির নাম বা মন্ত্র বেছে নিতে পার। যদি তোমার কোন গুরু থাকে, তাহলে অনায়াসে অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংযুক্ত হওয়া যায়, যেহেতু গুরু (মাস্টার) হলেন নিরাকার শক্তির জীবন্ত সচল মূর্তি। তিনি হলেন ঈশ্বরের সাথে তোমার সরাসরি সংযোগ। তুমি যা কিছু মন্ত্র বা প্রার্থনা বেছে নাও, মনে রেখ, সেটা তোমার জন্য কেবল এক সংযোগ সাধনের নিমিত্ত। ঐশ্বরিক শক্তি সর্বদাই আছে। তোমাকে কেবল তোমার জন্য সহজতম পথটিকে বেছে নিতে হবে। প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে প্রার্থনা বা মন্ত্রের মাধ্যমে মাস্টার, গুরু অথবা কোন জীবনমুক্ত সত্তার সাথে অনুভূতির সংযুক্তি এক শক্তিশালী প্রক্রিয়া এবং তা তোমাকে চরম অনুভূতির সংযুক্তি ও জীবনমুক্তিতে পরিচালিত করতে পারে।

সময় : প্রযোজ্য নয়

নির্দেশাবলী সমস্ত সত্তাকে মন্ত্রের জন্য কর্ণ (কান) বানিয়ে ফেল। বসে পড় এবং লক্ষ্য কর যে সমস্ত সত্তা মন্ত্রটিকে শ্রবণ করছে। যদি তুমি মন্ত্রটি মনে মনে পুনরাবৃত্তি কর, মন নানা কিছু পুনরাবৃত্তি করে। যখন সমস্ত সত্তাকে মন্ত্রের জন্য একটি কর্ণ বানানো হয়, তুমি অনুভব কর যে মন্ত্রটি সর্বত্র থেকে আসছে। সেটি অভ্যাসের সাথে স্বাভাবিকভাবে হবে। তাহলে মন্ত্র উচ্চারণ করার জন্য তোমার প্রয়াস করার প্রয়োজন নেই। সবশেষে মন্ত্রটিও থাকে না। তুমি মন্ত্র হয়ে যাও - মন্ত্রটির সুগন্ধসার 'তুমি' হয়ে যাও। মন্ত্র কেবলমাত্র এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে এবং তা তোমার সমস্ত সত্তাকে ভরে দেয় এবং তোমার থেকে পৃথক হয়ে থাকে না। মন্ত্রের স্পন্দন সতার স্পন্দন ও কম্পাঙ্ককে পরিবর্তন করে ফেলে। বুদ্ধিমত্তার বৃদ্ধির ফলে বোধশক্তি বাড়ে। যা তুমি অবিশ্রাম পুনরাবৃত্তি কর, তা তোমার সত্তার অংশ হয়ে যায়। যখন তুমি প্রতিনিয়ত গুরুমন্ত্র স্বব কর, তোমার ভিতরের কিচিরমিচির শক্তিশালী মন্ত্র দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। তাই তোমার অন্তর্দেশ থেকে অনবরত ওঠা অপ্রয়োজনীয়, এলোমেলো, অর্থহীন চিন্তাগুলির পরিবর্তে মন্ত্র নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে এবং তোমার অন্তর্দেশকে শুদ্ধ ও শক্তিশালী করে। কথা বলার ক্রিয়ার যে শক্তি আছে তাকে বলে বাক্, সেই বাক্ তখন পূর্নরূপে বিশুদ্ধ হয়।

Page 26

[ERROR page 26 - NVIDIA client error]

Page 27

[ERROR page 27 - NVIDIA client error]

Page 28

প্রক্রিয়া: অবিশ্রাম উপনিষদে থাকা

আমার স্থূল শরীরের কাছে না থাকলেও সেই প্রশান্তিনয় সজাগতার স্থানে বারবার কিভাবে নিজেকে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আমি তোমাদের একটি সহজ প্রক্রিয়া দিতে পারি। প্রত্যেক রাতে ঘুমানোর আগে আমার যে কোন বক্তৃতা কমপক্ষে দশ মিনিট ধরে দেখ ও শ্রবণ কর। আরাম করে এক গভীর প্রশান্তিনয় সজাগতা সহকারে শ্রবণ কর ও ঘুমিয়ে পড়। দেখবে - পুরো রাত তুমি এক সাধারণ নিদ্রা অভিজ্ঞতা করছ না। তুমি উপনিষদে আছ, সম্পূর্ণ রাত্রি তুমি উপনিষদে আছ, চেতনার এক খুবই উচ্চ অবস্থায়। আর পরদিন তুমি প্রতিক্ষণ আমার উপস্থিতি সুরভির মত এক সূক্ষ্ম অভিজ্ঞতা হিসাবে অনুভব করবে।

দীক্ষা এবং অনুভূতির সংযুক্তি

প্রশ্ন : যারা সরাসরি আপনার লাইভ সৎসঙ্গ দেখে আপনি কি কেবল তাদের দীক্ষা দেন? যারা সরাসরি লাইভ দেখতে পারে না, যারা ইউটিউবে রেকর্ড করা সৎসঙ্গ পরে দেখে, আপনি কি তাদের দীক্ষা দেন? দয়া করে বোঝ, যখনই তুমি মাস্টারের সাথে গভীর আস্থা ও অনুভূতির সংযুক্তি সহকারে দ্বীভূত হও, দীক্ষা ঘটে। যখন তুমি আস্থা ও গভীর সংযুক্তির সাথে গলে যাও, তুমি আমার সাথে লাইভ বসে আছ, তুমি আমার সাথে জীবন্ত হচ্ছ, আমি তোমার সাথে জীবন্ত হচ্ছি।

যখন তোমার কুণ্ডলিনী জাগরিত হয় এবং তুমি ও মাস্টারের মধ্যে অনুভূতির সংযুক্তি ঘটে, তুমি ও তার মধ্যে দ্বীভূত হয়ে যাও। আমি এখানে বসে। লোকেরা ইউনিয়ারের চারদিকে বসে আছে, তারা হাজার হাজার মাইল দূরে। উপস্থিতির ও অনুভূতি সংযুক্তির শক্তি দেখ। হাত এখানে নড়ল, আর আমেরিকার সান হোসেতে স্পন্দন শুরু হল। কত মাইল দূরে? আর এটা এইজন্য ঘটছে না যে আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি আছে। না! এটা কেবল স্মরণ দ্বারাই ঘটতে পারে। এটা সম্ভব।

আমি এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি : যখনি এক আন্তরিক অন্বেষণকারী, আন্তরিক শিষ্য মাস্টারের সাথে গভীর দ্ববণের স্বস্তিপূর্ণ মেজাজ নিয়ে বসে, তখন কেবল মাস্টার শিষ্যের সঙ্গে জীবন্ত হয়ে যান তা নয়, শিষ্যও মাস্টারের সঙ্গে জীবন্ত হয়ে যায়। দয়া করে বোঝ, কেবল শিষ্যই পরিপূর্ণ বোধ করে তা নয়, মাস্টারও পরিপূর্ণ অনুভব করেন। সন্ন্যাসী, শিষ্য, ভক্তদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না; এটাই কেবল তোমার সংযুক্ত হবার অনুভূতি ও এই সত্যগুলিকে অভিজ্ঞতা করে জীবনে সেগুলিকে বিকিরণ করার সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করা; আর কিছু নয়।

যখন এক আন্তরিক অন্বেষণকারী গভীর আস্থা সহকারে দ্বীভূত হয় ও স্বস্তিতে থাকে, তখন আলোকের সংঘার স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়, তা তুমি এই হলঘরে সমশরীরে আমার সাথে বসে থাক বা আমাকে লাইভ টু-ওয়ে কনফারেন্সিং-এ দেখ বা আমার সাথে ওয়েবিনার-এ বসো বা ইউটিউবে আমার এই কথা বছর পরে দেখ! তাতে কিছু যায় আসে না।

Page 29

[ERROR page 29 - NVIDIA client error]

Page 30

[ERROR page 30 - NVIDIA client error]

Page 31

সেইজন্য সেই অলৌকিক ঘটনাগুলি তোমার জন্য আর ঘটছে না, যদিও সেগুলি অন্যদের জন্য ঘটছে, যাদের অনুভূতির সংযুক্তি আছে। এটা বোঝ, মাস্টার অথবা অস্তিত্বের সাথে মাত্র অনুভূতির সংযুক্তির মাধ্যমে তুমি তোমার জীবনে অলৌকিক ঘটনা ঘটা সহজেই দেখতে পাবে। পদ্মপাদের গল্প পরীক্ষার করে প্রমাণ করে যে আদি শংকরের সাথে কেবল অনুভূতির সংযুক্তি দ্বারা তিনি প্রকৃতিকে অধিগত করেছেন। গল্পটা তাহলে বলি : আদি শংকরাচার্যের এক মহৎ শিষ্য ছিল। তিনি অন্যদের মত বুদ্ধিমান ছিলেন না, কিন্তু খুবই ভক্তিপ্রাণ ছিলেন এবং মাস্টারের প্রতি উৎসর্গীকৃত হয়ে ও অখণ্ড সহকারে নিজের শিষ্যত্বে সমর্পিত ছিলেন। একদিন তিনি আশ্রমের কাছে নদীর অন্য পারে মাস্টারের কাপড় ধুতে গেলেন। শংকরের অন্য কিছু শিষ্য তা দেখে মজা করতে লাগল, ‘কি ব্যাপার? এই ব্যাটা সবসময়ে কেবল কাপড়ই ধুচ্ছে! ও কি এখানে ধোপা হতে এসেছে? সে যদি শাস্ত্রপাঠ না করে, মনন না করে, তবে সে কবে

জীবনমুক্ত হবে? সে প্রকৃতিকে কিভাবে অধিগত করতে পারবে?' আদি শংকর তা শুনছিলেন ও ভিতরে ভিতরে হাসছিলেন। তিনি জানতেন এই শিষ্যটি অন্যদের চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে হয়ত একটু কম সমৃদ্ধ, কিন্তু সে বিশ্বয়করভাবে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ছিল এবং জানত কোন কাজটা আগে করতে হবে এবং প্রথম কর্তব্য প্রথমে করত। আদি শংকর সেটা অন্য শিষ্যদের দেখাতে চাইলেন। তাই তিনি উঠলেন ও শিষ্যদের ডাকলেন, 'দয়া করে এক্ষুণি এখানে এসো!' মাস্টারের ডাক শুনে শিষ্যটি সব ভুলে গেল। অন্যদন্য অবাক শিষ্যদের সামনে তিনি নদীর ওপর দিয়ে যত তাড়াতাড়ি পারে হেঁটে মাস্টারের কাছে যাওয়া শুরু করলেন! তখন নদী ভাবল, ‘হে ভগবান! এখন তো আমাকে এনাকে রক্ষা করতে হবে! যখन সমগ্র মহাবিশ্বের ওপরে কারো এমন গভীর বিশ্বাস থাকে - মাস্টার তো সেই সমগ্র মহাবিশ্বের প্রতীক - আমি তো তাঁকে কষ্ট দিতে পারি না! আমি তাঁকে হতাশ করতে পারি না!’ তাই শিষ্য যেখানে যেখানে সে রাখলেন নদী সেখানে সেখানে পদ্ম সৃষ্টি করল ! দয়া করে বোঝ : নদীতে পদ্ম ফোটে না, কারণ তা কখনো প্রবহমান জলে ফোটে না। তা কেবল বদ্ধ জলে ফুটতে পারে। কিন্তু এখানে শিষ্যটিকে সুরক্ষিতভাবে নদীর অন্য পারে নিয়ে যাবার জন্য সৃষ্টি)

Page 32

8

অনুভূতি সংযুক্তির গভীরতার সত্যসকল

সাধারণত নদী পার হবার সময় লোকেরা উদ্বিগ্ন থাকে। প্রথমবার এমন হল যে ওপারে কেউ যাচ্ছে বলে নদী উদ্বিগ্ন হল, কারণ নদীকে তো শিষ্যটিকে অন্য পারে নিয়ে যেতে হবে! যেহেতু শিষ্যটির পা পদ্মের ওপর পড়ল, তার নাম হয়ে গেল পদ্মপদ। এই ঘটনাটি দ্বারা সংঙ্কর তার শিষ্যদের প্রেম-আকাশ ও অনুভূতির সংযুক্তির প্রয়োজনীয়তা প্রদর্শন করালেন। এগুলো তো অবৈত সত্য সংস্কারের জন্য অপরিহার্য। বোধ : অবৈত সত্যকে অধীকার করেছ বলেই তো তোমার জন্ম হয়েছে! আর এই প্যাটার্নটি (সংস্কার) এতই গভীর যে সেটা তোমাকে ধারণা প্রদান করেছে যে তোমার মানবদেহ ও ভণ্ড মনের চেয়ে অন্য একজনকে আরও বেশি বিশ্বাস না করলে তোমার মানবদেহ ও ভণ্ড-মনকে তুমি অতিক্রম করতে পার না। সেইজন্য প্রেম চক্রের পূর্ণতা অভিজ্ঞতা করার জন্য মাস্টার নিজেকে তোমার কাছে উপলব্ধ করেন। তিনি তোমার জন্য প্রেম চক্রের পূর্ণতা অভিজ্ঞতা করা সম্ভবপর করেন। মাস্টারের আকাশের গঠনই হল প্রতিনিয়ত তোমাকে অবৈতের প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দেওয়া। দয়া করে বোঝ, তিনি যা কিছু করেন, তিনি প্রতিনিয়ত তোমাকে অবৈতের প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, প্রতিনিয়ত তোমাকে অবৈতের স্থানে দাঁড়াতে স্মরণ করাচ্ছেন। অবৈত তো মহাজাগতিক বিষয়।

8

অনুভূতি সংযুক্তির গভীরতার সত্যসকল

অনুভূতির সংযুক্তি দুঃখকষ্ট দূর করে। আমি কবীরের মত পরম ভক্তের কিছু পবিত্র ভাবানুভূতি শেয়ার করব এবং অনুভূতির সংযুক্তি ও ভক্তির সুমহানর্থ দেব। কবীর খুব সুন্দরভাবে ভক্তিকে বর্ণনা করেন : "ভক্তি সূক্ষ্মভাবে প্রকাশিত হয়। এই পথে কোন চাওয়া নেই, কোন না চাওয়া নেই। যেই মুহূর্তে তাকে (ভক্তি) স্পর্শ কর, আমিত্ব একদম মিলিয়ে যায়। তাকে খোঁজার আনন্দ এতই অচেন যে তুমি শুধু ঝাঁপ দাও এবং তীরের কাছে মাছের মত চলতে থাক। কেউ যদি মাথা চায়, প্রেমী লাফিয়ে আসে নিজের মাথাটিকে অর্পণ করার জন্য" গতকাল আমাদের এক খামি মা প্রশ্ন করেছিলেন, 'পথে ব্যাকুলতা (ঈশ্বরের জন্য) ও দুঃখকষ্টের মধ্যে পার্থক্য কি?' কবীর এই প্রশ্নের উত্তর দেন।

Page 33

[ERROR page 33 - NVIDIA client error]

Page 34

কিছু চাও না। তুমি চাও না, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সেটা তোমার ওপরে বর্ষিত হলে তুমি তা স্বীকার কর না। এটা কতই না অপার নম্রতা ও অকৃত্রিমতা; কতই না সুন্দর ঐশ্বর্য।

দ্বন্দ্বকষ্টের সাথে তুমি চাও এবং যদিও তিনি তা পূরণ করেন, তুমি পরিপূর্ণ হও না। আমি উদ্ধত মানুষদের দেখেছি; আমি দেখেছি তারা নিতে চায় না। তারা ভাবে, 'না, এটার দরকার নেই; আপনি দিচ্ছেন কারণ আমরা ভিক্ষা করেছি; আমি তা নিতে চাই না।' বোকা দল!

দ্বন্দ্বকষ্ট সর্বদা অভিমানের (গর্বের) ওপরে ভিত্তি করা, আর ব্যাকুলতা নিরভিমানের (বিনম্রতা) ওপরে ভিত্তি করা।

ব্যাকুলতার সাথে তোমার মনে হয় না যে তিনি এক মানুষ; তুমি ভাব না যে তিনি তোমার সমান। কিন্তু দ্বন্দ্বকষ্টের সাথে তুমি অনুভব করতে শুরু কর যে তিনি তোমার সমান। সেইজন্য আমি সবসময়ে লোকেদের বলি, 'যদি তুমি কষ্ট পাচ্ছ, তার অর্থ আমার প্রতি তোমার প্রেম নেই। তুমি আমাকে তোমার স্তরে নিয়ে যাবার চেষ্টা কর।'

দ্বন্দ্বকষ্টে, তোমার অভিমানের জন্য তুমি চিন্তা করার চেষ্টা কর যে তুমি তাঁর সমান এবং তুমি তাঁকে তোমার স্তরে নামিয়ে আন। ব্যাকুলতায়, তুমি সর্বদাই জান যে তিনি হলেন পরম, আর তুমি কেবল তাঁর মধ্যেই মিলিয়ে যেতে চেষ্টা কর, তুমি কেবল মাষ্টার বা ঈশ্বরের মধ্যে দ্রবীভূত হবার চেষ্টা কর।

"যেই মুহূর্তে তাঁকে স্পর্শ কর, আমি একদম মিলিয়ে যাই। তাঁকে খোঁজার আনন্দ এতই অচেনে যে তুমি শুধু ঝাঁপ দাও এবং তীরের কাছে মাছের মত চলতে থাক।"

যখন তুমি মহানন্দে আছ, তুমি সর্বদাই গুরুর চরণ স্পর্শ করতে ইচ্ছা কর, তাঁর চরণে নিজেকে সমর্পিত করতে ইচ্ছা কর। গুরু পূজা কেন

করা হয় বা লোকেরা কেন গুরুর চরণ স্পর্শ করে, তার কোন যুক্তিগত কারণ নেই। সেটা এক ভাবের অনুভূতির সংযুক্তি। কিছু মানুষের জন্য তা মনে হয়, 'কেন আমি তা করব?' কিছু মানুষের জন্য সেটা হলে জীবন; তারা সেটা ছাড়া জীবনযাপন করতে পারে না!

আমি জানি আমার লাখ লাখ শিষ্যের কাছে প্রতিদিন সকালে আমার সাথে পাদপূজা ও সৎসঙ্গের সময় বসা কোন আহার্য গ্রহণ করার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ। এটা তাদের জন্য দৈনন্দিন পরমানের ভোজ। এটা খুবই শক্তিশালী পরমাত্মাদের ভোজ; এটা নিজেই জীবনে পূর্ণ। এর কোন যুক্তিগত কারণ নেই। এটা ব্যক্তির আবেগ এবং অনুভূতির সংযুক্তির ওপরে ভিত্তি করা।

তাই আমি তোমাদের বলতে চাই - এগুলো সব কর একমাত্র যদি তুমি গভীরভাবে এগুলোর সাথে সংযুক্তি অনুভব কর, অন্যথা নয়। এটাকে কোন প্রথাগত অনুষ্ঠান হিসাবে করা উচিত নয়। সকালের যোগ সন্তোষে বলতে গেলে, সেটা তো করাই উচিত, তুমি চাও কি না চাও, কারণ তখন তুমি শরীরের ওপরে কাজ করছ। কিন্তু গুরু পূজার ব্যাপারে তোমার মনকে সেটা অনুভব করা চাই। প্রেম সহকারে, উচ্ছ্বাস ও আনন্দ সহকারে তুমি নিজেকে তার মধ্যে ঢেলে দেবে।

"যদি কেউ মাথা নত করে, প্রেম নিয়ে কাছে নিজের মাথাটিকে সম্পূর্ণ করার জন্য"

মাস্টারের সাথে প্রেমে থাকলে, ঈশ্বরের সাথে প্রেমে থাকলে, তুমি যে কেবলমাত্র তাদের জন্য প্রেমে আছ তা নয়, তুমি যে কোন মানুষের জন্য সমর্পণ করতে প্রস্তুত হও। তুমি অনুভব কর যে সব কিছুই সমর্পণ করার যোগ্য। এটাই চূড়ান্ত প্রেম এবং পরম পবিত্র অনুভূতি।

Page 35

প্রক্রিয়া: হৃদয়কে উন্মুক্ত করা

হৃদয়স্থলে অনাহত চক্রকে উন্মুক্ত করার জন্য এবং ভক্তি ও অনুভূতির সংযুক্তি অভিজ্ঞতা করার জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান পদ্ধতি দেওয়া হল।

প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে মহামন্ত্র ধ্যান এমন এক প্রক্রিয়া যার দ্বারা তোমার মনকে কেন্দ্রিত ও সংহত করা যায় এবং তোমাকে শক্তি দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া যায়। মহামন্ত্র এমন এক অত্যাবশ্যক স্পন্দন যা অনুরণিত হয় কেবল তোমার সত্তায় নয়, সম্পূর্ণ অস্তিত্বেও। এই পদ্ধতিকে গুঞ্জনের মাধ্যমে তোমার সম্পূর্ণ শরীরকে মহামন্ত্র তৈরি করার জন্য উত্তেজিত করা হয়েছে। তোমার সজাগতাকে বর্তমান মুহূর্তে নিয়ে আসার জন্য গুঞ্জন এক শক্তিশালী উপায়। যদি তুমি প্রগাঢ়ভাবে গুঞ্জন কর, সেই সময়ে তোমার কোন চিন্তা থাকবে না। তাই তোমার টিপিএস (প্রতি সেকেন্ডে চিন্তাসংখ্যা, TPS, thoughts per second) স্বতঃস্ফুর্তভাবে কমে যায়। গুঞ্জন দ্বারা উৎপাদিত শক্তি দেহ-মন তন্ত্র শক্তিপ্রবাহের বাধাগুলিকে দূর করে। যখন তুমি প্রগাঢ়ভাবে গুঞ্জন কর, নিজের সম্পর্কে তোমার সমস্ত ধারণাগুলিকে ঝাঁকানো হবে। ভূমিকম্পের অনুরূপ এই পদ্ধতিটি হল ‘মনকম্প’!

এই পদ্ধতিটি তোমাকে কানায় কানায় শক্তিতে ভরপুর করবে, যাতে তুমি অপরের থেকে মনোযোগ পাবার প্রচেষ্টা বন্ধ কর। মনোযোগ পাবার চাহিদা এক নিঃসঙ্গত্বের শক্তি। মনোযোগ এক শক্তি। উচ্চশক্তির স্তরে থাকলে তোমার জন্য অপরের কাছ থেকে মনোযোগের শক্তির প্রয়োজন হয় না। পারিবার্দ্যে, তুমি শক্তিতে উজ্জ্বলিত হবে এবং তা তুমি অন্যের উপর বর্ষণ করতে শুরু করবে! মহামন্ত্র উচ্চারণ হল এমন এক মন্ত্রপাঠ যা কোন বাচনের উর্ধ্বে, যা কোন লিখন বা অভিব্যক্তিকেও ছাড়িয়ে। এটা হল অনাহত ধ্বনি অর্থাৎ না-শোনা শব্দ। যখন এই ধ্যানে শক্তি অভিজ্ঞতা কর, বুঝবে যে তুমি এই অনাহত ধ্বনিকে ভিত্তি করেই বিদ্যমান। এই ধ্যান অভ্যাস করলে তোমার সমস্ত শক্তি তোমার মধ্যে কেন্দ্রিত হয় এবং তা ভক্তি ও অনুভূতির সংযুক্তি অভিজ্ঞতা করার জন্য তোমার হৃদয়কেন্দ্রকে জাগ্রত করে। সময় : ৩০ মিনিট

Page 36

[ERROR page 36 - NVIDIA client error]

Page 37

যা কিছু চিন্তার উদয় হয়, তাদের গুঞ্জনে ছুঁড়ে ফেলে দাও। ক্রমশ সেগুলি মিলিয়ে যাবে।

কিছু সময় পরে অনুভব করবে যে তোমার প্রচেষ্টা ছাড়াই গুঞ্জন চলছে এবং তুমি তার শ্রোতা হয়ে গেছ!

তুমি অজপা অবস্থায় প্রবেশ কর - যেখানে তোমাকে জপ করতে হয় না, জপ নিজের থেকেই ঘটে। তোমার মন্ত্রের পুনরাবৃত্তি করতে হয় না, মন্ত্র তোমাকে পুনরাবৃত্তি করবে।

এটা কুড়ি মিনিট ধরে কর।

ধাপ ২ (১০ মিনিট)

হঠাৎ তোমার গুঞ্জন বন্ধ কর।

এক মহান নীরবতা তোমার সত্তাকে প্লাবিত করে।

মুহূর্তের জন্য সময় থেমে যায়।

এই নীরবতাকে প্রত্যক্ষ কর। তোমার ভিতরে ও চারপাশে বিরাট প্রশান্তিকে অভিজ্ঞতা কর।

এই সময়ে গুঞ্জন দ্বারা উৎপাদিত শক্তি তোমার সত্তার প্রতিটি কোণায় কোণায় প্রবেশ করে এবং গভীরভাবে বিশোধন করে। এটা তোমাকে বর্তমান মুহূর্তের সজাগতায় প্রতিষ্ঠিত করে। তোমার নকারাত্মকতাগুলিকে মুছে ফেলার জন্য, স্পষ্টতা আনার জন্য এবং নিজের প্রকৃত সম্ভাবনা অভিজ্ঞতা করতে সমর্থ করার জন্য এই সজাগতাই তো প্রয়োজনীয়।

কিছুক্ষণ পরে, নীরবতাতে চিন্তাগুলি প্রবেশ করা আরম্ভ করবে। তাদের

বাধা দিও না; তাদের মধ্যে প্রবেশ করবে না। শুধুমাত্র এই চিন্তাগুলিকে প্রত্যক্ষ কর। নীরব ও আনন্দময় হয়ে থাক।

সজাগতার এক কেন্দ্র হও।

অনাহত চক্রে কেন্দ্রিত হয়ে থাক। তুমি সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রিত ও শান্ত অনুভব করবে।

এটা দশ মিনিট ধরে কর।

এটিকে একশ দিন রোজ কর।

Page 38

অনুভূতির সংযুক্তি অটল আস্থার দিকে নিয়ে যায়

একটা ছোট গল্প : একজন জীবনমুক্ত মাস্টার তাঁর উত্তরাধিকারী হবার জন্য একটি ছোট বালককে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। মাস্টারের সাথে এই ছোট বালকটির এক গভীর প্রেমের সংযুক্তি ছিল, কিন্তু ছেলেটি ছিল খুব চঞ্চল। সে মাস্টারের মত ব্যবহার করার চেষ্টা করত। সে তাঁকে নকল করার চেষ্টা করত ও তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে তাঁকে নিয়ে মজা করত। কোন বিষয়কে জোর দেবার জন্য সবসময়ে বুড়ো আঙুল ওপরে করার একটা অভ্যাস মাস্টারের ছিল। ছেলেটি তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে একই অঙ্গভঙ্গী করত। একদিন মাস্টার তা লক্ষ্য করলেন। তিনি তাঁর ছুরি বার করলেন ও ছেলেটির বুড়ো আঙুল কেটে ফেললেন! বোঝা : গল্পটি সন্দরভাবে বলে, বালকটির আস্থা ও অনুভূতির সংযুক্তি এত গভীর ছিল যে সে একবারও ভাবে নি তার সাথে খারাপ কিছু করা হয়েছে। শিষ্য স্পষ্টভাবে অনুভব করেছিল, যদি মাস্টার কিছু করেন, সেটা তো তার জন্য ভালই হবে। শুধুমাত্র এই গভীর আস্থা ও উন্মুক্ততার জন্য, সেই মুহূর্তের ভীষণ বেদনা বালকটির কর্মগুলিকে দমন করল এবং সেই মুহূর্তে সে পরম জ্ঞানালোক প্রাপ্তি করল।

মৃত্যুর মুহূর্তে অনুভূতির সংযুক্তি তোমার সহায়তা করে

এটা একটা খুবই গভীর বিষয়; এক সূক্ষ্ম বিষয়। প্রথমত, তোমার জানা প্রয়োজন যে তুমি কতটি কতটি দেহ ধারণ করেছ ও মানবদেহ ধারণ করার আগে কতটি কতটি জীবনযাপন করেছ! তাই তোমার জানা প্রয়োজন তুমি কিভাবে বর্তমান শরীরটি সৃষ্টি করেছ এবং পরের জন্মের জন্য সচেতনভাবে কি প্রক্রিয়ায় এক জ্ঞানালোকপূর্ণ (জীবনমুক্ত) জীবনস্মৃতি সৃষ্টি করতে পার। বোঝা : তোমার ধারণ করা প্রতিটি শরীরে, সেই জীবনে যা কিছু দেখ তা তোমার মন্ত্রে রেকর্ড হয়ে যায়। এই খোদিত স্মৃতিগুলি হল সংস্কার। পাঁচটি ইন্দ্রিয় দ্বারা যা কিছু দেখ, শোন বা অভিজ্ঞতা কর তা তোমার মধ্যে সংস্কার হয়ে যায়। মৃত্যুর মুহূর্তে জীবনে দেখা সর্বোত্তম জিনিষকে স্বাভাবিকভাবে তুমি স্মরণ করবে এবং সেটাকে পরের জন্মে তোমার বাস্তবতা করার সিদ্ধান্ত নেবে। প্রথমে আমি সেই উদাহরণ দিয়ে শুরু করব, যখন তুমি মৎস্য ছিলে - যখন তুমি মাছের শরীর নিয়ে বাস করছিলে। মাছ মহাসাগরের চারদিকে দেখলে কি দেখবে? সে হয়ত আরও বড় মাছ দেখবে, হয়ত একটা কচ্ছপ দেখবে বা বিভিন্ন সাগরের জীব ও গাছপালা দেখবে। তার সমস্ত জীবন ধরে সে যা দেখে তা তার ভিতরে সংস্কার হয়ে রেজিস্টার হয়ে যায়। মৃত্যুর মুহূর্তে অর্জিত সমস্ত সংস্কারগুলি তার সামনে আসবে - আরও বড় মাছ, কচ্ছপ সবকিছু। পরবর্তী জন্মে কি প্রকার শরীর নিতে হবে সে সম্পর্কে তার এক পছন্দ থাকবে।

Page 39

ধর এই মাছটি অনুভব করে তার জীবনে দেখা ও অভিজ্ঞতা করা জীবদের মধ্যে কচ্ছপ হল সর্বোত্তম, সে তখন পরবর্তী জন্মে কচ্ছপের শরীর ধারণ করা বেছে নিতে পারে। একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ হল, আমরা সাধারণত নিকটবর্তী প্রজাতিতে জন্ম নিতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, যদিও এই মাছটি মানুষ দেখে থাকে, সে তা হতে পারবে না; সে মানুষ হয়ে জন্ম নেবার জন্য বিরাট লাফ দেওয়াটাকে ধারণাই করতে পারবে না। তাই তার পক্ষে যে লাফ দেওয়া সম্ভব, সে সেটাকে পছন্দ করে নেবো। সে ভাববে, 'ও, আমি তো কেবল জলের মধ্যে বাস করতে পারি, কিন্তু কচ্ছপ তো জলের বাইরেও বাস করতে পারে, তাই আমাকে একটা কচ্ছপ হতে দাও।' তাই সে কচ্ছপ হবার জন্য লাফ দেবে। কচ্ছপের শরীরে থাকাকালীন সে জল ও স্থলে চলাফেরা করবে এবং আরও কিছু সংস্কার সংগ্রহ করবে। সে কুমীর দেখবে, গরু দেখবে, মহিষ দেখবে, শূকর দেখবে; সে এদের দেখবে। মৃত্যুর সময় বেছে নেবার জন্য তার কাছে সমস্ত বিকল্পগুলি থাকবে! কচ্ছপ ভাবতে পারে, 'ও! শূকরের শরীরের বড় ও খাদ্য গ্রহণ করার সামর্থ্য বেশী এবং আমার মৃত্যু কোন বরেণ্য ভাব তার ওপর নেয়!' মনে হয় শূকরের শরীরটা আমার এই শরীরের চেয়ে আরামদায়ক হবে।' তাই সে লাফ দেয় ও পরের জন্মে শূকর হয়ে যায়। শূকর হয়ে থাকার সময় সে আরও বিভিন্ন সংস্কার সংগ্রহ করে। কিন্তু এখন যদি সে মানুষ দেখে থাকে, সে তা হবার জন্য মৃত্যুর সময়ে লাফ দিতে পারে। শূকরের শরীর থেকে সে মানবশরীরের ধারণ করতে পারে। বুঝে নাও, বিষ্ণুর অবতারদের এইভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমে মৎস্য অবতার (মাছ), তারপর কূর্ম অবতার (কচ্ছপ), পরে বরাহ

অবতার (শূকর), তারপর নৃসিংহ অবতার (পশু-মানুষ); এইভাবে অবতাররা বিকশিত হন। আরও একটা জিনিষ বোঝ, কখনও তুমি যদি একটা বিরাট লাফ দিয়ে থাক, তুমি বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে অথবা তোমার মন থাকবে না, কেবল দেহ থাকবে। যদি তোমার মানবদেহ থাকে এবং স্বচ্ছ চিন্তার প্রণালী না থাকে, তবে স্পষ্টভাবে বোঝ তুমি এক বিরাট লাফ দিয়েছ!

Page 40

[ERROR page 40 - NVIDIA client error]

Page 41

অনুভূতি সংযুক্তিকে কখনও হারিয়ে ফেলো না

মাস্টারকে ধরা ইংরাজীতে একটা প্রবাদের আছে, ‘যদি তুমি তোমার ধনসম্পদ হারাও, তাহলে কিছুই হারায় নি; যদি স্বাস্থ্য হারাও, কিছু একটা হারালে; যদি তোমার চরিত্র হারিয়ে ফেল, সবকিছুই হারিয়ে গেল।’ আমার মনে হয় যদি তুমি তোমার চরিত্র হারিয়ে ফেল, কিছুই হারায় নি। কেবল যখন তুমি মাস্টারের সাথে সংযুক্তি হারাও, সবকিছুই হারালে! মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তি এক গভীর ব্যাপার, এক চরম আশীর্বাদ। চূড়ান্ত যে জিনিষ মানুষের কাছে থাকতে পারে তা হল এক জন জীবন্ত মাস্টারের সাথে সংযুক্তির অনুভূতি। যদি তুমি সেটা পেয়ে থাক, কখনও কিন্তু তা হারিয়ে ফেলো না। যদি তুমি অনুভব করে দেখো তোমার মধ্যে অবিরাম অনুভূতির সংযুক্তি ঘটেছে, তা কোনভাবে হারিয়ে ফেলো না। মাস্টারের সাথে সেই অনুভূতির সংযুক্তির জন্য যে কোন কিছুর ত্যাগ স্বীকার করা যায়, কিন্তু সেই অনুভূতির সংযুক্তিকে কোন কারণেই ত্যাগ করা উচিত নয়। তুমি ও তোমার মাঝে যে সব ধারণা আসে, সেগুলিকে ছুঁড়ে ফেলে দাও। যে কোন কিছু হারানো যায়, কিন্তু এই অনুভূতির সংযুক্তিকে নয়। প্রকৃতপক্ষে আমি এক অপোসিহীন অনমনীয় মাস্টার। যারা আমার আশেপাশে থাকে তারা জানে কোন কিছুই আমাকে আনমিত করতে

পারে তারা জানে কোন কিছুই আমাকে আনমিত করতে

Page 42

[ERROR page 42 - NVIDIA client error]

Page 43

ওপরে কাজ করি, যদি তুমি বাধা না দাও, তাহলে ঠিক আছে। আমার কাজ করার সময় তোমার বাধা প্রদানটাই সমস্যা। তোমার সংস্কারগুলি সমস্যা নয়, সেগুলিকে তোমার আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টাই সমস্যা। আমি কাজ করার সময় যদি তুমি সেগুলিকে যেতে দিতে প্রস্তুত থাক, তাহলে সেটা কোন সমস্যাই নয়।

জীবন্মুক্ত মাস্টারদের কোন ভয় বা লোভ থাকে না। আমি তোমার এনগ্রামের (সংস্কার) ওপরে কাজ করি কারণ তুমি আমাকে হাজার জন্মে হাজিরবার অনুরোধ করেছো!

তুমি জান না যে কত জন্ম ধরে একজন মাস্টার পাবার জন্য তুমি সংগ্রাম করেছ। তুমি তো তোমার প্রকৃত আকুল আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কেও সজাগ নও।

বুঝে নাও, তোমার জীবনে এক মাস্টার ঘটা কোন জোক বা তামাশা নয়। তুমি নিজেই জান না যে কত জন্ম ধরে তুমি একজন জীবন্ত মাস্টারের এক ঝলকের দর্শন পাবার জন্য সংগ্রাম করেছ ও আকুলভাবে প্রার্থনা করেছ। জীবনে মাস্টারের সহায়তায় জাগ্রত হওয়া হল এই আকুল আকাঙ্ক্ষা ও তোমার জীবনের উদ্দেশ্যে জাগ্রত হওয়া।

যদি বোঝ যে কেবল তোমার টিউমারকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং তুমি আমার সাথে সহযোগিতা করছ, তা বেশ ভাল। কিন্তু কখনো কখনো তুমি ভাব প্রতিহিংসার জন্য আমি সরাসরি তোমাকে কেটে ফেলছি! সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সংস্কার বা এনগ্রাম তোমাকে স্বীকারই করতে দেবে না যে তোমার সংস্কার আছে। সেটা নিজের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করতে থাকবে কারণ সেটা তো তার বেঁচে থাকার প্রশ্ন।

তাই আমি লোকেদের বলি, যখন তোমরা এনগ্রামে আটকে যাও, যখন তোমরা এই শক্তিশালী অচেতন অবস্থা ক্রোধ, কাম, লোভ, ভয়, বিষণ্ণতা বা ঈর্ষাতে আছন্ন থাক, তখন কখনো গুরুর নির্নয় নেবে না।

এনগ্রামে আটকে থাকাকালীন কখনো মাস্টারের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করবে না। তখন কেবল মাস্টারের কাছে থাক। কখনো সেই সুন্দর সুযোগটিকে ছেড়ে দিও না। তোমার সম্পূর্ণরূপে নিরাময় হবে এবং তুমি সেই এনগ্রাম থেকে বার হয়ে আসতে পারবে।

সেই প্রকার নিমজ্জনের মেজাজে থাকলে কখনো কোন কিছুতে নির্নয় নেবে না। নিমজ্জনের মেজাজ স্বাভাবিকভাবে তোমার কাছে বাস্তবতাকে বিকৃত করবে। বড় সিদ্ধান্ত নেবার জন্য সেটা সঠিক অবস্থা নয়। বিষয়টা নিমজ্জনের মেজাজে থাকাকালীন কেউ চলে যাবার পরে মন প্রকৃতস্থ হলে সে তার নির্নয়ের জন্য অনুতাপ করবে। কিন্তু তার পক্ষে ফিরে আসা কঠিন হবে, কারণ সে তখন অপরাধবোধে আটকে থাকবে এবং ফিরে আসার জন্য যোগ্য মনে করবে না।

তাই যখন কেউ বিষণ্ণ হয় ও আমাকে ছেড়ে যায়, আমার তার জন্য খুবই খারাপ লাগে। সেটা এইজন্য নয় যে মিশনে একজন মানুষ কম হয়ে গেল। না! খারাপ লাগে কারণ সে বিষণ্ণতার সময়ে চলে গেল। যদি সেই মানুষটি খুশী থাকার সময়ে চলে যায়, ঠিক আছে। সেটা একটা স্বাভাবিক সম্পর্কতা। সে যেখানেেই যাবে আমাকে বহন করে নিয়ে যাবে। কিন্তু সে যদি বিষণ্ণ অবস্থায় থাকে, সে বহির্জগতে বৃদ্ধি পাবে না, সে তার এনগ্রাম থেকেও বার হয়ে আসতে পারবে না। সেটা তার ভিতরে এক গভীর ক্ষত হবে। পরম দুঃখে জ্বল লাগালে যেভাবে বিড়াল কখনো দুধের কাছে যাবে না, সে কখনো কোন মাস্টারের কাছে বহু জন্ম ধরে যাবে না।

মাস্টারের সাথে সংযুক্ত হারানো এক বিরাট ক্ষতি। সেটা একটা খুবই বড় বিচ্ছুতি। সেটা যেন তোমার জীবনে না হয়।

Page 44

মাস্টারের নিন্দা করা

কখনো কখনো মানুষেরা মাস্টারের সাথে শত্রুতা করে এবং তাদের অজ্ঞতার জন্য তাঁর সাথে অপব্যবহার করে। কিন্তু যদিও তারা এরকম করে, আমি তোমাদের পরীক্ষার করে বলি, তাদের সিস্টেমের (তন্ত্র) বহু অনু তো মেনে নেবে না, তারা যা করছে অনুগুণি তা সহ্য করবে না - কারণ তাদের অনুগুলি মাস্টারের সাথে থাকাকালীন পবিত্র, মহান, চমৎকার, আনন্দময়, গভীর স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা বহন করে। অন্তরে নিষ্ঠুর হলেও সতেজ ও জীবন্ত। কিন্তু অজ্ঞতা বা ঔদ্ধত্য বা অন্য কোন স্বার্থের জন্য তারা সেই সুন্দর মহান স্মৃতিগুলিকে চেপে রাখতে থাকে। শুধুমাত্র তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আওয়াজকে, তাদের অনুগুণির আওয়াজকে চেপে রাখার জন্য তারা তাদের গলা চড়াতেই থাকে এবং মাস্টারের সাথে অপব্যবহার করে। তারা কেবলমাত্র সেই ব্যাপারটাকে এড়াতে চায়, চেপে রাখতে চায়, সেটাকে অচেতনে রাখার চেষ্টা করে - কিন্তু তাদের দুর্ভাগ্যের ব্যাপার এই যে তাদের নিজের চেতনা দ্বারা কোন আওয়াজকে স্তব্ধ করা যায় না, চেপে রাখা যায় না। চেপে রাখা আওয়াজ এবং চেপে রাখা সত্য, চেপে রাখা অভিজ্ঞতা স্বভাবত মরে যায় না এবং যে অনুগুলি চেপে রাখা হয়েছে, যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির আওয়াজকে শোনা হচ্ছে না, সেগুলি স্বাভাবিকভাবে প্রতিবাদ করে এবং সেই ব্যক্তির মধ্যেই এক অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে দেয়। এটা থেকেই দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতা হয়। মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তি হারিয়ে ফেলো না - সেটা খুবই মূল্যবান। সেটা যেন তোমার হৃদয়ে রাখা একটা দীপ; অজ্ঞতা, ঔদ্ধত্য, নকরাত্মকতা ও উতে্জনার ঘৃর্ণীষড় যেন তোমার সংযুক্তির অগ্নিকে নিভিয়ে না দেয়। তাকে সজীব রাখ, সেটা তো এক পরম উপহার!

আমি তোমাকে দুটো জিনিষ বলি : যদি মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তি হারিয়ে না থাক, যারা মাস্টারকে নিন্দা করে তাদের পাশে রাখবে না; তাদের কোনভাবে খাটির করবে না। সর্বদা মাস্টারের সাথে সংযুক্তি বজায় রাখ; এই অতি মূল্যবান জিনিষটিকে হারালে চলে না। যদিও কোন কারণে, কোন কায়েনী স্বার্থের জন্য বা শুধু অচেতনতার জন্য মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তি হারাও, দায় করে অন্যের সাথে একই জিনিষ করবে না; চারদিকে গিয়ে অন্যের বিতর্ককে বিষিয়ে করবে না। এটা বড় পাপ। মাস্টারকে যতই নিন্দা করার চেষ্টা করবে, তোমার নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গুলি ও অনুগুলি আরও বিরোধিতা করবে এবং তোমার ওপরে প্রতিশোধ নেবে। সেটাকে আমি বলি নিজে থেকে কর্মকে ডেকে আনা। কোন মাস্টার তার নিন্দুকদের অভিশাপ দেন না, কিন্তু যারা অবিশ্বাস মাস্টারকে নিন্দা করে তাদের সাধারণ মৃত্যু হবে না; কেবল তাই নয়, তারা সর্বনিম্ন চেতনাতে, অস্তিত্বের নিম্নতর স্তরে পতিত হবে। এটা এক ভয়ংকর শাস্তি। তাই নিজেকে বাঁচাও। যদি তুমি তোমার বিতর্ক হারিয়ে থাক, কমপক্ষে অন্যের অনুভূতির সংযুক্তি, অন্যের বিতর্ক বিষিয়ে করবে না। যদি তুমি শান্ত থাক, কমপক্ষে তোমার অনুভূতির সংযুক্তিকে ফিরে পাবার সম্ভাবনা বিদ্যমান। তাই সেটা ফিরে পেতে কাজ কর, মাস্টারের সাথে অনুভূতির সংযুক্তি কেবল ফিরে পাবার জন্য কাজ কর।

Page 45

প্রক্রিয়া : অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংযোগ কর

মাস্টারের সাথে সর্বদা অনুভূতির সংযুক্তিতে থাকার জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান প্রক্রিয়া দেওয়া হল। এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের গভীরতম সত্তার সাথে পুনরায় সংযুক্ত হবার জন্য এবং সম্পূর্ণ অস্তিত্ব বা মাস্টার ও আমাদের মধ্যে গভীর সংযুক্তি পুনরায় আবিষ্কার করার জন্য এখানে আমরা মূহূর্তকে ব্যবহার করব। এই প্রক্রিয়াটি আবেগপ্রবণ মানুষদের বেশী আকর্ষিত করবে। এটাকে ভক্তির গভীর অনুভূতি সহকারে করতে হবে। যে মানুষটির সাথে তুমি এক গভীর ভক্তি অনুভব কর, সে তোমার কাছে ঈশ্বরকে স্পর্শ করার নিমিত্ত এক সেতু হয়ে যেতে পারে। বুঝে নাও, যখন সজাগতা সহকারে আমরা অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংযুক্ত হই, আমরা বিশ্বজ্ঞানী চৈতন্য অভিজ্ঞতা করি। যখন আমরা একই শক্তির সাথে ভক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত হই, আমরা ভিতরে ও বাইরে ঈশ্বরকে অভিজ্ঞতা করি। নির্দেশাবলী তুমি কোন মানুষের প্রতি গভীর ভক্তি অনুভব করতে পার; তোমার জীবনে কারো সাথে গভীর সংযুক্তি অনুভব করতে পার, যেমন ঈশ্বর, মাস্টার, মাতা, পিতা, বন্ধু, শিক্ষক, তোমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন এমন এক লীডার, এমন একজন যিনি তোমার জীবনে স্মরণীয় কিছু প্রদান করেছেন। একাধিক ব্যক্তিকেও স্মরণ করতে পার, দুই বা তিনজন মানুষ যারা তোমার জীবনে স্মরণীয় যেমন, তোমার স্নেহময়ী মাতা, তোমার দীপ্তিমান মাস্টার, তোমার প্রিয় দেবতা বা তোমার প্রিয় বন্ধু।

ধাপ

চোখ বন্ধ কর এবং মেরুদণ্ড সোজা করে আরাম করে বসো। এমন একজনকে স্মরণ কর যে তোমার মধ্যে গভীর ভক্তির অনুভূতি সৃষ্টি করে। এমন একজনকে স্মরণ কর যার সাথে তুমি গভীরভাবে সংযুক্ত অনুভব কর, যে তোমার জন্য এক অনুপ্রেরণা, যার কাছে তুমি যাও যখনই তুমি আধ্যাত্মিকভাবে নবতেজোদ্দীপ্ত হতে চাও। সে তোমার মাতা বা পিতা, তোমার শিক্ষক বা তোমার গুরু বা তোমার প্রিয় বিগ্রহ - যে কেউ হতে পারে। তারা তোমার জীবনে যে রূপান্তরের সৃষ্টি করেছে তা স্মরণ কর। তোমার সম্পূর্ণ সত্তা দিয়ে তাদের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত অনুভব কর। তোমার সম্পূর্ণ সত্তাকে ভক্তিতে গলে যেতে দাও। গভীর ভক্তির এই মেজাজে তোমার অন্তর্গামী ও বহির্গামী শ্বাসের মধ্যে বিরতির প্রতি সজাগ হও। প্রতিটি অন্তর্গামী ও বহির্গামী শ্বাসের মাঝে ঐশ্বরিক ভাবস্রতা অভিজ্ঞতা কর। ভক্তির এই মেজাজে বিদ্যমান থেকে নিজের ভিতরে মনোযোগ দাও। বাইরের ঈশ্বরত্ব থেকে অন্তরের ঈশ্বরত্বের দিকে ঘোর। বুঝে নাও, তুমিই সেই ঈশ্বর যাকে তুমি অভিজ্ঞতা করতে ইচ্ছা কর! যখন তুমি ঈশ্বর অভিজ্ঞতা কর, তুমি যা অভিজ্ঞতা করছ তা হল তোমার নিজের সত্য প্রকৃতি। এই একটি বোধ তোমার সমস্ত মূলগত আবেগগুলিকে পবিত্র প্রেমে রূপান্তরিত করতে পারে। ভক্তির প্রস্তুতির সাথে তুমি সকলের ও নিজের মধ্যে ঈশ্বরকে অভিজ্ঞতা কর।

Page 46

অনুভূতির সংযুক্তির ওপরে প্রশ্নোত্তর পর্ব

প্রশ্ন : স্বামীজী, অনুভূতির সংযুক্তি সংক্রান্তে আমার দুটি প্রশ্ন আছে : ১) অনুভূতির সংযুক্তি কি পরের জন্মে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়? ২) অনেকগুনি বিগ্রহ ও গুরুরদের সাথে কি একসাথে আমাদের অনুভূতির সংযুক্তি থাকতে পারে? ১) অনুভূতির সংযুক্তি এক মনোভাব ও গুণমান যা এক জন্ম থেকে পরের জন্মে নিয়ে যাওয়া যায়। ২) প্রকৃতপক্ষে নয়। বলা হয়, ঘরের স্ত্রী সবাইকে প্রেম সহকারে যত্ন করে, কিন্তু সে জানে তার স্বামী কে! একইভাবে, একজন ভক্ত সব গুরু ও বিগ্রহকে শ্রদ্ধা করতে পারে, কিন্তু অনুভূতির সংযুক্তি শুধুমাত্র তার মাস্টারের প্রতি হবে যিনি তাকে জীবনমুক্তির দিকে নিয়ে যান, যিনি জীবনমুক্তির জন্য তার প্রতিপালন করেন। নিত্যানন্দ সম্প্রদায়ে তোমার থেকে আশা করা হয় যে তুমি সমস্ত গুরু ও মাস্টারদের শ্রদ্ধা করবে, আমাদের ভক্তদের কোন আধ্যাত্মিক পথে অশ্রদ্ধা করার বা সমালোচনা করার অধিকার নেই। কৃষ্ণ বলেন, ‘প্রতিটি পথ ও আকার আমার দিকেই চালিত হয়।’ তাই অনুভূতির সংযুক্তি কেবল একজন সততার দিকে থাকবে, কিন্তু তুমি সবাইকে সেই সততার মূর্তপ্রকাশ হিসাবে দেখবে।

প্রশ্ন : স্বামীজী, বৈশ্বব প্রখ্যায় বর্ণিত চার প্রকার অনুভূতির সংযুক্তি সম্পর্কে আপনি আরও আলোকপাত করবেন? মধুক উপনিষদে একটা গল্প আছে। একটা বিশাল লম্বা গাছ ছিল, তাতে ছিল অনেক উঁচু-নীচু শাখাপ্রশাখা ও অনেক ফল। সবচেয়ে উঁচু শাখাতে সবকিছু থেকে আনরকাচ করে পরমানন্দে এক স্বর্ণর্ণ পক্ষী উপবেশন করে বিদ্যমান ছিল। নীচের শাখাতে একটি ছোট্ট পাখী চারিদিকে লাফিয়ে বেড়ায় ও ফলগুলো খায়। একটা তিতা ফল খেয়ে তার খারাপ লাগে এবং ওপরে সমাধিস্থ ও আনন্দপূর্ণ স্বর্ণর্ণ পাখীটির দিকে তাকায় ও ভাবে, ‘এই মায়া ছাড়িয়ে আমিও কেন তাঁর মত হব না?’ কিন্তু দুর্ব্বাগ্যবশত যখন এই পাখীটি সুস্বাদু ফল খায়, সে ভুলে যায় সে মায়াতে জড়িয়ে আছে! বহু সময়কাল ধরে এখানে ওখানে লাফানোর পরে হঠাৎ সে একটা খুবই তিতা ফল খেয়ে ফেলে, তার এক বাস্তবিক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় এবং সে নির্ণয় নেয় - আর ফল খাব না! সে তার মুখ বন্ধ করে ফেলে এবং সেই বিশাল পক্ষীটির দিকে যাত্রা করে। যখন সে বড় পাখাটির কাছে যেতে থাকে, কাছে আরও কাছে, হঠাৎ সে উপলদ্ধি করে সে তার ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। সে অনুভব করে, সে সেই স্বর্ণর্ণ পক্ষীটিই এক সম্প্রসারণ।

Page 47

[ERROR page 47 - NVIDIA client error]

Page 48

প্রশ্ন : প্রিয় স্বামীজী, আপনি ঈশ্বর ও গুরুর সাথে অনুভূতির সংযুক্তি সম্পর্কে বলেছেন। অনুভূতির সংযুক্তি প্রকৃতপক্ষে কি? সেটা কি শুধুমাত্র গুরুকেই চেতনা সহকারে সর্বদা চিন্তা করতে থাকা?

তুমি জিজ্ঞাসা করছ অনুভূতির সংযুক্তি প্রকৃতপক্ষে কি? অনুভূতির সংযুক্তি শুধু চিন্তন নয়। আমি কিছু পরিস্থিতি বর্ণনা করার চেষ্টা করব।

আমাদের কিছু ভক্তগণ, যখন তারা ঘুম থেকে ওঠে, অফিসে কাজ করে, রান্না করে বা ঘরের কোন কাজ করে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা ঘুমিয়ে পড়ে, তারা যা কিছু করে তাতে আমি থাকি। এর অর্থ যে তারা ইচ্ছাপূর্বক আমাকে স্মরণ করে, কিন্তু আমি তাদের জীবনে অতঃপ্রবাহ হয়ে গেছি। আমি শ্রোতাদের মধ্যে দেখছি অনেকেই চোখে হাসি নিয়ে বসে এবং তাদের চোখদুটি উজ্জ্বল! যখন তুমি এটা শোন যদিও তোমার চোখদুটি উজ্জ্বল হয়ে যায়, যদি তোমার হাসিটি চওড়া হয়ে যায়, বুঝে নাও যে তোমার অনুভূতির সংযুক্তি আছে।

দয়া করে বোঝ, অনুভূতির সংযুক্তির আর কোনও সংজ্ঞার্থ নেই! তুমি যাই কর না কেন, সেটা আছে! সারাদিন ধরে সর্বোত্তম যে সময়টুকু জন্য তুমি অপেক্ষা তা হল পরবর্তী সৎসঙ্গ। সাধারণত তোমাদের জীবনে কিছু ‘সেরা সময়’-এর জন্য তোমরা অপেক্ষা কর, যা তুমি আশা কর পরের দিন আসবে বা পরের সপ্তাহ বা পরের মাসে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, মাসের শেষ হল সেরা সময়, যখন তুমি তোমার মাইনে পাও! যারা সংসার ছেড়ে বিদেশে, তাদের জন্য সেরা সময় হল যখন তারা ঘরে ফিরে পরিবারের সাথে মিলিত হয়। যাই হোক না কেন, জীবন কেবল সেরা সময়ের জন্য চলতে থাকে।

আমাদের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ আছে যারা অনুভব করে তাদের জীবনে পরের সেরা সময়টি হল পরবর্তী সৎসঙ্গ! যদিও তারা অন্য দেশে, তারা ‘নিত্যানন্দ টিভি’ চ্যানেলে অপেক্ষা করতে থাকে,

Page 49

যদিও তারা জানে যে সৎসঙ্গ হতে অনেক সময় বাকী! যদি অনুভব কর যে তোমার জীবনে পরের সেরা সময়টা হল পরবর্তী সৎসঙ্গ, তাহলে অনুভূতির সংযুক্তি আছে। দ্যাখো, আমি শুধু কতগুলি মনোভাব, আবেগ ও অনুভূতিকে বর্ণনা করতে পারি, সেগুলি তো অনুভূতির সংযুক্তির উপসর্গ। অনুভূতির সংযুক্তিকে বর্ণনা করা যায় না। এগুলি সবই অনুভূতির সংযুক্তির উপসর্গ - যদি ইন্টারনেটে লগ্ ইন করলেই তোমার হৃদকম্পন বেড়ে যায় যদি 'ডায়াল দি অবতার'-এ আমাকে কল করতে গিয়ে তোমার নাড়ির গতি বেড়ে যায় অথবা তুমি যদি 'ই-পাদপূজা' করে আমার কলের জন্য অপেক্ষা করছ - এই উপসর্গগুলিকে তো তুমি সহজেই বুঝতে পারবে। অনুভূতির সংযুক্তি থাকলে তুমি অনুভব করবে যে পুরো জীবনের উদ্দেশ্য হল ঈশ্বর বা গুরু তোমাকে বেচে নেবেন! তোমার অস্তিত্বের উপযোগিতাকে সেইরকমই লাগবে। আমি তোমাদের বলি, আমাদের পুরো সজ্জে দুই শ্রেণীর মানুষ আছে - এক, যারা আমার সাথে বাস করছে; দুই, যারা আমার সাথে বাস করতে চায় এবং তা করতে পারছে না! প্রথম, যারা সমস্ত বাধা থেকে মুক্ত হয়ে এখানে আছে। দ্বিতীয়, যারা এখনও সেগুলিকে দূর করছে এবং এখানে আসা এখনও বাকী। বাস্। আমার শিষ্যরা তাদের হৃদয়ে আমার সাথে ও সজ্জের সাথে যে দু'টো সংযুক্তি উপভোগ করে, তার ক্ষমতা আমি জানি। তাই বুঝে নাও, অনুভূতির সংযুক্তি কেবল চিন্তন নয়। সেটা চিন্তা করার উর্ধ্বে। তোমার সম্পূর্ণ হৃদয় কোন প্রচেষ্টা ছাড়াই সেই দিকে প্রবাহিত হতে থাকবে। তুমি জান যে ঈশ্বর তোমার অংশ এবং তুমি তাঁরই অংশ।

প্রশ্ন : দেহ ও মনে যে অবিরাম হয়রানির মধ্য দিয়ে আমি যাই, সেগুলিকে আমার চেয়ে উচ্চতর কোন কিছুর সাথে অনুভূতির সংযুক্তি কিভাবে মুছে ফেলবে? নোটের ওপর, শারীরিক বেদনা তো খুবই কম ছিল; তা আমাকে সর্বদা সেই বেদনাকে মনে করিয়ে দেয়। সেটা তো খুবই বলশালী। তা থেকে আমি কিভাবে আনুরাগ করি? বুঝে নাও, কিছু সমস্যাকে হয়ত আনুরাগ দিয়ে সমাধান করা যায় না, কিন্তু সেগুলির সমাধান অনুভূতির সংযুক্তি দ্বারাই করা যায়। সেইজন্য আমি তোমাদের সতর্ক করি, কার সাথে সংযুক্তি অনুভব কর সে ব্যাপারে বিশেষ করে সাবধান হতে হবে! যদি এক বিষণ্ণ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব অনুভব কর, আমি বলছি, জেনে বা না জেনে সেই মানুষটি তার বিষণ্ণতা তোমার ওপরে বমন করবে। যদি কেউ বিষণ্ণ থাকে তাকে বর্জন কর। আমি সেটা এক আধ্যাত্মিক নির্দেশ হিসাবে তোমাদের দিচ্ছি। কখনও ভেবো না তুমি তোমার প্রেম ও অনুকম্পা তার ওপরে বর্ষণ করবে এবং তাকে বিষণ্ণতা থেকে বার করে নিয়ে আসবে! চেষ্টা কর; তুমি মলিন হবে ও ফিরে আসবে। তুমি অত শক্তিশালী নও। আর যদি তুমি অতই শক্তিশালী হও, তাহলে তোমার সেই ব্যক্তির সাথে কথা বলারও দরকার নেই; তোমার উপস্থিতিতেই সেই ব্যক্তির বিষণ্ণতা দূর করবে। আমার তোমাদেরকে এটা বলার কারণ হল, সর্বত্র অন্য মানুষটিকে বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত করাবার অনেক প্রচেষ্টা চলছে! আমি চাই তোমরা সবাই এটা জান - যে সমস্যা তুমি সমাধান করতে পার না, যে বেদনা থেকে তুমি আনুরাগ করে বার হয়ে আসতে পার না, সেগুলি থেকে তোমার চাইতে কেবল উচ্চতর কিছু যেমন, ঈশ্বর বা গুরুর প্রতি অনুভূতির সংযুক্তি দ্বারাই তুমি বার হয়ে আসতে পার। নিশ্চিত কর, বিষাদগ্রস্ত মানুষ বা যারা বিষণ্ণতার প্যাটার্ন বহন করে, তাদের জন্য তোমার অনুভূতির সংযুক্তি নেই ও তাদের সাথে বন্ধুত্ব

Page 50

করছ না। আমি তোমাদের বলি, যাদের বিষন্নতার প্যাটার্ন আছে তারা অহংকারী ও উদ্বত। সেটা অজ্ঞতা বা সরলতা নয়। সেটা উদ্বত। মেহেতু তারা উদ্বত, তাদের সাথে একটু সময় কাটালেই তোমার মধ্যে তারা স্বভাবতই অনুপ্রবেশ করে ফেলবে। আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি।

শ্রীরামকৃষ্ণ থেকে একটি সুন্দর শিক্ষা পাওয়া যায়। তিনি বলেন যদি তোমার স্ত্রী বা ত্রী বিষাদগ্রস্ত হয়, তাকে তুমি নিজে নিরাময় যেও না। যদি তোমার বন্ধু বিষাদগ্রস্ত হয়, তুমি নিজে তাকে নিরাময় করতে যেও না। সে কেবল তোমার বিষয়টার মানসিক গঠন তোমার ওপরে চাপিয়ে দেবে। পরিবর্তে, তাদের চেয়ে উচ্চতর কিছুর সাথে সংযুক্তি অনুভব করার জন্য তাদের সহায়তা কর - যেমন ঈশ্বর বা গুরু। সেখানেই থেমে যাও এবং সেটাতে আর অযথা হস্তক্ষেপ করতে চেষ্টা করবে না!

প্রশ্ন : আমার প্রিয় স্বামীজী, আমি সত্যি সত্যি আপনার সাথে গভীর অনুভূতির সংযুক্তি অভিজ্ঞতা করতে চাই! তার জন্য পথ কি?

যখন তোমার প্রবল ইচ্ছা থাকে, পথ খোঁজার কোন প্রয়োজন নেই! লক্ষ্যের জন্য চাহিদা এবং তীব্র আকাঙ্খাই হঠাৎ করে তোমার জন্য পথ খুলে দেবে।

প্রকৃতপক্ষে, যখন তুমি লক্ষ্য দ্বারা আবিষ্ট, তুমি যাই কর তাই হবে পথ।

যদি তুমি দক্ষিণ ভারতের তীর্থ জন নয়নমার (শেব সন্ত) ও অনভার্যের (বৈষ্ণব সন্ত) জীবনের গল্প পড়, দেখবে যে তাঁরা কোন অসাধারণ তপস্যা করেন নি। উদাহরণস্বরূপ, রোজ সকালে তাঁরা ফুল তুলে মালা বানিয়ে শিবলিঙ্গকে সাজাতেন; ব্যস।

পথটিকে খুব বড় মনে হয় না। কিন্তু তাঁরা উদ্দেশ্য দ্বারা আবিষ্ট ছিলেন ; তাঁরা ছিলেন 'শ্রদ্ধা বিবেচ', শ্রদ্ধা দ্বারা আচ্ছন্ন। যখন তুমি শ্রদ্ধা দ্বারা আবিষ্ট হও, তুমি যাই কর সেটাই পথ হয়ে যায়।

প্রশ্ন : স্বামীজী, ভগবদগীতার প্রথম অধ্যায় অনুসারে যোদ্ধা অর্জুন প্রচণ্ড বিষাদে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায়ের মধ্যেই সে তার মান্ত্রিক কৃষ্ণের প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভরে যায় এবং তার সহম্রার চক্র (কৃতজ্ঞতা কেন্দ্র) সম্পূর্ণরূপে খুলে যায়, আপনি তো এমনই বলেছেন। তার কোন তপস্যা বা সাধনা ছাড়াই এত শীঘ্র এটা কি করে ঘটল? এত শীঘ্র এগিয়ে যাবার জন্য আমাদের জন্যও কোন পথ আছে কি?

বোঝা, অর্জুন কৃষ্ণের কাছে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল, কৃষ্ণের ওপরে তার আস্থা ছিল অসাধারণ। কিছু মুহূর্তের জন্য অর্জুন বিষন্নতায় ভুগছিল, কিন্তু সে আস্থাতে ফিরে গেল; আর কিছুই নয়। সেটা (আস্থা) সে একদম ফিরে পেল।

দ্যাখো, পতন হওয়া ভুল নয়, কিন্তু আবার উঠে না দাঁড়ানো ভুল। সন্দেহ নেই অর্জুনের পতন হয়েছিল, কিন্তু সে অবিলম্বে উখান করল, সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালো। আর কৃষ্ণের সামনে তো তার কোন আমিত্ব নেই।

সাহস বা শক্তি হল নিজেকে সঠিক রাস্তায় নিয়ে যাবার সামর্থ্য। অর্জুন সেটা কখনও হারায় নি। সে এক বিশ্বাসের শিষ্য। তাই সে কখনও কৃষ্ণের সাথে অন্তরতম সংযুক্তি হারায় নি। সেটা শুধু ঢাকা ছিল, যেভাবে মেঘ কিছু সময়ের জন্য সূর্যকে ঢেকে দেয়। সেটা ঢাকা ছিল এবং আবার সেটা খুলে গেল, ব্যস।

আমিত্ব ফেলে দেবার জন্য অর্জুন সহজেই বুদ্ধিমান ছিল এবং কৃষ্ণকে বলে, 'শিষ্যস্তেহহং' - আমি তোমার শিষ্য। দয়া করে আমাকে ক্ষমা কর। আমি শিখতে চাই, আমি জানতে চাই।' অর্জুন ছিল এক বলশালী সত্তা। এটা করার জন্য সে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। সেইজন্য সহম্রার চক্র অবিলম্বে খুলে যায়। একবার

Page 51

অনুভূতির সংযুক্তি ফিরে পেলে তার সহশ্রার অবিলম্বে খোলে ও উপলব্ধ হয়।

অর্জুনের অনেক পুণ্য ছিল। তার সমস্ত জীবন কৃষ্ণলীলাতে পরিপূর্ণ ছিল। সে কৃষ্ণতে সম্পূর্ণ ভরে ছিল। অর্জুনের মধ্যে আমিত্বের জন্য বেশী কোন স্থান ছিল না!

বুঝে নাও : কেবল যেহেতু তোমার অনেক ভাল গুণ আছে, তার মানে এই নয় যে তুমি কখনও বিষাদগ্রস্ত হবে না। একইভাবে যদিও তুমি একবার বিষাদগ্রস্ত হও, তার অর্থ এই নয় যে সবকিছু হারিয়ে যাবে। অর্জুনের শত শত ভাল গুণ ছিল, কিন্তু সে বিষাদগ্রস্ত হয়ে যায়। কিন্তু বিষাদে আচ্ছন্ন হবার জন্য সে তার ভাল গুণগুলিকে হারিয়ে ফেলবে না! যাত্রাতে এটা ছিল তার এক সংগ্রাম।

তাই আমি চাই তোমরা সবাই এটা বোঝ, যেহেতু তুমি একবার বিষাদগ্রস্ত হয়েছ, তার অর্থ এই নয় যে তোমার সমস্ত ভাল গুণগুলি তোমার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

অনুভূতির সংযুক্তির জন্য ধ্যান

আমাদের জীবনে বিভিন্ন অভিমুখের সাথে, যথা, নিজের সাথে, অন্যের সাথে, প্রকৃতির সাথে, জীবনের সাথে এবং মহাবিশ্বের সাথে, সংযুক্তি অনুভব করার জন্য এই অনুচ্ছেদে নানা প্রকার ধ্যান প্রক্রিয়া দেওয়া হল।

প্রক্রিয়া : নিজের সাথে সংযুক্তি

নিজের সাথে সর্বদা অনুভূতির সংযুক্তির জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান প্রক্রিয়া দেওয়া হল।

প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে

আমাদের সত্তা মূলত শব্দ (ধ্বনি) দিয়ে তৈরি। তোমার শক্তি অবিশ্রাম ভিতরে স্পন্দিত হচ্ছে।

যখন আমরা মন্ত্রোচ্চারণ করি বা সঙ্গীত শুনি, আমরা বাইরের এক উৎসের সাথে সারিবদ্ধ হই এবং সেই স্পন্দনগুলিকে আত্মভূত করি।

এখানে আমরা আমাদের ভিতরের ধ্বনিগুলিকে প্রকাশিত হতে দিই এবং আমাদের ভিতরের স্পন্দনের সাথে সুর মেলাই।

Page 53

[ERROR page 53 - NVIDIA client error]

Page 54

এই ধ্যানে আমরা তৈরী ধারণাসমূহ ছাড়া ও কোন শঠতা না করে সেই মানুষটি যেমন আছে ঠিক তেমন মানুষটির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করি এবং আমরা ঠিক যেমন সেভাবেই নিজেদের প্রকাশ করি।

অবশ্যই এই প্রকার মিথক্রিয়া কথা দ্বারা হয় না! যেই মুহূর্তে আমরা কথা ব্যবহার করা শুরু করি, আমরা ধারণার দ্বনিয়াতে প্রবেশ করি। পরিবর্তে আমরা নীরবতার সরাসরি ভাষাকে অন্য মানুষটির সাথে সংযুক্ত হবার জন্য ব্যবহার করি।

যখন তুমি শব্দ (কথা) দ্বারা সংযুক্ত হও, তাকে বলে বার্তা দ্বারা যোগাযোগ (communication)।

যখন তুমি নীরবে সংযুক্ত হও, তাকে বলে ভাবের আদানপ্রদান (communion)।

যখন তুমি অন্যজনের সাথে প্রকৃত ভাবের আদানপ্রদানে প্রবেশ কর, একটা সুন্দর জিনিষ ঘটে।

তোমার চোখের সামনে মানুষটির মুখ মুছে যায় এবং তার ব্যক্তিত্ব ছেড়ে যায়।

ধারণার ওপরে বানানো পরিচয় শব্দ বিনা আর থাকতে পারে না!

তার জায়গায়, অবশেষে ঈশ্বরের যে সুগন্ধসার আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে নিহিত আছে তা প্রকাশিত হয়।

সময় : ২১ মিনিট

নির্দেশাবলী

ধাপ ১

এই ধ্যান জোড়ায় জোড়ায় করতে হয়।

সমলিঙ্গের কাউকে বেছে নাও।

এমন কাউকে বেছে নাও যাকে ভাল জান না নতুবা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার এক তেরী ধারণা থাকবে!

তোমাদের ধ্যানের জন্য নিভৃত একটা স্থান বেছে নাও।

একে অপরের দিকে মুখ করে আরাম করে বসো, মেঝেতে হলে ভাল।

ধাপ ২

কিছু সময়ের জন্য তোমার চোখ বন্ধ রাখ।

গভীরভাবে অনুভব কর যে অন্য মানুষটির কাছে তুমি যেমন ঠিক তেমনভাবে নিজেকে প্রকাশিত করতে যাচ্ছ।

অন্যদের সাথে যে খেলা আপনাকে খেলতে হয় তাতে তুমি ক্লান্ত।

এই একবার তুমি সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছ, অন্যজনের কাছে পুরোপুরি অরক্ষিত।

Page 55

3

ধাপ ৩

তুমি এক শিশুর মত হতে যাচ্ছ। অন্য মানুষটি সম্পর্কে তোমার কোন ধারণাই নেই। কিন্তু সে যাই হোক না কেন, সে যেরকম ঠিক সেভাবেই তাকে সম্পূর্ণরূপে তুমি বরণ করছ। তোমার চোখ খোল। তোমার সাথীর দিকে হাস। এখন তোমার তোমার দুটি হাত বাড়াও ও তার হাত নিজের হাতে নাও। নীরব হয়ে কিছুক্ষণ বসো, অভিজ্ঞতা কর যে তোমরা পরস্পরের দিকে প্রবাহিত হচ্ছ। তারপর পরস্পরের চোখের দিকে গভীরভাবে তাকাও। কেবল তাকাও। সেখানে কি দেখবে তা নিয়ে কোন ধারণা রেখো না। কল্পনা করবে না যে তুমি বা সে প্রিয় বা সংযুক্ত বা এরকম কিছু। সমস্ত ধারণাগুলি মাথা থেকে সরিয়ে ফেল এবং স্থির হও।

3

ধাপ ৩

অন্যজনের চোখের গভীরতার দিকে নীরবে তাকাও। অন্যজনের গভীরতায় প্রবেশ করার চেষ্টা কর, তুমি জানই না সেখানে কি পেতে পার। খেই হারিয়ে থাক; কেবল অন্যজনের চোখের মাধ্যমে তার মধ্যে প্রবেশ কর। তোমার চোখকে অন্যদিকে যেতে দিও না। শুধুমাত্র অন্যজনের গভীরতাতে দ্বীভূত হয়ে যাও। ধীরে ধীরে দেখবে যে অন্যজনের পরিচয় তোমার স্থির দৃষ্টির সামনে গলে যায়। সেখানে কোন পুরুষ, মহিলা, অপরিচিত বা বন্ধু আর নেই।

Page 56

[ERROR page 56 - NVIDIA client error]

Page 57

রাখে, অগ্নি আমাদের পাচনতন্ত্রের অনুরূপ ইত্যাদি ইত্যাদি। পঞ্চভূতের প্রতিটির অদ্বিতীয় গুণ ও সূক্ষ্ম নির্গাস আছে : মাটির আছে গন্ধ, জলের আছে স্বাদ, আগুন আকার গুণাবলী প্রদান করে, বায়ুর স্পর্শ গুণ আছে, আকাশের আছে শব্দের (ধ্বনি) গুণাবলী। এই পাঁচটি উপাদানের সাথে মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের যোগ আছে। ঠিক বিশ্বব্রক্ষাণ্ডের মত মানুষের জন্মও এই পাঁচটি উপাদান থেকেই হয়েছে। সেইজন্য এই পাঁচটি উপাদানের সাথে সুর মেলানোর জন্য ও আমাদের উৎসে ফিরে যাবার জন্য এক তীব্র ইচ্ছা আমাদের সর্বদাই থাকে। বিভিন্নভাবে মানুষ এই পাঁচটি প্রধান শক্তির সাথে নিজের সুর বাঁধার চেষ্টা করে। মূর্তিপূজার মাধ্যমে সে পৃথ্বী উপাদানের শক্তির সাথে সুর বাঁধার চেষ্টা করে। তুমি জান, মূর্তি তৈরি হয় মাটি, পিতল, তামা ইত্যাদি দ্বারা। পবিত্র নদীগুলিতে ডুব দিয়ে অর্থাৎ তীর্থস্নান করে সে নিজেকে জলের শক্তির সাথে সুর বাঁধার চেষ্টা করে। হোম ও যজ্ঞ করে সে অগ্নির শক্তির সাথে যোগাযোগ করে। মন্ত্র উচ্চারণ করে সে বায়ুর শক্তির সাথে লীলা করে। সবচেয়ে সূক্ষ্ম শক্তি হল পঞ্চম উপাদানটি, আকাশ (ইথার)। সেটিতে বাহ্যিক উপায়ে প্রবেশ করা যায় না; সেটিকে অন্তরে অভিজ্ঞতা করতে হয়। ধ্যান হল সেই পদ্ধতি যার দ্বারা আমরা নিজেদের আকাশ-শক্তির সাথে সুর মেলাতে পারি।

প্রকৃতপক্ষে সমস্ত বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠান হল কেবল মহাজাগতিক শক্তির সাথে প্রাথমিক সংযোগসাধন করার উপায়। সেগুলি হল নিজের মধ্যে মহাজাগতিক শক্তিকে আবিষ্কার করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ । চরম আধ্যাত্মিক অনুভূতিতে, প্রকৃত পূজা হল সর্বোচ্চ বাস্তবতার অবিশ্রাম গতীর চিন্তন। মন হল আধ্যাত্মিক চেতনার শ্রোতে নিজের ইন্দ্রিয় ও মনকে বিশোধন করা। হোম হল নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে বিশ্বজনীন শক্তির অঙ্গীতে অর্পণ করা এবং জপ (মন্ত্র জপ) হল প্রতিটি শ্বাসপ্রশ্বাসে সত্যেরে একটি স্তোত্রে রাখা। নিজেকে মহাজাগতিক শক্তির সাথে সুর বাঁধা হল এক সুন্দর পদ্ধতি যার দ্বারা আমরা বিশ্বব্রক্ষাণ্ডের সবকিছুর সাথে আমাদের পারস্পরিক সংযুক্তি উপলব্ধি করতে পারি। এই ধ্যানে আমরা প্রকৃতির পাঁচটি উপাদানের সাথে নিজের সুর বাঁধার জন্য প্রত্যক্ষীকরণের সহজ কিন্তু শক্তিশালী প্রক্রিয়াগুলিকে ব্যবহার করি।

পৃথ্বী ধ্যান সময় : ২১ মিনিট নির্দেশাবলী চোখ বন্ধ করে আরাম করে বসো।

Page 58

[ERROR page 58 - NVIDIA client error]

Page 59

[ERROR page 59 - NVIDIA client error]

Page 60

অগ্নি ধ্যান

সময় : ২১ মিনিট নির্দেশাবলী প্রত্যক্ষ কর তোমার হাতের তালুর আয়তনের একটি অগ্নিশিখা তোমার হৃদয় অন্ধলে উজ্জ্বলভাবে জ্বলছে। প্রত্যক্ষ কর সেই শিখা আকারে বাড়ছে। সেটা তোমার শরীরের ভিতরে ছড়িয়ে পড়ছে। তোমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে সেই শিখা ভরিয়ে দিচ্ছে। তুমি কোন উত্তাপ বা বেদনা অনুভব করছ না কারণ তোমার দেহ হয়ে গেছে অমূলক। এখন কোন দেহ নেই, কেবল অগ্নিশিখা। তুমি অগ্নিশিখা হয়ে যাচ্ছ! তুমি বিশাল অগ্নি হয়ে গেছ, তোমার শিখাগুলি উজ্জ্বল কমলা রঙের। তোমার শত শত নৃত্যরত অঙ্গপ্রত্যংগ ও জিহ্বা! তোমার শিখার জিহ্বা বায়ুকে লেহন করছে তুই কি নিজের হিসহিসানি শুনতে পাচ্ছ? দ্যাখো, সর্ববর্ণ দীপ্তি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তোমার থেকে বিকিরিত উষ্ণতাকে অনুভব কর। জীবন বজায় রাখার জন্য তোমার আলোক ও উষ্ণতা প্রদান করার ক্ষমতা আছে। পুড়িয়ে ফেলার ও ধ্বংস করার ক্ষমতাও তোমার আছে। তোমার নৃত্যের গতিবিধি, শক্তি ও ক্ষমতাকে উপভোগ কর! এই অভিজ্ঞতা সহকারে কিছুক্ষণ থাক। ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে ফিরে আস। কিছুক্ষণ তোমার চোখ বন্ধ করে থাক এবং নিজের আকারকে আবার প্রত্যক্ষ কর। নিজের শরীরের ভিতরে আরাম বোধ করলে স্বস্তিতে তোমার চোখ খোল।

বায়ু ধ্যান

সময় : ২১ মিনিট নির্দেশাবলী চোখ বন্ধ করে পা ভাঁজ করে বসো। নিজের দেহকে এক পাশ থেকে অন্য পাশে মৃদুভাবে দোলাও, যেন বাতাসে একটি ফুল। তোমার মধ্য দিয়ে বাতাসের তরঙ্গায়িত হওয়া অনুভব কর।

Page 61

[ERROR page 61 - NVIDIA client error]

Page 62

তুমি কি তোমার ভিতরে আকাশের প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছ? সেই প্রতিধ্বনি তোমার সম্পূর্ণ দেহের ভিতরে অনুরণিত হচ্ছে। তোমার শরীর শূন্য হয়ে গেছে। তার ভিতরে কেবল আকাশ আছে। তোমার শরীরের সীমানা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। ভিতরের আকাশ ও বাইরের আকাশ মিশে যাচ্ছে… তুমি আকাশ হয়ে গেছ! তুমি হয়ে গেছ আকাশ, বিশুদ্ধ ও প্রসারণশীল। তোমার চরম আকারহীনতা, তোমার নীরবতাকে অনুভব কর। তুমি সব দিকে, অসীম! তুমি সূক্ষ্ম, অদৃশ্য ও স্পর্শাতীত। তুমি সর্বত্র ও কোথাও নেই। তোমাকে কে অভিজ্ঞতা করতে পারে? তোমার একাকীত্বের মহিমাকে উপভোগ কর। এই নীরবতায় কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থাক। ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে ফিরে আস। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাক এবং প্রতক্ষ কর যে তুমি আবার তোমার আকারে ফিরে আসছ। যখন তুমি তোমার শরীরের ভিতরে আরাম বোধ কর, স্বস্তিতে চোখ খোল।

প্রক্রিয়া: জীবনের সাথে সংযুক্ত হওয়া

জীবনের সাথে সংযুক্তি অনুভব করার জন্য এখানে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল: এই প্রক্রিয়াটি সম্পকে একটি অনির্বচনীয় সুন্দর ধ্যান; এটা ধ্যানের চেয়ে বরং এক প্রার্থনা! সমগ্র অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংযুক্ত অনুভব করার জন্য এই ধ্যানটি এক সরাসরি পদ্ধতি। এটি আপনাকে তুরীয় অবস্থার সীমাতে নিয়ে যায় যেখানে তুমি সম্পূর্ণ সজাগতার অবস্থায় কোন চিন্তা ছাড়া থাক। এই ধ্যানটি অভ্যাস করার সবচেয়ে ভাল সময় হল রাত্রে ঘুমাতে যাবার আগে। যদি দিনের বেলায় কর, নিশ্চিত কর যে ধ্যানটির পরে পনের মিনিট বিশ্রাম করবে যাতে শক্তিকে অঙ্গীভূত করা যায়, নতুবা কয়েক ঘন্টা ধরে তুমি নেশাগ্রস্তের মত অবস্থায় থাকবে!

Page 63

[ERROR page 63 - NVIDIA client error]

Page 64

এই ধ্যান শরীরের মধ্যে শক্তির সঞ্চালনের অসাধারণ উন্নতিসাধন করে।

এই ধ্যান করলে মেরুদণ্ড সম্পর্কিত সমস্ত সমস্যা সহজেই মিলিয়ে যাবে, যেহেতু মেরুদণ্ডের মূলে মূলাধার চক্রে এতে সর্বাধিক শক্তি যায়।

এটা সাতবার পুনরাবৃত্তি কর।

পতিবার সাতটি প্রধান চক্রতে শক্তির সঞ্চার হয়।

যদি এটা সাতবারের বেশী কর, তুমি হয়ত অতিরিক্ত শক্তি অনুভব করবে এবং অস্থির হবে।

তোমার প্রার্থনা শেষ করলে সেই প্রার্থনাময় অবস্থায় ঘুমাতে যাও। সেই শক্তির মধ্যে থেকে ঘুমাতে যাও। যখন জেগে উঠবে নিজেকে ঝরঝরে ও নবতেজোদ্দীপ্ত লাগবে।

এই প্রক্রিয়া অভ্যাস করার সময় অস্তিত্ব এবং তোমার মধ্যে এক সুন্দর ও জীবন্ত সংযুক্তির সৃষ্টি হয়। তুমি কারণহীন আনন্দ অনুভব কর এবং প্রতিটি দিন হয়ে যায় উৎসব উদযাপন!

প্রক্রিয়া : অস্তিত্বের সাথে সংযুক্ত হওয়া

অস্তিত্বের সবকিছুর সাথে সংযুক্তি অভিজ্ঞতা করার জন্য এখানে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল।

এই প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে

তোমার সমস্ত দুঃখকষ্টের মূল হল তোমার চারপাশে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেকে এক কঠিন শক্ত সত্তা অনুভব করা।

সেজন্য বিশ্বে তোমার চারপাশে সবকিছুর সাথে অনুভূতি সহকারে তোমার সাড়া দেবার সংবাবনা বন্ধ থাকে।

প্রকৃত সংবেদনশীলতা হল তোমার মধ্যে মহাজগতের সার্বক্ষ; সদা-পরিবর্তনশীল কাজগুলিকে অনুভব করার সামর্থ; মহাজগতের সঙ্গে ঐকতানে চলার সামর্থ। যখন তুমি সমগ্র মহাজগতকে চৈতন্যের একটি বিরাট প্রকাশ বলে অভিজ্ঞতা কর, যখন তুমি তোমার চারপাশের সবকিছুতেই জীবনের স্পন্দন অনুভব করতে পার, তুমি প্রকৃত সংবেদনশীলতা লাভ করেছ।

এটা যখন ঘটে, তুমি তোমার ব্যক্তিত্বের ভার ফেলে দেবে এবং এক হালকা ও পরমানন্দময় সত্তা হয়ে জীবনযাপন করবে।

সময় : ২১ মিনিট

নির্দেশাবলী

তোমার চোখ বন্ধ করে আরাম করে বসো।

স্বস্তিতে থাক, কিন্তু সতর্ক ও সজাগ থাক। তুমি সচেতনভাবে সজাগতা অভ্যাস করতে চলেছ!

Page 65

[ERROR page 65 - NVIDIA client error]

Page 67

TAKING Vedic Hindu Tradition INTO HOMES ACROSS THE WORLD Protecting, preserving and promoting Vedic Hindu tradition through Vedic Temples in India, USA, Canada, Malaysia and other countries Inspiring families to live the Vedic tradition through over 400 Paduka Mandirs housing 3720 energized deities where daily worship is performed in the authentic Vedic tradition Thousands of people worldwide simultaneously perform Vedic rituals during the daily morning satsang, creating powerful positive vibrations Reviving India's pilgrimage culture by regularly leading yatras to spiritual energy fields like Kailash-Manasarovar, Char-Dhaam, Varanasi, Bodh Gaya, Angkor Wat, Kumbh Mela, etc. Nithyananda Sacred Arts to promote, support and preserve ancient temple arts and sculpture as the largest producer of metal, wood and stone deities in India www.nithyananda.org www.nithyananda.tv

INSPIRING A GLOBAL Vedic Renaissance Daily morning live satsang by Paramahamsa Nithyananda viewed online in over 40 countries through two-way video conferencing and Nithyananda TV. Daily spiritual talks by Paramahamsa Nithyananda viewed on various TV channels Over 20 different types of meditation programs at various levels offered in corporates, schools, prisons, etc. Nithya Yoga & Nithya Kriya – authentic yogic solutions for 108 physical & mental disorders Scientific & safe initiation into mystical yogic sciences like kundalini awakening, levitation, hunger-free Samyama etc. The Nithyananda Sannyas Order for spreading and continuing the sannyas parampara (tradition) Nithyananda Gurukuls and eN-Vidyalayas offering holistic traditional and modern education in a healthy environment Inspiring the youth to be the ambassadors of Vedic tradition by enriching them through scripture study, rituals and kriyas www.nithyananda.org www.nithyananda.tv

Page 68

অনুভূতি-সংযুক্তির গ্রন্থ

Scientific Research on Mystical Yogic Sciences

PARAMAHAMSA NITHYANANDA WORKS WITH DOCTORS & RESEARCHERS to understand and revive yogic sciences like kundalini awakening, levitation, teleportation, materialization, living on prana, etc.

KUNDALINI AWAKENING & LEVITATION

Awakening and activating the highest potential energy hidden in the body

Safe and natural kundalini awakening for more than 100,000 people through personal initiation

Leads to recovery from chronic illnesses and improves health

Boosts memory, intelligence, decision-making, creativity

Rapid dissolving of karmas and intense spiritual growth

TELEPORTATION & MATERIALIZATION

Yogic science of inter-converting energy and matter—impossible to duplicate in modern science

Vibhooti, kumkum, honey etc. materializing on sacred objects and deities worldwide by a blessing from Paramahamsa Nithyananda

People worldwide are experiencing these miracles from thousands of miles away

Materialized objects have strong positive vibrations and healing properties

LIVING WITHOUT EATING — NIRAAHAARA SAMMYAMA

Hundreds worldwide are successfully living without food since August 2012!!!

Personal initiation by Paramahamsa Nithyananda into hunger-free samyama

Awakens the body's ability to live on prana like trees and plants

Breaks deep-rooted food patterns without the need for fasting

An effortless weight loss technique & powerful spiritual practice

www.nithyananda.org www.nithyananda.tv

132

অনুভূতি-সংযুক্তির গ্রন্থ

Scientific Research on Mystical Yogic Sciences

PARAMAHAMSA NITHYANANDA WORKS WITH DOCTORS & RESEARCHERS to understand and revive yogic sciences like kundalini awakening, levitation, teleportation, materialization, living on prana, etc.

KUNDALINI AWAKENING & LEVITATION

Awakening and activating the highest potential energy hidden in the body

Safe and natural kundalini awakening for more than 100,000 people through personal initiation

Leads to recovery from chronic illnesses and improves health

Boosts memory, intelligence, decision-making, creativity

Rapid dissolving of karmas and intense spiritual growth

TELEPORTATION & MATERIALIZATION

Yogic science of inter-converting energy and matter—impossible to duplicate in modern science

Vibhooti, kumkum, honey etc. materializing on sacred objects and deities worldwide by a blessing from Paramahamsa Nithyananda

People worldwide are experiencing these miracles from thousands of miles away

Materialized objects have strong positive vibrations and healing properties

LIVING WITHOUT EATING — NIRAAHAARA SAMMYAMA

Hundreds worldwide are successfully living without food since August 2012!!!

Personal initiation by Paramahamsa Nithyananda into hunger-free samyama

Awakens the body's ability to live on prana like trees and plants

Breaks deep-rooted food patterns without the need for fasting

An effortless weight loss technique & powerful spiritual practice

www.nithyananda.org www.nithyananda.tv

133

Page 69

অনুভূতি-সংযুক্তির গ্রন্থ

134

Kalpataru Kshetra - Bidadi

INTERNATIONAL HEADQUARTERS OF NITHYANANDA DHYANAPEETAM

located near Bangalore, Asia's fastest growing city

ANCIENT BANYAN TREE

A kalpe vriksha (boon giving tree) that has manifested millions of sincere prayers till date

Body and mind are calmed and refreshed by the powerful positive vibrations here

Thousands experience miraculous healing of diseases by meditating under this tree

Lord Dakshinamurti graces the space and radiates blessings to all

NITHYANANDESHWARA-NITHYANANDESHWARI TEMPLE

Deities of Shiva & Devi measuring 7 ½ feet in height and weighing 2 ½ tons

Deities are made out of panchaloha (combination of five metals)

A rare ancient swayambhu lingam found under the banyan tree is consecrated here

Thousands gather for worship here on special occasions

NITHYANANDA LINGAM & VAIDYA SAROVAR

Majestic 21-foot shivalingam which has been made using Nava Pashana (a strong natural medicine made of healing herbs) and 1008 sacred herbs.

Water from six fountains bathes the lingam and falls into Vaidya Sarovar, the healing pool below

Even a single dip in this medicinal water can heal many diseases

www.nithyananda.org

www.nithyananda.tv

Page 70

[ERROR page 70 - NVIDIA client error]